বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, হরতাল-অবরোধের নামে সন্ত্রাস, নাশকতা ও জঙ্গি তৎপরতা চালিয়ে এবং ব্যবসায়ীদের ক্ষতি করে বিশ্বে দেশের সুনাম ক্ষুণ্ন করেছে বিএনপির নেত্রী খালেদা জিয়া।
বিএনপি ও তাদের জোট এ দেশে লুটপাট আর সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে সাধারণ মানুষকে হত্যা করেছে। কিন্তু এ দেশে একমাত্র আওয়ামী লীগই প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। আওয়ামী লীগ রাজনীতি করে শুধু দেশের শান্তি ও উন্নয়নের জন্য।
শুক্রবার দুপুরে মেঘনার ভাঙনকবলিত ইলিশা ইউনিয়ন পরিদর্শনে এসে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে অনুদান প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ সব কথা বলেন তিনি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, বিএনপির আমলে ভোলার নদী ভাঙন রোধে শত শত কোটি টাকা বরাদ্দ হলেও ভাঙন ঠেকাতে কোনো ব্যবস্থাগ্রহণ করা হয়নি। অথচ ওই আমলে পানিসম্পদমন্ত্রী ছিলেন ভোলারই একজন। তারা ভাঙনকবলিতদের কোনো খোঁজখবর নেননি। নেননি নদী ভাঙনের হাত থেকে ভোলাকে রক্ষায় কোনো পদক্ষেপ।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ভোলায় নদী ভাঙনের প্রবণতা অনেক বেশি। তাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থাগ্রহণ করে চিরস্থায়ীভাবে ভোলাকে রক্ষা করা হবে। নদী ভাঙনে যারা গৃহহারা হয়েছেন তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, ভোলায় পর্যাপ্ত গ্যাসের মজুদ রয়েছে, তাই বিদেশী বিনিয়োগকারীরা ভোলায় আসবেন। তখন এ ভোলা আরও বেশি সমৃদ্ধ এবং শিল্পোন্নত জেলায় পরিণত হবে। জেলার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বেষ্টিত দ্বীপ মনপুরা ও কুকরী-মুকরীকে আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। ভোলা হবে দেশের মধ্যে সবচেয়ে আকর্ষণীয় জেলা।
ভোলার সঙ্গে বরিশালের সড়ক পথে সংযোগ স্থাপনের কথা উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, দেড় হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে একটি ব্রিজ নির্মাণের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। এটি নির্মিত হলে ভোলা থেকে রাজধানী ঢাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও সহজ হবে।
অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে জেলা আওয়ামী লীগ অত্যন্ত শক্তিশালী ও সুসংগঠিত উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, দলে কোনো অন্তর্কোন্দল নেই। দলীয় নেতাকর্মীরা দলীয় কার্যালয়ে নিয়মিত যাতায়াত করছেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী এ সময় ক্ষতিগ্রস্ত ছয়শ’ পরিবারের মাঝে নগত পাঁচ হাজার টাকা করে মোট ৩০ লাখ টাকা তুলে দেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মাহামুদুর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মমিন টুলু, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, পৌর মেয়র ও জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মনির, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী তোফায়েল প্রমুখ।
কেএইচ





