আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ বলেছেন, সোমবার খালেদা জিয়া গণসংযোগে গিয়ে কারওয়ানবাজারে উস্কানিমূলক বক্তব্য দিচ্ছিলেন। এ সময় মানুষ ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। তখন খালেদা জিয়া নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মীরা জনতার উপর গুলি ছুড়েছে। এতে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগ আয়োজিত এক মানববন্ধনে হাছান মাহমুদ এ অভিযোগ করেন। এসময় তিনি সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে নৈরাজ্যমুক্ত রাখতে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সরকার ও নির্বাচন কমিশনের কাছে দাবি জানান।

হাছান মাহমুদ দাবি করেন, হরতাল-অবরোধে খালেদা জিয়ার নেতাকর্মীদের ছোড়া পেট্রোল বোমায় দগ্ধ ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের স্বজনেরা তাকে নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা দিচ্ছে, কালো পতাকা দেখাচ্ছে, প্রতিবাদ-হামলা করছে।

তিনি বলেন, মানুষ হত্যার আন্দোলন করে সরকারের পতন ঘটাতে ব্যর্থ হয়ে বিএনপি নেত্রী এখন নতুন কৌশল নিয়েছেন। তাই নির্বাচনী প্রচারণার নামে উস্কানি দিয়ে মানুষকে প্রলুব্ধ করার চেষ্টা করছেন। এর মাধ্যমে বিশেষ পরিস্থিতি সৃষ্টি করে নির্বাচন বানচাল করতে চান তিনি।

আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, নিজেরা নৈরাজ্য করে তার দায় সরকারের ঘাড়ে দিয়ে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চাইছে বিএনপি। কারণ বিএনপি নেত্রী জানেন, নির্বাচনে তার প্রার্থীকে মানুষ লাল কার্ড দেখাবে।

সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, কারওয়ানবাজারের ঘটনার তদন্ত করুন। তারপর গুলিবর্ষণকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন। খালেদা জিয়া কিভাবে উস্কানি দিচ্ছে, সেটিও তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিন। তাকে নিবৃত্ত করুন। অন্যথায় খালেদার মতো নির্বাচন কমিশনও প্রশ্নবিদ্ধ হবে।

বিএনপির বুধবারের হরতালের সমালোচনা করে ড. হাছান বলেন, খালেদার লজ্জা থাকা উচিত। কারণ তিনি তিন মাস হরতাল ডেকে ব্যর্থ হয়েছেন। লজ্জা থাকলে তিনি আর হরতাল ডাকতেন না।

সংগঠনের সভাপতি আসাদুজ্জামান দুর্জয়ের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে আরো বক্তব্য রাখেন- সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, আওয়ামী লীগের উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক বলরাম পোদ্দার প্রমুখ।

এআর