বিএনপি’র যুগ্ম মহাসচিব সালাহ উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বন্দুকের নল ও দলকানা কতিপয় প্রচার মাধ্যম নির্ভর সরকার এখন পতনের শেষ সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে আছে। জনগণ এখন সরকার পতনের ক্ষণ গণনা শুরু করেছে।
বৃহস্পতিবার বিকাল সোয়া ৪টায় গণমাধ্যমে প্রেরিত ২০ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, পুলিশ বাহিনীকে দৈত্যে পরিণত করে সরকার নিজেকে আপাত নিরাপদ মনে করলেও যেকোনো মূহুর্তে বন্দুকের নল ঘুরে যেতে পারে। রাষ্ট্রশক্তির চূড়ান্ত নৈরাজ্যের বিপরীতে জাগ্রত গণশক্তির বিজয় আসন্ন।
বিএনপির এই নেতা বলেন, প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতার জন্য রাজনীতি করেন না বলে প্রায়শই ঘোষণা দিয়ে থাকেন। তা’হলে এত গণহত্যা চালিয়ে লুণ্ঠনকৃত মসনদ রক্ষা করতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন কেন? জনগণের ওপর আস্থা হারিয়ে, দেশের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ ও নাগরিক সমাজকে অবজ্ঞা করে এবং সারা বিশ্বকে অস্বীকার করে ফ্যাসিবাদী একদলীয় রাষ্ট্রব্যবস্থা কায়েমের স্বপ্ন কখনোই পূরণ হবে না; এদেশের জনগণ তা কখনোই হতে দেবে না।
অবশেষে অনেক বিলম্বে হলেও গণমাধ্যমে সরকারি নগ্ন হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে সম্পাদক পরিষদের উদ্বেগ প্রকাশকে স্বাগত জানিয়ে সংবাদপত্রসহ সকল গণমাধ্যমকে সরকারি অবৈধ হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে জাতীয় জীবনের এই ক্রান্তিলগ্নে গণতন্ত্র মুক্তির লড়াইয়ে শরীক হওয়ার উদাত্ত আহবান জানান সালাহ উদ্দীন।
তিনি বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া নিজে এবং তাঁর নেতৃত্বে গণতন্ত্র মুক্তির আন্দোলনে ঐক্যবদ্ধ জনতা যেকোনো ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত রয়েছেন। অতএব গ্রেফতার-নির্যাতন, মামলা-হামলার ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে চলমান গণআন্দোলনকে স্তব্ধ করা যাবে না বরং আন্দোলনের গতি তীব্র থেকে তীব্রতর হবে।
চলমান অবরোধ-হরতাল কর্মসূচি অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে পালন করায় আমি বিএনপি চেয়ারপার্সন ও ২০ দলীয় জোট নেতা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষে বিএনপি এবং ২০ দলীয় জোটের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীসহ দেশবাসীকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানাচ্ছি।
গণতন্ত্র মুক্তি আন্দোলনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের উদ্যোগে চলমান অবরোধ-হরতালে যেসমস্ত নেতাকর্মী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সরকারদলীয় সন্ত্রাসীদের হাতে নির্মমভাবে নিহত হয়েছেন আমি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে তাদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত এবং আহতদের সুস্থতা কামনা করছি। নিহতদের পরিবার-পরিজনদের প্রতি জানাচ্ছি গভীর সমবেদনা ও সহানুভুতি। এছাড়া, বিএনপি ও ২০ দলীয় জোটের সিনিয়র নেতৃবৃন্দসহ সারাদেশে গ্রেফতারকৃত নেতা-কর্মীদের নামে মিথ্যা ও বানোয়াট মামলা প্রত্যাহার করে তাদের নিশর্ত মুক্তি দাবী করছি।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, অবিলম্বে নির্দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু, অবাধ, অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবীতে এবং অন্যায়ভাবে মিথ্যা মামলায় গ্রেফতারকৃত বিএনপি ও ২০ দলীয় জোটের সিনিয়র নেতৃবৃন্দসহ সকল রাজবন্দীর মুক্তির দাবিতে ২০ দলীয় জোটের উদ্যোগে চলমান শান্তিপূর্ণ অবরোধ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
তবে দেশবাসীর আশা-সরকারের শুভবুদ্ধির উদয় হবে এবং গণদাবী মেনে নিয়ে দ্রুত পদত্যাগ করে দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে এনে সরকারসৃষ্ট ভয়াবহ সংকট থেকে জাতিকে রক্ষা করবে। আর ইতোমধ্যে সরকার তা করতে অস্বীকৃতি জানালে অর্থাৎ গণদাবী মেনে না নিতে অনড় অবস্থানে থাকলে আমরা আবারও আগামী ১লা মার্চ ২০১৫ রোজ রোববার থেকে দেশব্যাপী হরতালসহ কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবো।
এমএইচ/কেএইচ





