দৈনিক যুগান্তরে ‘মৃত্যুর আগে ফাহিমের ভিডিও জবানবন্দি’ শীর্ষক প্রতিবেদনে ছাত্রশিবিরকে জড়িয়ে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন খবর প্রকাশের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।

গণমাধ্যমে প্রেরিত এক যৌথ প্রতিবাদ বার্তায় ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি আতিকুর রহমান ও সেক্রেটারি জেনারেল ইয়াছিন আরাফাত বলেন, জনগণের দৃষ্টি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতেই ছাত্রশিবিরকে জড়িয়ে বিভ্রান্তিকর কল্পকাহীনি রচনা করছে যুগান্তর। প্রতিবেদনে বিভ্রান্তির ছড়ানোর অপকৌশল হিসেবে প্রতিবেদক ”মোয়াজ্জেম হোসেন নান্নু” নামে পুলিশের অজ্ঞাত এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলেছেন, হিজবুত তাহরীর ও জেমবিকে ব্যবহার করে জামায়াত শিবির হত্যাকাণ্ড চালাচ্ছে। যা সম্পূর্ণ কাল্পনিক, বানোয়াট ও জঘন্য মিথ্যাচার।

শিবির নেতৃবৃন্দ বলেন, গুপ্তহত্যার গুরুত্বপূর্ণ আসামী ফাহিমকে বন্দুকযুদ্ধের নাটক সাজিয়ে হত্যায় যখন দেশ বিদেশে সমালোচনার ঝড় বইছে তখন যুগান্তরের এই প্রতিবেদন কার স্বার্থে? জনগণ তা সহজেই অনুমান করতে পারে। ফয়জুল্লাহ যদি একদিনের মধ্যেই এতসব স্পর্শকাতর তথ্য দিয়ে থকে, তাহলে পুলিশ তাকে হত্যা করলো কেন? এই প্রশ্নের কোন জবাব কি যুগান্তরের কাছে আছে? পুলিশ চলমান গুম খুনের প্রকৃত সত্যকে আড়াল করতেই ফাহিমকে হত্যা করেছে আর যুগান্তর তাদের এই অপকর্মকে ধামাচাপা দিতেই এই মিথ্যা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বলে আমরা মনে করি।

শিবির নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের অজ্ঞাত এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে প্রতিবেদক আরো বলেছেন, ”দুইজন জামায়াত নেতার অর্থায়নে আত্বঘাতী স্কোয়ার্ড গঠন করা হচ্ছে”। যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ‘বানোয়াট। প্রতিবেদক এই মিথ্যা নাটকের স্কিপ্ট লিখতে গিয়ে বার বার শুধু অজ্ঞাত সূত্রের বরাত দিয়েছেন। আমরা মনে করি, কাল্পনিক সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদক নিজের মনগড়া বক্তব্য লিখে পাঠককে বিভ্রান্ত করার কৌশল গ্রহণ করেছেন মাত্র।

তারা বলেন, কোন এক বিশেষ মহলের ইশারায় ছাত্রশিবিরকে টার্গেট করে অপপ্রচারের মিশনে নেমেছে যুগান্তর। এটা কোন সাংবাদিকতা নয় বরং অপসাংবাদিকতার নিকৃষ্ট উদাহরণ। দেশে ঘটে যাওয়া নৃশংস খুনের আসল অপরাধীদের আড়াল করার ক্ষেত্রে যুগান্তরের মত কিছু গণমাধ্যমের আগবাড়িয়ে অপপ্রচার অনেকাংশে দায়ী বলে জনগণ মনে করে।

তারা আরো বলেন, সত্য প্রকাশ করার সাহস না থাকলে এসব গণমাধ্যমের উচিৎ তা স্বীকার করে জাতির কাছে নিজেদের অবস্থান পরিস্কার করা। এমন স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে কারো ক্রীড়নক হয়ে মিথ্যাচার করা সাংবাদিকতার পবিত্র পেশার সাথে প্রতারণার শামিল। যা জাতি কখনোই প্রত্যাশা করেনা। আমরা এই মিথ্যা প্রতিবেদন প্রকাশের নিন্দা জানাচ্ছি। সেইসাথে এই বিভ্রান্তিকর মিথ্যা প্রতিবেদন প্রত্যাহার করার জন্য যুগান্তর কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষন করছি।

এছাড়াও নেতৃবৃন্দ এ ধরণের মিথ্যা ও ভিত্তিহীন প্রতিবেদন প্রকাশ থেকে বিরত থাকতে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদক ও গণমাধ্যমের প্রতি আহবান জানান।

এমআইএস