বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, “বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া দেশের জন্য রাজনীতি করে না, সে পাকিস্তানের কথা বলে। পাকিস্তানের হয়ে কাজ করছে। বিএনপি দেশটাকে ধ্বংস করে দিতে চেয়েছিল। তারা গত বছর ৯২ দিন হরতাল ডেকে মানুষ পুড়িয়ে মেড়েছে। অনেক মায়ের কোল খালি করেছে। যারা মানুষ হত্যা করে, যারা পুলিশকে গুলি করে মারে তাদের বিচার এ দেশের মাটিতেই হবে।”
শুক্রবার সকালে ভোলার দৌলতখান ও বোরহানউদ্দিন উপজেলার পৌর শহরের দুটি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
তোফায়েল বলেন, “বিএনপি সরকারের আমলে হাফিজ ইব্রাহিমের নির্দেশে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছিল। আমার ওপর আক্রমণ করেছিল। আমার গাড়িতে গুলি করেছিল। এ এলাকার বর্তমান এমপি আলী আজম মুকুল ভারতে পালিয়ে ছিল। অনেক দলীয় নেতাকর্মী এলাকা ছাড়া হয়েছিল। কিন্তু আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরও দলীয় নেতাকর্মীরা বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর কোনো নির্যাতন চালায়নি। আওয়ামী লীগ বিএনপির নির্যাতনের কোনো জবাব দেয়নি। কারণ আওয়ামী লীগ প্রতিহিংসার রাজনীতি করে না। তাই বিএনপিকে প্রত্যাখ্যান করুন, আওয়ামী লীগকে বুকে ধারণ করুন। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সন্ত্রাসী হাফিজ ইব্রাহিম আবারও ভোট চাইতে পারে। সন্ত্রাসীকে ভুলে যান, সৎ লোককে ভোট দেন।”
তিনি আরো বলেন, “প্র্রধানমন্ত্রী গ্রামকে শহরে রূপান্তরিত করেছেন। বাংলাদেশের গ্রামীণ অর্থনীতি পৃথিবীর অন্য দেশের জন্য অনুকরণীয়। এ সরকারের আমলে দেশ এখন এগিয়ে চলছে। আন্তর্জাতিক বিশ্বে বাংলাদেশ মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে। সামনে আরো এগিয়ে যাবে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেশ এগিয়ে চলছে।”
নদীভাঙন ভোলার একটি প্রধান সমস্যা উল্লেখ করে তোফায়েল আহমেদ বলেন, “নদীভাঙন রোধে ৫৫১ কোটি টাকার একটি প্রকল্প গত মঙ্গলবার একনেকের সভায় অনুমোদন দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তাই ভোলাবাসীর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানচ্ছি। ভোলার নদী ভাঙন রোধে সহস্রাধিক প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ভোলা-বরিশাল সড়ক পথের ব্রিজ নির্মাণ প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। খুব শিগগিরই এর কাজ শুরু হবে। এটা হলে ভোলা আর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ থাকবে না।”
তিনি বলেন, “ভোলায় পর্যাপ্ত গ্যাসের মজুদ রয়েছে। এ জেলায় ব্যাপক গ্যাসভিত্তিক শিল্প কলকারখানা গড়ে উঠবে। বিদেশিরা এখানে বিনিয়োগ করবে। দৌলতখানে পোর্ট হওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে। ভোলা হবে বাংলাদেশের মধ্যে সবচেয়ে উন্নত ও সমৃদ্ধশালী জেলা।”
আওয়ামী লীগ আয়োজিত ওই দুই জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তৃতা দেন ভোলা-২ (বোরহানউদ্দিন-দৌলতখান) আসনের এমপি আলী আজম মুকুল। অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা দেন দৌলতখান আওয়ামী লীগ নেতা আনোয়ার হোসেন জাহাঙ্গীর, বোরহানউদ্দিন উপজেলা চেয়ারম্যান মহব্বত জান চৌধুরী, পৌর মেয়র রফিকুল ইসলাম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জসিমউদ্দিন হায়দার প্রমুখ।
এআই





