জিয়াউর রহমানের মাজার সরানোর ষড়যন্ত্র থেকে বিরত থাকতে সরকারকে আহ্বান জানিয়েছে বিএনপি। দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন আজ বুধবার এক সভায় সরকারকে হুঁশিয়ার করে বলেন, জিয়ার মাজারে হাত দিলে আগুনে হাত দেয়া হবে।

আজ বুধবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনিস্টিটিউশন মিলনায়তনে এক সভায় তারা এসব বলেন।

ড. খন্দকার মোশাররফ বলেন, লাশের ওপর হস্তক্ষেপ করবেন? মাজার তুলে দেবেন? মুখে বলেছেন-তাতে জনগণ ফুঁসে উঠেছে। মাজারে হাত দিলে কেউ বসে থাকবে না। ক্ষমতার পটপরিবর্তন হলে জনগণ দেশের অন্য মাজারগুলোতেও হাত দেবে। এই অগ্নিকুণ্ডে হাত দিলে হাত পুড়ে যাবে। বর্তমানে দুই স্বৈরাচার মিলে দেশে ফ্যাসিবাদ কায়েম করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

একই সভায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, পাকিস্তানের পতাকা পুনঃস্থাপন করতেই সরকার শহীদ জিয়াউর রহমানের মাজার সরানোর ষড়যন্ত্র করছে। এর থেকে সরে আসতে সরকারকে আহ্বান জানান তিনি।

‘স্বৈরাচার পতন ও গণতন্ত্র মুক্ত দিবস’ উপলক্ষে বিএনপি এই আলোচনা সভার আয়োজ করে। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

অন্যানের মধ্যে আরো বক্তব্য দেন- দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, হাবিবুর রহমান হাবিব, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, যুগ্মমহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, কেন্দ্রীয় নেতা মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, নাজিম উদ্দিন আলম প্রমুখ।

বিএনপির সহদফতর সম্পাদক মুনির হোসেন ও সহপ্রচার সম্পাদক আমিরুল ইসলাম আলিমের সঞ্চালনায় সভামঞ্চের সামনের সারিতে বসা ছিলেন কেন্দ্রীয় নেতা এম এ মালেক, খন্দকার মারুফ হোসেন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্মসম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ, যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতা এসএম জাহাঙ্গীর, মোস্তফা কামাল রিয়াদ, সাবেক ছাত্রনেতা রুহুল ইসলাম মনি, সর্দার মো: নূরুজ্জামান প্রমুখ।

খন্দকার ড. মোশাররফ হোসেন প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, এই সরকারই শেষ নয়। আজকে জিয়াউর রহমানের মাজার সরানো হলে ভবিষ্যতে আওয়ামী লীগের আত্মীয় স্বজনদের যেখানে দাফন করা হয়েছে সেদিকে জনগণ অগ্রসর হবে।

স্বৈরাচার পতন দিবস পালন না করায় সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, আজকে যারা ক্ষমতায় তারা এই দিবস পালন করে না। এর সঙ্গত কারণ আছে। এরশাদ যখন ক্ষমতা দখল করে, তখন আজকের প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘আই অ্যাম নট আনহ্যাপি’।

দেশ ক্রান্তিকাল অতিক্রমক করছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, আজ দুই স্বৈরাচার মিলে দেশে ফ্যাসিবাদ কায়েম করেছে। এ কারণে দেশে রাজনৈতিক সঙ্কট চলছে, ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে।

স্বৈরাচার হটানোর অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ফ্যাসিবাদ তাড়াতে হবে মন্তব্য করে মোশাররফ হোসেন বলেন, জনগণ যেদিন মাঠে নামবে সেদিন কোনো ফ্যাসিবাদ টিকতে পারবে না। আমাদের পুরোনো অভিজ্ঞতা কাজে লাগতে হবে। কিন্তু আমরা এখনো চাই না, অতীতের মতো গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে সরকারের পতন ঘটিয়ে সবাইকে দেশের বাইরে পাঠিয়ে দিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে। আমরা চাই আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধান করতে।

