বিএনপি এখন রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া হয়ে লাশ ও ধর্ম নিয়ে রাজনীতি শুরু করেছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ।
শনিবার দুপুরে ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু ভবণের সামনে ‘আওয়ামী সেচ্ছাসেবক লীগ’আয়োজিত বঙ্গবন্ধু পুত্র শেখ রাসেলের জম্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচন সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
হানিফ বলেন, বিএনপি-জামায়াত বুঝতে পেরেছে। এদের পায়ের তলায় মাটি নেই। এখন তারা রাজনৈতিক ভাবে দেউলিয়া হয়ে গেছে। তাই লাশ নিয়ে টানাটানি করেছেন। মানুষের জন্ম হলে মৃত্যু একদিন হবেই। বিএনপি ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. পিয়াস করিমের লাশ নিয়ে রাজনীতি শুরু করেছিল।
বিএনপির প্রতি প্রশ্ন রেখে হানিফ বলেন, আপনারা (বিএনপি) কি কারণে পিয়াস করিমের লাশ শহীদ মিনারে নেয়ার দাবি জানালেন। শহীদ মিনার পরিস্কার জায়গা। সাধারণ মানুষকে নিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর জায়গা এটা নয়। এটা জাতীয় ঐক্যের প্রতীক, তাকে অপবিত্রতা করা কি দরকার? তাছাড়া তিনি এমন কি ব্যাক্তি যে তার লাশ শহীদ মিনারে নিতে হবে।
পিয়াস করিম ন্যায়ের কথা বলতেন- বিএনপি নেতাদের এমন দাবিকে নাকচ করে দিয়ে হানিফ বলেন, সরকারের বিপক্ষে কথা বলা মানেই ন্যায়ের কথা নয়। বিএনপি সরকারের সময় আওয়ামী লীগের হাজার হাজার নেতাকর্মীদের হত্যা করা হয়েছিল, তখন তারা কোথায় ছিলেন। তখন তো কোন অন্যায়ের প্রতিবাদকারী সুশীল সমাজ ছিল না।
হানিফ বলেন, অধ্যাপক পিয়াস করিম ছিলেন কুমিল্লা শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান কুখ্যাত রাজাকার অ্যাডভোকেট আব্দুল করিমের পুত্র। যিনি একজন ভাষা সৈনিককে হত্যার উদ্দেশ্যে পাকিস্তানি সেনাবাহীনির হাতে তুলে দিয়েছিলে। পিয়াস করিমের লাশ শহীদ মিনারে নিতে বাঁধা দেয়ায় তরুণ ছাত্র সমাজকে আমি ধন্যবাদ জানাই। তারা সঠিক কাজ করেছেন।
এ সময় তিনি ভবিষ্যতে রাজাকার ও যুদ্ধাপরাধীদের এভাবেই রুখে দেয়ার জন্য ছাত্র সমাজের প্রতি আহ্বান জনান।
সম্প্রতি এক বিএনপি নেতা দাবি জানিয়েছেন লতিফ সিদ্দিকীকে ইন্টারপোলের মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে- এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, যে দলের প্রধান এক ওয়াক্ত নামাজ পর্যন্ত পড়েন বলে তারা দাবি করতে পারেন না। এরা এখন ধর্মের রক্ষক হয়ে গেছেন। কোন অপরাধীকে যদি ইন্টারপোলের মাধ্যমে দেশে এনে বিচার করা হয়। তাহলে সর্ব প্রথম বিএনপি চেয়ারপার্সনের দূর্নীতিবাজ দুই পুত্র তারেক রহমান ও কোকোকে ফিরিয়ে আনার দাবি জানান আপনারা। যদি দাবি জানান তাহলে আসুন বিদেশে পালিয়ে থাকা সকল অপরাধীকে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করি।
ইসলামী দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ইসলামের সেবক সব সময়ই আওয়ামী লীগ ছিল। এখনও আছে। বর্তমান সরকারও ইসলামের উন্নয়ন করবেন। এ নিয়ে হরতাল দেয়ার কিছু নেই। তাই আপনারা স্বাধীনতা বিরোধীদের সঙ্গে মিলে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করবেন না।
তিনি বলেন, ১৫ আগস্টের হত্যাকান্ড ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক হত্যাকান্ড নয়। এ হত্যাকান্ড ছিল, একাত্তরের পরাজিত শক্তিদের হত্যাকান্ড। এই হত্যাকান্ডের মাধ্যমে তারা মুক্তিযুদ্ধে পরাজিত হওয়ার চরম প্রতিশোধ নিয়েছিল। সেই দিন ঘাতকরা ১০ বছরের ছোট ছেলে শেখ রাসেলকেও রক্ষা দেয়নি।
সংগঠনের সিনিয়র সহ-সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন সেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক পংকজ দেবনাথ এমপি, সহ-সভাপতি মতিউর রহমান মতি প্রমুখ।
এমআর/এসএইচ





