দুই মামলায় মুক্তি আটকে আছে বিএনপি চেয়ারপারসন কারাবন্দি খালেদা জিয়ার। সাজার রায় হওয়া জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় জামিন হলেই খুলবে তার মুক্তির পথ। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় দায়ের ৩৭টি মামলার মধ্যে ৩৩ মামলায় আগেই জামিনে ছিলেন তিনি।

গতকাল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সম্পর্কে কটূক্তি এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগের দুই মামলায় জামিন পান বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। দুই মামলায় হাইকোর্ট তাকে ৬ মাস করে জামিন দিয়েছেন।

বিচারপতি মোহাম্মদ হাফিজ ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ জামিন মঞ্জুর করেন। ফলে কারাগারে থাকা বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আর দুই মামলায় জামিন পেলেই মুক্তি পাবেন বলে মনে করছেন তার আইনজীবীরা। এ দুই মামলায় দণ্ডাদেশ পেয়ে কারাগারে আছেন বিএনপি চেয়ারপারসন।

আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, এ জে মোহাম্মদ আলী, জয়নুল আবেদীন, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, একেএম এহসানুর রহমান।

অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. ফজলুর রহমান (এফ. আর খান) ও সহকারি অ্যাটর্নি জেনারেল স্বপন কুমার দাস।

ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, বেগম জিয়া কারাবন্দি। বিভিন্ন মামলা দিয়ে তাকে কী করে আরও বেশি দিন জেলখানায় রাখা যায়, সে ব্যবস্থা করেছে সরকার। যে দুটি মামলা আজকে হাইকোর্ট পর্যন্ত এসেছে। অথচ সেটা হাইকোর্ট পর্যন্ত আসার কথা না। আরো কতটি মামলায় জামিন পেলে খালেদা জিয়া মুক্তি পাবেন সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, আর দুটি মামলায় তিনি জামিন পেলেই মুক্তি পাবেন।

একটি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলা, অপরটি- জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলা। এ দুই মামলাতেই তার সাজা হয়েছে। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় হাইকোর্ট ১০ বছরের কারাদন্ডাদেশ দিয়েছে। অপরদিকে, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় আদালত তাকে সাত বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, জিয়া চ্যারিটেবল মামলায়ও জামিন আবেদন করা হয়েছে। ওই মামলায় নথি আসতে ১২দিন বাকি আছে। আশাকরি ১২ দিন পর ওই মামলায় তার জামিন শুনানি হবে। অপরদিকে, রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এফ আর খান সাংবাদিকদের বলেন, জামিনযোগ্য সেকশন হওয়ার কারণে আদালত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে দুই মামলায় জামিন দিয়েছেন। জামিনের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা এখনো সিদ্ধান্ত নেইনি। তবে অ্যাটর্নি জেনারেল-এর সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ২১শে অক্টোবর জননেত্রী পরিষদের সভাপতি এবি সিদ্দিকী বাদী হয়ে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মানহানীর দুটি মামলা করেন। একটি মামলায় তিনি অভিযোগ করেন, ২০১৪ সালের ১৪ই অক্টোবর এক অনুষ্ঠানে খালেদা জিয়া বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ধর্মনিরপেক্ষতার মুখোশ পরে আছে। আসলে দলটি ধর্মহীনতায় বিশ্বাসী। আওয়ামী লীগের কাছে কোনো ধর্মের মানুষ নিরাপদ নয়। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে হিন্দুদের সম্পত্তি দখল করেছে। হিন্দুদের ওপর হামলা করেছে। খালেদা জিয়ার ওই বক্তব্য যেমন ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছে, তেমনি হিন্দু ও মুসলমানদের মধ্যে শ্রেণিগত বিভেদ সৃষ্টি করেছে।

অন্যদিকে এ বি সিদ্দিকী ২০১৭ সালের ২৫শে জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও আওয়ামী লীগকে নিয়ে কটূক্তি করার অভিযোগে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে আরো একটি মানহানির মামলা করেন। এই মামলায় তিনি অভিযোগ করেন, ২০১৬ সালের ৩১শে ডিসেম্বর রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটে ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে খালেদা জিয়া বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামী লীগ সরকার নিয়ে কটূক্তি করেন। এই দুই মামলাতেই গত বছরের ৩০শে জুন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দেয় শাহবাগ থানা পুলিশ। আদালত দুই তদন্ত প্রতিবেদন আমলে নিয়ে গত ২০শে মার্চ খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।

জেড