বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে সম্প্রতি আমেরিকার স্টেট ডিপার্টমেন্টের দেয়া প্রতিবেদনের কড়া সমালোচনা করে আওয়ামী লীগ নেত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী বলেন, এরা সময় সময় সুবিধামতো মানবাধিকারের কথা বলে থাকে।

ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস উপলক্ষ্যে আজ (সোমবার) রাজধানীতে এক আলোচনা সভায় তিনি এমন মন্তব্য করেন।

বেগম মতিয়া বলেন, একাত্তরে যখন এদেশে গণহত্যা হয়েছিল তখন আমেরিকা মানবাধিকারের কথা বলেনি, সিলেটে ব্রিটিশ হাই-কমিশনারের ওপর বোমা হামলার সময় মানবাধিকারের কথা বলেনি, ২১শে আগস্টের গ্রেনেড হামলার সময়ও এরা মানবাধিকারের কথা বলেনি।

মতিয়া বলেন, “এরা এত নির্লজ্জ!” এদের মুখে মানবাধিকারের কথা মানায় না। এমনকি বাংলাদেশ স্বাধীন হলে সেটাকে নিজেদের পরাজয় হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত তৎকালীন আমেরিকান রাষ্ট্রদূত হেনরি কিসিঞ্জার।  

আলোচনা সভায় মার্কিন স্টেট ডিপার্টেমন্টের মানবাধিকার প্রতিবদনের কঠোর সমালোচনা করে আওয়ামী লীগ নেতা তোফায়েল আহমেদ বলেন, যখন বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়ার বিষয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠন থেকে স্বীকৃতি আসতে শুরু করছে, তখনই আমেরিকার এই মানবাধিকার প্রতিবেদন প্রকাশ করা হলো। এর সত্যতা প্রশ্নবিদ্ধ।  

উল্লেখ্য, গত ১৪ই এপ্রিল বিশ্ব মানবাধিকার পরিস্থিতি ২০১৫ নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের প্রকাশিত প্রতিবেদনের বাংলাদেশ অধ্যায়ে বলা হয়, বাংলাদেশের নিরাপত্তা বাহিনীর জুলুম ও নিপীড়ন বাংলাদেশের মানবাধিকারের পথে অন্যতম সমস্যা। যত্রতত্র মানুষকে গ্রেফতার ও রিমান্ডের নামে নির্যাতন করা হচ্ছে, বিচার বিভাগের দুর্বলতা ও স্বাধীনভাবে কাজ করার অক্ষমতার ফলে কোন বিচার ছাড়াই অনেককে দীর্ঘ কারাভোগের নির্যাতন সহ্য করতে হচ্ছে।মানুষের ব্যক্তি স্বাধীনতা ও মত প্রকাশের অধিকার ক্ষুণ্ন হচ্ছে এবং বাংলাদেশের জনগণের প্রাইভেসি বা ব্যক্তি স্বাধীনতার ওপর সরকার নগ্ন হস্তক্ষেপ চালাচ্ছে।

এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজিব ওয়াজেদ জয়কে হত্যার ষড়যন্ত্রের সাথে সাংবাদিক শফিক রেহমান যে জড়িত তা আমেরিকা থেকে প্রাপ্ত তথ্য থেকেই জানা গিয়েছে বলে মন্তব্য করে মতিয়া বলেন,এই তথ্য সেই আমেরিকা থেকেই পাওয়া গেছে যাকে আপনারা (বিএনপি-জামায়াত) কথায় কথায় কুর্ণিশ করেন, যাদের তথ্য রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করেন।

এদিকে, বেগম খালেদা জিয়াকে বাংলাদেশের লেডি লাদেন হিসেবে আখ্যায়িত করে বেগম মতিয়া আরও বলেন, উনি শবে বরাতের রাতে বাসে বোমা মেরে কুমিল্লায় মানুষ হত্যা করেন, আবার মানবাধিকারের কথা বলেন।

বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত করে মতিয়া আরও বলেন, এরা সব সময় মানুষ মারে। যখন ক্ষমতায় থাকে তখনও মানুষ মারে এবং যখন বিরোধী দলে থাকে তখনও মানুষ মারে।

মতিয়া বলেন, মানুষ মারার এই সংস্কৃতি চালু করেছিলেন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান। তিনি এক হাতে ভাত খেতেন অন্য হাতে ফাঁসির আদেশ লিখতেন।

কেবি