প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ৩ অক্টোবর গণভবনে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে যে বক্তব্য রেখেছেন তাতে জাতি দিক নির্দেশনা প্রত্যাশা করেছিল বলে জানিয়েছে জামায়াতে ইসলাম। তারা বলছেন, প্রধানমন্ত্রীর দিক-নির্দেশনাহীন বক্তব্য জাতিকে হতাশ করেছে।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় শনিবার এক বিবৃতিতে দলটির ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারী জেনারেল ডা: শফিকুর রহমান এ কথা জানান।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, জাতি আশা করেছিল নিউ ইয়র্ক সফর শেষে তিনি দেশে ফিরে দেশের বাস্তব অবস্থা উপলব্ধি করে দিক-নির্দেশনামূলক বক্তব্য দিবেন এবং জাতিকে আশার বাণী শুনাবেন। কিন্তু তিনি সাংবাদিক সম্মেলনে যে বক্তব্য দিয়েছেন তা অন্তঃসার শূন্য। তার এ বক্তব্য দেশবাসী প্রত্যাখ্যান করেছে।

তিনি বলেন, গত ৫ জানুয়ারীর নির্বাচন জাতি ঘৃণার সাথে প্রত্যাখ্যান করেছে। সমগ্র বিশ্ববাসীর কাছে স্পষ্ট যে, ৫ জানুয়ারী নির্বাচনের নামে একটি প্রহসনের আয়োজন করে সরকার ক্ষমতা দখল করেছ। বাংলাদেশের জনগণের কাছে ঐ নির্বাচনের কোন মূল্য নেই। ঐ নির্বাচনের ভিত্তিতে গঠিত সংসদ এবং মন্ত্রী পরিষদের কোন বৈধতা নেই। সেই নির্বাচনের ভিত্তিতে ক্ষমতায় আঁকড়ে থাকার চেষ্টা করা অন্যায়, অযৌক্তিক ও অনভিপ্রেত।

জাতি আশা করেছিল তিনি বাস্তব অবস্থার আলোকে ২০ দলীয় জোটের সাথে সংলাপের উদ্যোগ গ্রহণ করবেন এবং একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দিকে অগ্রসর হবেন। জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মহল সংলাপের মাধ্যমে সংকট নিরসনের জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানিয়েছে। কিন্তু সরকার তা বিবেচনায় না নিয়ে ক্ষমতায় থাকার জন্য যে দাম্ভিকতা দেখিয়েছে তা জাতির কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।

তিনি জাতীয় সমস্যা শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের পরিবর্তে দেশকে সংঘাত ও সংঘর্ষের দিকে ঠেলে দেয়ার যে ইঙ্গিত দিয়েছেন তা শুভ লক্ষণ নয়। তিনি যদি শান্তিপূর্নভাবে জাতীয় সমস্যা সমাধান না করে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় টিকে থাকতে চান, তাহলে দেশের জনগণ আন্দোলনের মাধ্যমে জবাব দিবে ইনশাআল্লাহ।

জামায়াত নেতা বলেন, তিনি ২০ দলীয় জোটের আন্দোলনের প্রতি ইঙ্গিত করে যে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্যপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন আমি তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। জনগণ আন্দোলনের মাঠে আছে এবং তিনি যদি শান্তির পথে না আসেন তা হলে জাতি আন্দোলনের মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান করবে।

প্রধানমন্ত্রী আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর ইসলাম বিরোধী বক্তব্য সম্পর্কে যে মন্তব্য করেছেন সে সম্পর্কে আমাদের বক্তব্য হলো আবদুল লতিফ সিদ্দিকী সরকারের একজন মন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য।

কাজেই তার বক্তব্য মূলত: সরকারের ও আওয়ামী লীগের বক্তব্য। কাজেই তার বক্তব্যের দায়-দায়িত্ব সরকার যেমন অস্বীকার করতে পারে না, তেমনি আওয়ামী লীগও পারে না। কাজেই জনাব আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে অবিলম্বে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করার জন্য দেশের জনগণ সরকারের প্রতি দাবী জানাচ্ছে।

দেশবাসী জানতে পেরেছে যে, প্রধানমন্ত্রীর পুত্র সজিব ওয়াজেদ জয়কে সরকার প্রতিমাসে ১ কোটি ৬০ লক্ষ টাকা সম্মানী প্রদান করে থাকে। আর কোন উপদেষ্টাকে জনগণের টাকা এভাবে সম্মানী প্রদান করা হচ্ছে তা দেশবাসী জানতে চায়। এই বিষয়টি জাতির সামনে পরিষ্কার করার জন্য আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

আমি আশা করি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশের বাস্তব অবস্থা উপলব্ধি করবেন এবং জাতীয় সমস্যা শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান খুঁজে বের করার জন্য বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।”

এআর