প্রধান২০ দলীয় জোট নেতা জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধান বলেছেন, ১/১১ যাদুর বাক্স যখন খোলা হয়েছেই, তখন জনগণ এর শেষ দেখেই ছাড়বে ইনশাআল্লাহ। আল্লাহর মাইর দুনিয়ার বাইর। বাংলাদেশকে নিয়ে অনেক চক্রান্ত ষড়যন্ত্র হয়েছে। ১/১১’ও সেই গভীর চক্রান্তের অংশ।

এখন শুধু মাহফুজ আনামকে টার্গেট করে শেষ রক্ষা হবে না। শেখ হাসিনা নিজেই দাবি করেছেন ১/১১ সরকার তাদেরই আন্দোলনের ফসল এবং ১/১১ সরকারের সকল অপকর্মকেই তিনি দায়মুক্তি করেছেন। ১/১১ যেমন শেখ হাসিনার আন্দোলনের ফসল তেমনি ১/১১ এর চক্রান্তের সুরঙ্গ পথেই শেখ হাসিনা গদিতে বসেছিলেন।

সুতরাং মাহফুজ আনামকে অভিযুক্ত করার কোন যুক্তি অন্তত শেখ হাসিনার নাই। হাসিনা সরকারের ডানে-বামে যারা আছে সেই ভাই-ব্রাদাররাই আযান দিয়ে ডিএসআই’র হাতে হাসিনার দূর্ণীতির তালিকা ধরিয়ে দিয়েছিল। তাদের বিচার হবে না। তারা মন্ত্রীর আসন আলোকিত করবেন-এর মজেজা কি? আমজনতা তা বুুঝে।

প্রধান বলেন, মাহফুজ আনাম/মতিউর রহমান, ডেইলি স্টার ও প্রথম আলোর অনেক কিছুর সাথেই আমরা একমত নই। তারপরেও সংবাদপত্রের স্বাধীনতার প্রশ্নে জাগপা আপোষ করে না আপোষ মানে না। আমরা বাকশালি জামানার মত অশনীসংকেত দেখতে পাচ্ছি।

তিনি আরোও বলেন, আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান ১/১১’র বিরোধীতা করেও সরকারের প্রতিহিংসা থেকে রক্ষা পায় নাই। আমার দেশ, দিগন্ত টিভি, ইসলামিক টিভি, চ্যানেল ওয়ান বন্ধ করার পরে প্রতিবাদে সোচ্চার না হবার কারণে আজ মাহফুজ আনামের উপর আঘাত এসেছে। সরকারি আওয়াজ শুনে মনে হয় আওয়ামী ও ভারতীয় স্বার্থের দালালি না করলে কোন গণমাধ্যমই শেখ হাসিনা রাখবেন না এবং পরিস্থিতি হবে বাকশালের চেয়েও ভয়াবহ। দেশবাসি ভুলে নাই ১/১১ পরবর্তী স্তরই ছিল ৫ই জানুয়ারির ভোটার বিহীন নির্বাচন। ১/১১ মত এই সরকারও অবৈধ।

তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, তৃতীয় ধাপে বাংলাদেশকে সিকিমের মত করদ রাজ্য হিসেবে দেখতে না চাইলে গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধের চক্রান্ত রুখতেই হবে। তিনি বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে সকল স্তরের দেশপ্রেমিক জনগণকে ঐক্যবদ্ধ সংগ্রাম গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

তিনি ইউপি নির্বাচনের রং তামাশার কঠোর নিন্দা করে বলেন, এভাবে জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নেবার পরিণাম হবে ভয়াবহ। পল্লীতে পল্লীতে জনগণের অসন্তোষ দাবানলের মত ছড়িয়ে পড়ছে। সরকার নিজেকে সংযত না করলে এ বছরই মজলুম জনগণ পরিবর্তনের উৎসব পালন করবে ইনশাআল্লাহ।

তিনি আজ বিকাল ৩ টায় কুমিল্লার বাঘরাবাদ চেয়ারম্যান মার্কেট চত্বরে কুমিল্লা জেলা জাগপা সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। কুমিল্লা জেলা জাগপার সমন্বয়ক ও কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে ও জেলা জাগপা নেতা মফজলুর মুন্সির পরিচালনায় প্রধান বক্তা ছিলেন জাগপা সাধারণ সম্পাদক খোন্দকার লুৎফর রহমান।

বক্তব্য রাখেন জাগপার সমাজসেবা সম্পাদক দেওয়ান মোঃ রোকনউদ্দিন হাজারী, সহ দপ্তর সম্পাদক মোস্তফা কামাল, যুব জাগপার কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শেখ ফরিদউদ্দিন, সহ সভাপতি মাহিদুর রহমান বাবলা, ঢাকা মহানগর যুব জাগপার সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম বাবলু, জাগপা ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক আবু নাঈম, জেলা জাগপা নেতা ফেরদৌস মোঃ লিটন শিকদার, জাগপা ছাত্রলীগ নেতা সাইফুল ইসলাম সানি, বাবু শ্রীধাম দাস, ফেনী জেলা জাগপা নেতা শহীদুল ইসলাম, লক্ষ্মীপুর জেলা যুব জাগপার সভাপতি আওলাদ হোসেন জিকু প্রমুখ।

সম্মেলন শেষে মোঃ মফজলুর রহমানকে সভাপতি ও ফেরদৌস মোঃ লিটন শিকদারকে সাধারণ সম্পাদক এবং সানি মোঃ সাইফুল ইসলামকে আহ্বায়ক ও বাবু শ্রীধাম দাসকে সদস্য সচিব করে জেলা জাগপা ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা করা হয়।

 

জেএইচ