২০ দলীয় জোটের জনসভায় যোগ দিতে বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া শনিবার নাটোর আসছেন। তাকে স্বাগত জানাতে বর্ণিল সাজে সাজানো হয়েছে পুরো জেলা।
বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কের টোলপ্লাজা থেকে শুরু করে রাজশাহীর সীমানা, বগুড়ার নন্দীগ্রাম ও পাবনার দাশুড়িয়া পর্যন্ত মহাসড়ক ছাড়াও জেলার অভ্যন্তরীণ সব সড়কে নির্মাণ করা হয়েছে তিন শতাধিক তোরণ।
রাস্তার পাশে জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া, তারেক রহমান ও রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর ছবি সম্বলিত শত শত ডিজিটাল বোর্ডে ঢেকে ফেলা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ বাজারঘাট ও মোড়ে মোড়ে তোরণ নির্মাণের পাশাপাশি টানানো হয়েছে ডিজিটাল বোর্ড। করা হয়েছে আলোকসজ্জা।
বিএনপি চেয়ারপারর্সনকে শুভেচ্ছা জানাতে জেলা বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয় আলাইপুর থেকে জনসমাবেশস্থল নবান সিরাজ উদ-দৌলা সরকারি কলেজ মাঠ পর্যন্ত মহাসড়কের দুই
পাশে বিভিন্নভাবে সাজানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে রঙিন বাতি, রঙিন কাপড়, জাতীয় ও দলীয় পতাকা ছাড়াও লাল সবুজসহ নানা রংয়ের পতাকা। সন্ধ্যা হলেই জ্বলে উঠছে নানা রংয়ের মনোমুগ্ধকর আলোকসজ্জা। শহর ছাড়াও বড় হরিশপুর
বাইপাস মোড়ে একই ধরনের আলোকসজ্জা করা হয়েছে। শহর জুড়ে লাগানো হয়েছে দুই শতাধিক মাইক। তৈরি করা হয়েছে ৬০ ফিট প্রস্থ ও ৪০ ফিট দৈর্ঘ্যের সুবিশাল মঞ্চ। এদিন সনসভাস্থলে সঙ্গীত পরিবেশন করবেন কণ্ঠশিল্পী মুনির খান, কনকচাঁপা ও রিজিয়া পারভীন।
জনসমাবেশকে আকর্ষণীয় করতে সমাবেশে বিএনপির সব অঙ্গ সংগঠনের কর্মী সমর্থকরা মাঠে আলাদা রংয়ের পোশাক পরে আলাদাভাবে অবস্থান করবেন। এর মধ্যে ছাত্রদল লাল গেঞ্জি, যুবদল সবুজ গেঞ্জি, স্বেচ্ছাসেবক দল হলুদ গেঞ্জি, ওলামা দল সাদা পায়জামা পাঞ্জাবী ও টুপি, কৃষকদল মাথায় মাথাল, তাঁতীদল ঘাড়ে গামছা ও মৎস্যজীবী দল ধুতি গেঞ্জি পড়ে এবং মাছ ধরার সামগ্রী হাতে নিয়ে মাঠে অবস্থান করবেন।
২০ দলীয় জোটের অন্যতম প্রধান শরিকদল জামায়াতে ইসলামীর কর্মী সমর্থকদের জন্য মাঠের পশ্চিমপাশে জায়গা রেখে মাঠের অন্য সব অংশ বিএনপির অঙ্গ সংগঠনের মধ্যে ভাগ
করে দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি ভাগে যার যার রংয়ের পোশাক পরে হাতে রঙিন বেলুন নিয়ে হাজার হাজার কর্মী সমর্থক অবস্থান নেবেন এবং মাঠে খালেদা জিয়ার আগমনের পর এ সব গ্যাস ভরা বেলুন আকাশে উড়িয়ে দেওয়া হবে।
খালেদা জিয়া সড়ক পথে দুপুরের মধ্যেই নাটোরে পৌঁছাবেন বলে জানা গেছে। জনসমাবেশের সভাপতি নাটোর জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেছেন, সমাবেশ দুপুরে আহ্বান করা হলেও সকাল ১০টার মধ্যেই নাটোর সিরাজ উদ-দৌলা সরকারি কলেজ মাঠ ও আশপাশের রাস্তাঘাট মানুষে ভরে যাবে। জোহরের নামাজের সঙ্গে সঙ্গেই সমাবেশ শুরু হবে। বিকেল ৩টার মধ্যেই বিএনপি চেয়ারপারসন জনসভা মঞ্চে আসবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
দুলু বলেন, কোনো বিদেশি অতিথিকে যেভাবে রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মান জানানো হয়, তার চেয়েও জাকজমকপূর্ণভাবে নাটোর শহরকে সাজানো হয়েছে। নাটোর পৌরসভা জনসমাবেশ উপলক্ষে পুরো শহরকে বিশেষভাবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার ব্যবস্থা করেছে।
সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মীর্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, জামায়াতের নায়েবে আমির
মুজিবুর রহমান, বিজিপির ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ, জাগপা চেয়ারম্যান শফিউল আলম প্রধান, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) ইব্রাহিম, বীরপ্রতীক,
এলডিপির কর্নেল অলি আহমেদ, ইসলামী ঐক্যজোটের আব্দুল লতিফ নেজামী, খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মো. ইসহাক, জাতীয় পার্টির (জাফর) মোস্তফা জামাল হায়দার,
এনডিপির খন্দকার গোলাম মতুর্জা, এনপিপির ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, লেবার পাটির মোস্তফিজুর রহমান ইরান, ন্যাপের জেবেল রহমান গণি ও সাম্যবাদী দলের সাঈদ আহমেদসহ
২০ দলের জাতীয় ও স্থানীয় নেতারা বক্তব্য রাখবেন।
জেএ





