বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, সার্চ বা অনুসন্ধান কমিটি কতটুকু নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন কমিশন গঠন করতে পারবে সে বিষয়ে জনমনে তীব্র সন্দেহ সৃষ্টি হওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে।
অনুসন্ধান কমিটির আগের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, নির্বাচন কমিশন গঠনে এক ব্যক্তির ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটেছে এবং অনুসন্ধান কমিটির বাটন ছিল প্রধানমন্ত্রীর হাতে। এবারও এর ব্যতিক্রম হবে না।
রোববার দুপুরে নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, অতীতে নির্বাচন কমিশন নিয়ে যে সংলাপ হয়েছে তার ফলাফল ছিল শূন্য। আপনারা দেখেছেন-সংবিধান থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করার সময় সংসদীয় কমিটি বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, দেশের বিশিষ্ট নাগরিক, সংবিধান বিশেষজ্ঞসহ খ্যাতিমান আইনজীবীদের মতামত গ্রহণ করা হয়েছিল, সেসময় আওয়ামী লীগের নেতা, সংসদ সদস্যসহ সকলেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের বিপক্ষে মতামত দিয়েছিলেন।
কিন্তু শুধুমাত্র এক ব্যক্তির ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটাতে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করা হয়েছিল। একইভাবে বর্তমান নির্বাচন কমিশন গঠনের ক্ষেত্রেও শুধুমাত্র ঐ এক ব্যক্তির ইচ্ছারই প্রতিফলন ঘটেছিল।
তার দাবি, এবারও একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠনের লক্ষ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাথে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপের পরও একতরফাভাবে সার্চ কমিটি গঠন করা হয়েছে, পরবর্তী নির্বাচন কমিশন গঠনে যে এক ব্যক্তির ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটবে না সেটির সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়ার কোন অবকাশ নেই।
বিএনপির এই নেতা বলেন, যেভাবে সরকারের প্রভাবিত ও আওয়ামী মনোভাবাপন্ন লোকদের দিয়ে সার্চ কমিটি গঠন করা হয়েছে তাতে তাদের মাধ্যমে একটি নিরপেক্ষ ও শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন গঠন অসম্ভব। এই অনুসন্ধান কমিটি আওয়ামী শাসকগোষ্ঠীর ছায়াসঙ্গী, বর্তমান ভোটারবিহীন সরকারের বর্ধিত প্রকাশ।
এমএনজে





