ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে ২৮ এপ্রিলের নির্বাচনে সরকারী দলের সমর্থিত প্রার্থীদের ব্যাপক কারচুপি ও ভোট ডাকাতির আশঙ্কায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারী জেনারেল ডাঃ শফিকুর রহমান।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এ উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
ডাঃ শফিকুর রহমান বলেন, "ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে ২৮ এপ্রিল অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের কোন পরিবেশ নেই। জনগণের মাঝে ব্যাপক উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা এবং শঙ্কা ও ভয়ভীতি বিরাজ করছে।"
তিনি বলেন, বিদ্যমান পরিবেশে স্পষ্ট প্রতীয়মান হচ্ছে নির্বাচন কোন অবস্থাতেই সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অবাধ হবে না। প্রশাসন ও আজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশনের সহযোগিতায় সরকারী দলের সমর্থিত প্রার্থীদের ব্যাপক কারচুপি এবং ভোট ডাকাতির আশঙ্কা রয়েছে।
সরকারী দলের সমর্থিত প্রার্থীদের কারচুপি ও ভোট ডাকাতির সুযোগ প্রদান করার হীন উদ্দেশ্যেই নির্বাচন কমিশন বিচারিক ক্ষমতা দিয়ে তিনটি সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে সেনা মোতায়েন করেননি বলে অভিযোগ করে তিনি বলেন, সরকারের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সরকারী দলের সমর্থিত প্রার্থীদের বিজয়ী হওয়ার সুযোগ দেয়ার জন্য।
তিনি বলেন, সরকার বিরোধী প্রার্থী এবং নেতা-কর্মীদের বাসা-বাড়িতে হানা দিয়ে তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা করে ভয়ভীতি সৃষ্টি করছে। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণে সরকার বিরোধী অন্তত ৮ জন কাউন্সিলর প্রার্থী ও তাদের আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতে পুলিশ হানা দিয়েছে, যাতে তারা গ্রেফতারের ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যেতে ও ভোট দিতে না পারে।
তিনি বলেন, ২৬ এপ্রিল রাতে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ এবং চট্টগ্রামে সরকারী দলের নেতা-কর্মীরা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতায় সরকার বিরোধী প্রার্থীদের সকল নির্বাচনী পোষ্টার ছিড়ে ফেলেছে। রাস্তা-ঘাটে শুধুমাত্র সরকারী দলের সমর্থিত প্রার্থীদের পোষ্টার দেখা যাচ্ছে। এ থেকেই স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে যে, সরকারের আজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতায় সরকারী দলের সমর্থিত প্রার্থীগণ নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি ও ভোট ডাকাতির ষড়যন্ত্র করছে।
তিনি বলেন, ভোটারগণের ধারণা সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারীর নির্বাচনের চাইতেও ভোট ডাকাতি ও ভয়াবহ কারচুপির ‘নিকৃষ্ট’ নির্বাচনে পরিণত হতে যাচ্ছে। সরকার বিরোধী প্রার্থীগণ যথাসময়ে সকল নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সত্ত্বেও নির্বাচনের সাথে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উপরের নির্দেশের দোহাই দিয়ে এজেণ্ট কার্ড দিতে গড়িমসি করছে।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন যে নিরপেক্ষ হবে না তা শতভাগ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। কারচুপি ও ভোট ডাকাতির নির্বাচন দেশের জনগণ কখনো মেনে নিবে না। ভোট ডাকাতির নির্বাচনের পরিণতি সরকারের জন্য কখনো শুভ হবে না। তাই তিনটি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি ও ভোট ডাকাতির ষড়যন্ত্র বন্ধ করার জন্য আমি সরকার ও নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।
এমকে





