বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, জনগণের দাবির কাছে মাতানত করে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দিয়ে জনগণের সরকারের হাতে ক্ষমতা ছেড়ে দিন।
শুক্রবার বিকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদ-ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী ও বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। আলোচনা সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ জাতীয়তার বাদী ক্ষুদ্র জাতীগোষ্ঠী দল।
মির্জা ফখরুল বলেন, দেশের জনগণের সময় এসেছে সেই রাজনৈতিক দলকে বেছে নেওয়ার যারা তাদের আশা আকাঙ্খা পূরণ করবে।
তিনি বলেন, জনগনের সমর্থন ছাড়া একটি প্রহসনের নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করেছে আওয়ামী লীগ। ক্ষমতা নিশ্চিত করতে ভোটের আগেই ১৫৪ জনকে বিনা প্রতিদ্বন্দীতায় নির্বাচিত করেছে। তাই জনগণের সরকার নয় বলেই তাদের আর ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই।
সমুদ্রসীমা বিজয় নিয়ে সরকারের কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, সমুদ্রের জলসীমা বিজয় নিয়ে তারা জনগণের সঙ্গে নাটক শুরু করে দিয়েছে। দাবির চেয়ে বেশি পেলে সেটা বিজয় হত কিন্তু ৬ হাজার কিলোমিটার হারিয়ে কেমন বিজয় হয়েছে।
দেশ ধীরে ধীরে একদলীয় বাকশালের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে জানিয়ে বিএনপির এই মূখপাত্র বলেন, তারা ক্ষমতায় আসলেই তাদের মুখোশ উন্মোচন হয়ে আসল চেহারা বেরিয়ে আসে। ৭১ পরবর্তী সময়ে ক্ষমতায় এসে তারা বাকশাল কায়েম করেছিল। এখন আবার তারা সেই একই পথে হাটছে। এটি উইলিয়াম বি মাইলাম সাহেব তার কলামে উল্লেখ করেছেন।
আওয়ামী লীগ বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদের কথা বলে একটি নির্ধারিত গোষ্ঠীতে সীমাবদ্ধ থাকতে চায়, আর বিএনপি বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদে বিশ্বাস করে বলেই দেশের সব জাতীকে এক কাতারে নিয়ে এসেছে।
মির্জা ফখরুল বলেন, তারা প্রসাশন, আইন, বিচার শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়েছে। পদ্মা সেতু নির্মাণে অর্থ লোপাটের মত কেলেংকারির ঘটনা ঘটেছে। এখন এমন একটি প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া হয়েছে যাদেরে ঠিকানা পর্যন্ত নেই সরকারের কাছে।
ভবিষ্যতে তারা দেশকে ধ্বংস করবে বলে হুশিয়ার করে তিনি বলেন, তাদের আর সময় দেওয়া যায় না। এখনই সময় এ সরকারকে বিদায় করার। ক্ষমতায় গেলে আদিবাসীদের জাতিগত ভাবে মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেন তিনি।
সংগঠনের সভাপতি মি. মৃগেন হাগিদকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বিগ্রে. জেনারেল (অব.) আ.স.ম হান্নান শাহ, বিএনপি কেন্দ্রীয় জলবায়ূ বিষয়ক সম্পাদক আফজাল এইছ খান, বিএনপির সহ প্রচার সম্পাদক ইমরান সালেহ প্রিন্স, যুবদলের সহ সভাপতি এলবার্ট ডি কস্টা, সংগঠনের ঢাকা মহানগর সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার প্রলয় সাহা প্রমুখ।
ঢাকা, এমএইচ, ১১ জুলাই, (টাইমনিউজবিডি.কম) // কেএইচ





