ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীদের সমর্থনকারী সংগঠন ‘আদর্শ ঢাকা আন্দোলন’ তাদের ইশতেহার প্রকাশ করেছে। ইশতেহার রয়েছে অর্ধশতাধিক দাবি।
আজ বুধবার সন্ধ্যায় জাতীয় প্রেসক্লাবে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচন উপলক্ষে নিজেদের ‘ইশতেহার’ তুলে ধরে আদর্শ ঢাকা আন্দোলন। এই সংগঠনের প্রার্থী হিসেবে ঢাকায় নির্বাচন করছেন বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থীরা। ‘ইশতেহার’ ঘোষণার সময় ঢাকা দক্ষিণে মির্জা আব্বাস এবং উত্তরে তাবিথ আউয়ালকে জয়যুক্ত করার আহ্বান জানানো হয়। তবে এ সময় এই দুই প্রার্থীর কেউই সেখানে ছিলেন না।
ইশতেহার বলা হলেও মূলত ‘বাসযোগ্য ঢাকা গড়ে তোলার লক্ষে’ মহানগর ব্যবস্থাপনা, সড়ক-পরিবহন ব্যবস্থা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আইনশৃঙ্খলাসহ ১৭টি বিষয়ে মোট ৫৭টি দাবি তুলে ধরে আদর্শ ঢাকা আন্দোলন। সংগঠনের সদস্যসচিব শওকত মাহমুদ এটি পড়ে শোনান। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটি তাঁদের সংগঠনের ‘ইশতেহার’। তাঁদের প্রার্থীরা আলাদা করে ইশতেহার ঘোষণা করবেন।
ইশতেহারে বলা হয়, সিটি করপোরেশনের সব উন্নয়ন, সংস্কার ও মেরামত কাজ নাগরিকদের চাহিদার ভিত্তিতে করতে হবে; এ জন্য প্রত্যেক পাড়া-মহল্লায় ‘নাগরিক কমিটি’ গঠন করতে হবে; নাগরিকদের অভিযোগ জানানোর জন্য কেন্দ্রীয় ও ওয়ার্ডভিত্তিক অভিযোগ কেন্দ্র স্থাপন করতে হবে; টেলিফোন, মোবাইল, এসএমএস বা ইমেইলের মাধ্যমে অভিযোগ গ্রহণ করতে হবে;
অভিযোগের বিষয়ে গৃহীত ব্যবস্থা সংশ্লিষ্টদের জানাতে হবে; ঢাকা মহানগরের জনসেবা প্রদানকারী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সব সংস্থাকে সিটি করপোরেশন ব্যবস্থাপনার অধীনে ন্যস্ত করতে হবে; নগর-পরিকল্পনার দায়িত্ব সিটি করপোরেশনের হাতে ন্যস্ত করতে হবে; ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে রাস্তায় সিসিটিভি স্থাপন করতে হবে; প্রতি মহল্লায় প্রশিক্ষিত নিরাপত্তা প্রহরী নিশ্চিত করতে হবে; কর্মজীবী নারীদের জন্য স্বল্পব্যয়ে আবাসন সুবিধা দিতে হবে; কর্মজীবী নারীদের সন্তানদের জন্য প্রত্যেক ওয়ার্ডে ডে-কেয়ার সেন্টার নির্মাণ ও পরিচালনা করতে হবে-ইত্যাদি।
ঢাকা আন্দোলনের প্রার্থীরা জয়ী হলে দাবিগুলো পূরণ হবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে সংগঠনের আহ্বায়ক এমাজউদ্দীন আহমদ বলেন, তাঁদের মনোনীত প্রার্থীরা জয়ী হলে আদর্শ ঢাকা আন্দোলনের দাবিগুলো কীভাবে সহজ ও স্বল্পভাবে সমাধান করা যায় তা নিয়ে আরও আলাপ-আলোচনা করা হবে।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে এমাজউদ্দীন বলেন, সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের কাজ এখনো সন্তোষজনক নয়। নির্বাচনের তিন থেকে সাত দিন আগে সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি জানান তিনি।
লিখিত ইশতেহারে বলা হয়, ঢাকাকে সবার জন্য বাসযোগ্য, নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন মহানগর হিসেবে গড়ে তোলাই ঢাকা আন্দোলনের লক্ষ। এ লক্ষ্যে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। নির্বাচিত মেয়র ও কাউন্সিলররা যাতে ঢাকাবাসীর প্রত্যাশা পূরণে তৎপর থাকেন, সে বিষয়ে ঢাকা আন্দোলনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
অন্যদের মধ্যে আদর্শ ঢাকা আন্দোলনের স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য মাহফুজ উল্লাহ, আ ন হ আকতার হোসেন, আবদুল হাই শিকদার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এএইচ





