দেশ স্বাধীন হলেও জনগণ স্বাধীন হয়নি। ব্যাংকে টাকা নেই, মশা মারার ওষুধ নেই। নিজেদের ক্ষুদ্র স্বার্থ বাদ দিয়ে জনগণকে বাঁচানোর জন্য সবাইকে কাজ করতে হবে। এজন্য হয় দেশের মানুষের মুক্তি হবে নয়তো মৃত্যু হবে বলে মন্তব্য করেছেন ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শীর্ষ নেতা ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি অলি আহমদ

মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে জাতীয় মুক্তি মঞ্চের উদ্যোগে দেশের সার্বিক বিরাজমান পরিস্থিতি-উত্তরণের উপায় শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় অলি আহমদ এসব কথা বলেন।

জাতীয় মুক্তিমঞ্চের আহ্বায়ক অলি বলেন, ‘নিজেদের ক্ষুদ্র স্বার্থ ভুলে জনগণকে বাঁচানোর জন্য মুক্তিযুদ্ধে সময় যেভাবে এগিয়ে এসেছিলেন, এ মঞ্চে আমি বলছি হয় মুক্তি হবে নয়তো মৃত্যু হবে। এ প্রতিজ্ঞা করে যেতে হবে। দেশকে বাঁচান, দেশের জনগণকে বাঁচান।’

দোষারোপের রাজনীতি বন্ধের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আইনের শাসন, ন্যায়বিচার, মানবাধিকার, দুর্নীতি মাদকমুক্ত, দলীয়করণমুক্ত বাংলাদেশ গঠন করতে হবে। একে ওপরকে দোষারোপ শেষ করে কখনো দেশকে তার অভিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছানো যাবে না।

আলোচনায় অংশ নিয়ে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম শীর্ষ নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘ডেঙ্গু এখন মহামারি রূপ নিয়েছে, তা সবার স্বীকার করে নেয়া উচিত। সরকার স্বীকার করতে চাইবে না। ’

সরকার মশা মারার নাটক করছে অভিযোগ করে মান্না বলেন, সরকার এখন পর্যন্ত মশা মারার কার্যকর ওষুধ আমদানি করতে পারেনি। কিন্তু মশা মারার নাটক করে বেড়াচ্ছে। সিনেমার শিল্পীদের নামিয়ে দিয়েছে। মাটিতে ঝাড়ু দিচ্ছে। ছবি তোলার একটা পাঁয়তারা চলছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহেদ মালিকের সমালোচনা করে মান্না বলেন, ‘এই রকমের বিস্ময়কর মন্ত্রী আমরা আগে কখনো দেখেনি। কাজ করতে পারে না শুধু কথা বলে। এদের হাতে দেশ নিরাপদ নয়, সরকার শুধু বাচালতা করছে। ওষুধ কেনার জন্যও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ লাগে। তাহলে শুধু প্রধানমন্ত্রীই থাকুন, বাকিদের দরকার নেই।’

ডেঙ্গু সামনের সময়গুলোতে আরও ভয়াবহ রূপ নেবে জানিয়ে তিনি বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সরকার ব্যর্থ। স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও দুই মেয়রের পদত্যাগ করা উচিত।

কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ ইব্রাহিমের সঞ্চালনায় গোলটেবিল বৈঠকে ডেঙ্গু, নাজুক অর্থনীতি, বন্যা, রাজনৈতিক সংকট এবং গজব ও গুজব নিয়ে আলোচনা হয়। নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, এলডিপির মহাসচিব রেদোয়ান আহমেদ, জাতীয় দলের চেয়ারম্যান এহসানুল হুদা, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মুনির হোসাইন, সাবেক সচিব মোফাজ্জল করিম প্রমুখ বক্তৃতা করেন।

এমআর