সরকার প্রধানের উদ্দেশে বিএনপির এই নেতা বলেন, আপনার সহচর স্বৈরাচার এরশাদকে জিজ্ঞাসা করুন শেরেবাংলা নগরে জিয়াউর রহমানের লাশ আছে কি না?। এই এরশাদই তখন জিয়ার লাশ কাঁধে বহন করে শেরেবাংলা নগরে দাফন করেছিলেন। কাজেই সাধু সাবধান। মাজার ভেঙে দেয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসুন।

রাষ্ট্রপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করে সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়ার প্রস্তাব বিবেচনায় নিয়ে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠনের উদ্যোগ নিন। পাশাপাশি সবার কাছে গ্রহণযোগ্য একটি অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করুন যাতে করে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়।

সভাপতির বক্তব্যে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, লুই আই কান কখন, কিভাবে কোন পরিস্থিতিতে নকশা করেছেন তা আমাদের জানতে হবে। তৎকালীন সবচেয়ে বড় ডিক্টেটর আইয়ুব খান ঢাকায় পাকিস্তানের দ্বিতীয় রাজধানী করতে চেয়েছিলেন। তিনি ফার্মগেটের এই জায়গাটিকে বেছে নিয়েছিলেন। আইয়ুব নগর নাম দিয়ে সংসদ ভবন, কেন্দ্রীয় সরকার স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিলেন। পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক টেন্ডারের মাধ্যমে বিশ্ববিখ্যাত স্থপতি লুই আই কানকে বেছে নেয়া হয়। পরে পাকিস্তানের পতাকার ওপর ভিত্তি করে তিনি এই নকশা করেন।

সরকারের উদ্দেশে বিএনপি মহাসচিব বলেন, পাকিস্তানের পতাকাকে রক্ষা করার জন্য নকশা অনুযায়ী অন্যান্য স্থাপনা উচ্ছেদ করতে চান কি না এ প্রশ্নের জবাব দিতে হবে। আজকে শুধু শহীদ জিয়ার মাজার বুলডোজার দিয়ে গুড়িয়ে দিতে চান? গণভবন, বঙ্গবন্ধু কনভেনশন সেন্টার, মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ এই নকশায় আছে কি না জানিনা। এসব স্থাপনাও তুলে দিতে হবে। প্রয়োজনে তাই হবে।

তিনি আরো বলেন, আপনারা লুই আই কানের নকশা বাস্তবায়ন করতে চান এবং পাকিস্তানের পতাকাকে পুনঃস্থাপন করতে চান। এজন্য শুধু কথা বললেই হবে না, কি করতে চান, পেছনটা দেখুন সেটা জানুন।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে সাবেক এই কৃষি প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা কতটা অমানবিক হলে রোহিঙ্গা শিশুরা আশ্রয়ের জন্য প্রাণ বাঁচাতে এলে আমরা তাদের ফিরিয়ে দেই। সম্পূর্ণ মানবিক কারণে সরকারের উদ্দেশে বলতে চাই, মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের সাময়িক সময়ের জন্য আশ্রয় দিন। এবং তাদের স্বসম্মানে ফিরিয়ে নেয়ার জন্য মিয়ানমার ও বিশ্ববাসীর কাছে চাপ দেই।

নির্বাচন কমিশন নিয়ে বেগম খালেদা জিয়ার প্রস্তাবের প্রসঙ্গ টেনে রাষ্ট্রপতির উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, অতীতে আপনি সার্চ কমিটি গঠন করেছিলেন কিন্তু সেই কমিটি নির্বাচন ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে ফেলেছে। আমরা সবার অংশগ্রহণে ও উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন চাই। সরকারকে দাম্ভিকতা পরিহার করে সহনশীলতার মাধ্যমে জনগণের আকাঙ্খা পূরণ করতে আহ্বান জানান মির্জা ফখরুল। অন্যথায় ইতিহাস ক্ষমা করবে না।

এআই