প্রবীণ আইজীবী ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. কামাল হোসেন বলেছেন, সব দলের কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের আয়োজন করতে হবে। নির্বাচন এক দলের কাছে গ্রহণযোগ্য হলে হবেনা।

শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবে স্বাধীনতা প্রজন্ম বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় সংসদ আয়োজিত গণতন্ত্র ও আজকের বাংলাদেশ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এ  কথা বলেন।

ড. কামাল আরো বলেন,  আগামী ১৬ ডিসেম্বর থেকে দলীয়ভাবে নয় জাতীয় ঐক্যের ভিত্তিতে সবার একসাথে স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানানো উচিত। ভাষা আন্দোলন, স্বাধীনতা বিষয়ে  জাতির মধ্যে কোনো দ্বিমত নেই। শহীদেরা দলমতের ভিত্তিতে যুদ্ধ করেননি এবং শহীদ হননি। তারা দেশের জন্য যুদ্ধ করেছেন। এজন্য দলীয়ভাবে নয় জাতীয়ভাবে সবার একসাথে শ্রদ্ধা জানানো উচিত।

কামাল হোসেন বলেন, ‘গণতন্ত্রকে যে যেমনভাবেই ব্যাখ্যা করুক না কেন, গণতন্ত্রকে নিয়ে মানুষের ভুল বোঝার কোনো অবকাশ নেই। তাই গণতন্ত্র রক্ষায় দলবাজী ছেড়ে সবাইকে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে।’

দেশের সাম্প্রতিক বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের প্রসঙ্গ তুলে ধরে নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘এই সরকারের কথায় কোনো যুক্তি নেই, বিএনপির কথার কোনো ভিত্তি নেই।’

তিনি বলেন, ‘১ নভেম্বর সারা দেশে যে বিদ্যুৎ বিপর্যয় ঘটেছিল, সে সম্পর্কে সরকারের মন্ত্রী বলেছেন ভারতের দিক থেকে কোনো সমস্যা ছিল না, সমস্যা ছিল আমাদের দিক থেকে। কিন্তু কী সমস্যা ছিল তার সঠিক ব্যাখ্যা তিনি আজও দিতে পারেননি, যা অযৌক্তিক। আবার বিএনপি বলেছে তাদের জনসভা প্রচার না করার জন্যই সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে এই কাজ করেছে। যা একেবারেই ভিত্তিহীন।’

‘প্রধান দুই দল দেশে মিথ্যার চাষ করছে’ এমন মন্তব্য করে মান্না বলেন, ‘এদের কারো কাছেই গণতন্ত্র নিরাপদ নয়।’

ঢাবি আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল বলেন, ‘৫ জানুয়ারির মতো ভুয়া নির্বাচন খালেদা জিয়া ও এরশাদ সরকারের সময়ও আমরা দেখেছি কিন্তু তারা সেটাকে সুষ্ঠু বলে প্রমাণ করার অপচেষ্টা চালায়নি। যে ঘৃণ্যকাজ আওয়ামী লীগ করছে।’

তিনি বলেন, ‘এই সরকার একদিকে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করে তার পরিবর্তে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ভুলণ্ঠিত করছে। একজনকে শুধুমাত্র শার্ট পরিয়ে সুসজ্জিত মানুষ বললে যেমন দেখায় এই সরকার গণতন্ত্রকে এমনই রূপ দিয়েছে।’

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন স্বাধীনতা প্রজন্ম বাংলাদেশের সভাপতি এস এম সায়মন কামালী।

জেআই