তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় গিয়ে প্রথমেই পিলখানা বিদ্রোহের নামে দেশপ্রেমিক সেনা সদস্যদের হত্যা করেছে। এরপর ভারতের পরামর্শে এদেশ থেকে ইসলামকে নির্মূল করে দিতে জামায়াতে ইসলামীকে নিঃশেষ করার কাজ শুরু করে হাসিনা। জামায়াতের নেতৃবৃন্দকে জেল, জুলুম, নির্যাতন, হামলা-মামলা, খুন, গুম ও বিচারিক হত্যা চালিয়েছে। জামায়াত নেতাদের হত্যা করতে যেই ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে আজ সেই ট্রাইব্যুনালেই শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে।’

শুক্রবার বিকেলে লালবাগ হাজী আব্দুল আলীম ঈদগাহ মাঠে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের লালবাগ থানা কর্মী ও সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ছিল ত্রিমুখী সমঝোতার নির্বাচন উল্লেখ করে মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘ওই নির্বাচনের আগে তৎকালীন সেনা প্রধান মঈন উ আহমেদ ও ফখরুদ্দীনের সাথে ভারত ও হাসিনার নির্বাচনের আগেই সমঝোতা হয়। আওয়ামী লীগকে সংসদের সংখ্যাগরিষ্ট আসনে বিজয়ী ঘোষণা করতে হবে। এতে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় গিয়ে মঈন উ আহমেদ ও ফখরুদ্দীনকে নিরাপদে বিদেশে চলে যেতে সহায়তা করবে এবং নিজেদের মনমতো করে সংসদে সংবিধান সংশোধনসহ যেকোনো বিল পাস করতে পারবে। ফলে আওয়ামী লীগের ক্ষমতা পাকাপোক্তা করা যাবে। আর বিনিময়ে আওয়ামী লীগ ভারতের সেবাদাস সরকার হয়ে থাকবে। ভারতের যা প্রয়োজন বাংলাদেশ থেকে তা নিয়ে যেতে পারবে। আর ভারত আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগকে ভারত ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখতে পারেনি। এদেশের ছাত্র-জনতা আওয়ামী লীগকে ক্ষমতাচ্যুত করে দেশ ছাড়া করেছে।’

তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আপনারা ক্ষমতায় আসেননি। আপনাদেরকে এনে ক্ষমতায় বসানো হয়েছে। ছাত্র-জনতা আপনাদেরকে রাষ্ট্রের প্রয়োজনীয় সংস্কার করার মহান দায়িত্ব দিয়েছে। সেই দায়িত্ব পালন করতে আপনাদের কত দিন সময় লাগবে এবং কী কী সংস্কার করবেন, কখন নির্বাচন দিবেন এটা জাতির সামনে স্পষ্ট করতে হবে। করা জরুরি।’

ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের মজলিসে শূরা সদস্য ও লালবাগ থানা আমির ড. মুহাম্মদ শামীমুল বারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মী ও সুধী সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির মো: নূরুল ইসলাম বুলবুল, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন ও ড. আব্দুল মান্নান, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এবং এফবিসিসিআইয়ের সাবেক পরিচালক হাজী হাফেজ এনায়েক উল্লাহ।

এছাড়া অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের মজলিসে শূরা সদস্য অধ্যক্ষ আহসান উল্লাহ, লালবাগ থানার সাবেক আমির সাব্বির আহমেদ, চকবাজার দক্ষিণ থানা আমির আনিছুর রহমান প্রমুখ।

মো: নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, ‘আওয়ামী লীগ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশকে তলাবিহীন ঝুড়িতে পরিণত করেছে। গত ১৫ বছর মানুষের কথা বলার স্বাধীনতা ছিল না। জীবন মানের নিরাপত্তা ছিল না। তাদের জুলুম-নির্যাতনে বাংলাদেশ বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। জামায়াতে ইসলামীর ৫ শতাধিক নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়েছে। ২০ হাজার মামলায় জামায়াতে ইসলামীর লাখ-লাখ নেতাকর্মীকে আসামি সাজিয়ে জুলুম-নির্যাতন চালিয়েছে। বিরোধী দল-মত আওয়ামী লীগ সহ্য করতে পারেনি। যারাই মত প্রকাশ করতে চেয়েছে তাদেরকেই দমনের নেশায় লিপ্ত ছিল। জামায়াতের ১১ জন শীর্ষ নেতাকে বিচারিক হত্যা করেছে।’

মুহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘ভারত আমাদের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব নষ্ট করার চক্রান্তে লিপ্ত রয়েছে। অন্তর্বর্তী জনগণের আন্দোলনের ফসল। এই সরকার জনগণ যা চায় তাই করবে। এই সরকার ভারতের তাঁবেদারি করবে না। অন্তর্বর্তী সরকার দেশ ও জাতির স্বার্থে যেই কাজ করবে জামায়াতে ইসলামী সমর্থন দিবে এবং সহযোগিতা করবে।’

ড. আব্দুল মান্নান বলেন, ‘মদখোর অতিরিক্ত মদ্যপান করে যেভাবে আবোল-তাবোল বলে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হয়ে সেভাবেই আবোল-তাবোল বলছে এবং আবোল-তাবোল করতে চেষ্টা করছে। শেখ হাসিনা পালিয়ে গিয়ে একবার দলের নেতাকর্মীদের ধোঁকা দিয়েছে। এখন আবার মোদি তাকে প্রধানমন্ত্রী করে দেশে পাঠাবে বলে দলের নেতাকর্মীদের দিবা স্বপ্ন দেখিয়ে ধোঁকা দিচ্ছে।

প্রেস বিজ্ঞপ্তি