বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ তাদের সাবেক অঙ্গসংগঠন ওলামা লীগকে অঙ্গসংগঠন হিসেবে অস্বীকৃতি দেয়ার পর থেকে অস্তিত্ব রক্ষা ও স্বীকৃতি আদায়ের জন্যে মরিয়া হয়ে ওঠেছে বাংলাদেশ আওয়ামী ওলামা লীগ।
ওলামা লীগকে অঙ্গসংগঠন হিসেবে অস্বীকৃতি দেয়ার পর থেকে ওলামা লীগের দুই অংশের মধ্যে ইলিয়াস হোসেন বিন হেলালির অংশ কোন ধরণের প্রতিক্রিয়া না জানালেও মাও. আখতার হোসাইন বুখারীর অংশ নিয়মিত প্রেস ব্রিফিং, মানববন্ধন করে যাচ্ছে।
সরকারের শরীক দল ও বিরোধী দলের তাছে ওলামা লীগ বিতর্র্কিত হবার কারণ হল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামের আগে শহীদ এবং নামের শেষে রহমতুল্লাহ আলাই বলার দাবি, পহেলা বৈশাখ নিয়ে বিতর্কিত প্রচারণা চালানো, প্রেসক্লাবের সামনে ওলামা লীগের দুই গ্রুপের চুল-টানাটানি, মারামারি। এছাড়া তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর পহেলা বৈশাখ পালন করলে মুসলমানিত্ব যায় না এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে তথ্যমন্ত্রীরও ব্যাপক সমালোচনা করে ওলামা লীগ।
বর্তমানে ওলামা লীগ আওয়ামী লীগের সাথে না থাকা সম্পর্কে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসান শেখ শরীয়তপুরি টাইমনিউজবিডিকে বলেন, আমরা কোন নেতা পায়ে ধরে রাজনীতি করি না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আলেমদের সম্মান করেন, আমরা তার নির্দেশে কাজ করি। প্রধানমন্ত্রীর সাথে আমরা কথা বলবো, তাকে আমরা বুঝাবো যে ইসলামিক অঙ্গসংসগঠন ছাড়া রাজনীতি করলে জনগণ আওয়ামী লীগের প্রতি নেতিবাচক ধারণা পোষণ করবে। ক্ষমতা দেয়ার মালিক আল্লাহ, এরপরও বলি আওয়ামী লীগে ইসলামিক সেল থাকলে আজিবন ক্ষমতায় থাকতে পারবে আওয়ামী লীগ।
ওলামা লীগের এই নেতা বলেন, আমরা আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক শেখ আব্দুল্লাহ’র সাথে কথা বলবো আওয়ামী লীগে ইসলামিক সেল করার বিষয়ে।
ওলামা লীগ সম্পর্কে প্রথম আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেছেন, ওলামা লীগ আমাদের কোন সংগঠন নয়, এদের বিরুদ্ধে প্রসাশনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এছাড়া দলের সাধারণ সম্পদক সৈয়দ আশরাফ বলেছিলেন, ওলামা লীগ আমাদের দলের অংশ নয় এবং গণমাধ্যমকে ওলামা লীগের কোন খবর না প্রচার করার অনুরোধ করেন আশরাফ।
হানিফের এমন বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে হানিফকে হাইব্রিড নেতা বলেও প্রচারণা চালিয়েছে ওলামা লীগ। এই বিষয়ে ওলামা লীগের সাধারণ সম্পাদক মাও. আবুল হাসান শেখ শরীয়তপুরী টাইমনিউজবিডিকে বলেন, কোন হাইব্রিড নেতা মুখের কথায় ওলামা লীগ বন্ধ হবে না। ২০০১ সাল থেকে ১/১১’র সময় পর্যন্ত আপনারা সবাই দেখেছেন আওয়ামী লীগের নেতাদের সাথে ওলামা লীগের নেতারা রাজপথে ছিলেন, জেল, জুলুম, নির্যাতন সহ্য করেছেন। তখন কোথায় ছিলেন হানিফ সাহেবরা।
আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেনকে উদ্দেশ্যে করে মাও. শরীয়তপুরী বলেন, যারা বলেন ওলঅমা লীগ খায় না মাথায় দেয় তারা আওয়ামী লীগের দূর্দিনে কোথায় ছিলেন জাতি তা জানে।
শরীয়তপুরি আরো বলেন, আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, ওলামা লীগ কোন ভূইফোর সংগঠন নয়। প্রধানমন্ত্রী আমাদের সম্মান করেন, প্রত্যেকটি কাজে ডাকেন, আমাদের মতামতের গুরুত্ব দেন। অতিতে ওলামা লীগের প্রত্যেকটি অনুষ্ঠানে প্রয়াত সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জলীল, প্রয়াত মেয়র হানিফ, মোফাজ্জল হোসেন মায়া, ওবায়দুল কাদের থাকতেন। এছাড়া অতিতে অনেক নেতা যারা আমাদের পিছনে থাকতেন ক্ষমতায় এসে তারা অনেক টাকার মালিক হয়েছেন অথচ ওলামা লীগের নেতা সৎ থেকে কষ্ট করে জীবন যাপন করছেন।
এদিকে বিএনপি-জামায়াতের আমলে এবং ১/১১‘র সময় সময় ওলামা লীগের ভূমিকা, তাদের কোন কোন অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের কোন কোন নেতা উপস্থিত ছিলেন তার ছবি এবং গণমাধ্যমে প্রচার হওয়া সংবাদ লিফলেট আকারে প্রচার কওে ওলামা লীগ প্রমাণ করতে চাইছে তারা কোন অস্থায়ী গণবিচ্ছিন্ন সংগঠন নয়, তাদেও ভিত্তি অনেক মজবুত।
এআই





