সব দলের অংশগ্রহণে মধ্যবর্তী নির্বাচনের দাবীতে দেশব্যাপী চলা টানা অবরোধ কর্মসূচির মধ্যে আবারো ৭২ ঘণ্টার হরতাল কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব সালাহ উদ্দিন আহমেদ স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
আগামী রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৬টা থেকে বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৬টা পর্যন্ত লাগাতার ৭২ ঘণ্টার হরতাল পালন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, দেশব্যাপী ক্রসফায়ারের মাধ্যমে অসংখ্য নেতাকর্মীকে গুলি করে হত্যা করা ও অসংখ্য নেতাকর্মীকে পঙ্গু ও আহত করা, বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীসহ নিরীহ জনগণকে গণ গ্রেফতারের প্রতিবাদে, জনগণের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের দাবিতে, বিচার ব্যবস্থায় হস্তক্ষেপ ও কুক্ষিগতকরণের প্রতিবাদে, সাংবাদিক নির্যাতন ও সংবাদ মাধ্যম নিয়ন্ত্রণের প্রতিবাদে, জনগণের মৌলিক ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে এবং অন্যায়ভাবে মিথ্যা মামলায় গ্রেফতারকৃত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ বিএনপি ও ২০ দলীয় জোটের সিনিয়র নেতা ও সকল রাজবন্দির মুক্তি দাবিতে এ হরতাল পালন করা হবে।
বিবৃতিতে ২০ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে আরও বলা হয় গতকাল (বৃহস্পতিবার) ক্রসফায়ারে হত্যা করা হয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা শিবিরের তথ্য সম্পাদক শাহাবুদ্দিন, সাতক্ষীরা সদর উপজেলা জামায়াত নেতা শহীদুল ইসলাম এবং চৌদ্দগ্রাম শিবির সভাপতি শাহাব পাটোয়ারীকে। গুলিবিদ্ধ করে চিরতরে পঙ্গু করা হয়েছে সাতক্ষীরা পৌর ছাত্রদল সভাপতি আবদুল মজিদ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিবির নেতা হাবিবুর রহমান, মফিজুর রহমানসহ বিএনপি ও জামায়াতের অসংখ্য নেতা-কর্মীকে।
অথচ আমার দেখতে পাচ্ছি চৌদ্দগ্রাম ট্র্যজেডি’র মূল হোতা এবং পেট্রোল বোমাসহ আটক যুবলীগ নেতা মানিক ও বাবুলকে রেলমন্ত্রীর নির্দেশে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। পত্রিকার খবরে প্রকাশ-নারায়ণগঞ্জের রুপগঞ্জে বোমা বানাতে গিয়ে আহত হয়েছে ছাত্রলীগের চার কর্মী যথাক্রমে রহমত উল্লাহ, শাহীন মিয়া, কবির ও রাসেল। তাদেরকে পঙ্গু হাসপাতালে ভর্ত্তি করা হয়েছে। ইতোপূর্বে বঙ্গবন্ধু এভিন্যুতে গত ১০ জানুয়ারী বোমা বিষ্ফোরণের সময় এক ছাত্রলীগ কর্মী সাদিককে আটক করার পর পুলিশ ছেড়ে দিয়েছে। এভাবে রাজশাহী, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, মাগুরা, খুলনা, কুমিল্লা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের অনেক নেতা-নেতা-কর্মী পেট্রোল বোমাবাজী, ককটেল ফাটানো এবং বোমা তৈরীর সময় হাতে নাতে ধরা পড়লেও উপরের নির্দেশে পুলিশ তাদেরকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়।
মাগুরা জেলা ছাত্রলীগের ধর্ম সম্পাদক সাজ্জাদ মোল্লা, ছাত্রলীগ নেতা লিমন ও রানা ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে গাড়ীতে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপের সময় ধরা পড়ে। মাগুরা পুলিশ সুপার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করলেও তাদেরকে গ্রেফতার না করে উপরের নির্দেশে ছেড়ে দেয়া হয়। এই জাতীয় বহু ঘটনা জনগণের দৃষ্টিতে আসার আগেই পুলিশ সরকারী নির্দেশে তাদের ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়। আমরা এসমস্ত তথ্য প্রমান উপস্থাপন করতে পারি।
তিনি বলেন, শুধুমাত্র গণতন্ত্র মুক্তি আন্দোলনের গতিধারাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার মানসে এবং জনগণের ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র পূণ:প্রতিষ্ঠার ন্যায্য আন্দোলন, আইনের শাসন ও মৌলিক মানবাধিকার আদায়ে জনগণের অবিরাম সংগ্রামকে কলুষিত করার ঘৃন্য অপচেষ্টা এই স্বৈরাচারী আওয়ামী সরকার চালিয়েই যাবে। আমরা অত্যন্ত পরিস্কার ভাষায় বলতে চাই-যাত্রাবাড়ী ও চৌদ্দগ্রাম ট্র্যাজেডি’র মুল পরিকল্পনাকারী আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনা এবং বাস্তবায়নকারী তার মন্ত্রী ও নেতা-কর্মীরা। আমরা এই জঘন্য অমানবিক ও নিষ্ঠুর কর্মকান্ড থেকে বিরত থাকার জন্য তাদেরকে আহবান জানাই। বিএনপি ও ২০ দলীয় জোট গণতান্ত্রিক, নিয়মতান্ত্রিক ও শান্তিপুর্ণ উপায়ে জনগণের ন্যায্য দাবী আদায়ের আন্দোলন বিজয় অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত অব্যাহত রাখতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।
এমএইচ/জেআই





