বিএনপি-জামায়াতের লাগাতার হরতাল-অবরোধ নিয়ন্ত্রণে আরও কঠোর হচ্ছে সরকার। যেকোনো মূল্যে বিরোধীজোটের আন্দোলন ব্যার্থ করে দেয়ার সিদ্ধান্ত রয়েছে সরকারের। তবে বিশ্ব ইজতেমার জন্য কিছুটা অপেক্ষা। ইজতেমা শেষে পরিস্থিতি রোধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে কালক্ষেপণ করা হবে না বলে কয়েকটি সূত্র থেকে নিশ্চত হওয়া গেছে।

সরকারের উচ্চ পর্যায় ও আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর প্রধানদের বক্তব্যে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘মানুষের জানমাল রক্ষা ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে যা প্রয়োজন তাই করা হবে। হরতাল অবরোধের নামে সন্ত্রাস, বোমাবাজি বন্ধ করুন, আগুন নিয়ে খেললে নিজের হাতই পুড়ে যাবে।

মঙ্গলবার ১৪ দলের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের কাছে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) কার্যকরী কমিটির সভাপতি মাঈনুদ্দিন খান বাদল বলেছেন, নাশকতা ও নৈরাজ্য সৃষ্টি করলে পুলিশ লাঠি চার্জ করবে তাতে যদি না হয়, হাটুর নিচে নয় সরাসরি বুকে গুলি চলবে।

বৃহস্পতিবার বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ বলেছেন, আত্মরক্ষার্থে বিজিবি অস্ত্র ব্যবহার করবে। এছাড়া আর অন্য কোনো পথ নেই। দেশ ও জনগণের স্বার্থে আমরা এ দায়িত্ব পালন করবো।

সূত্র জানায়, বিএনপি-জামায়াতের টানা অবরোধ হরতাল চলাকালে প্রায় ৪ শ' গাড়ি আগুনে পুড়েছে। আগুনে পুড়ে বেশ কয়েকজন মারা যাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে রয়েছে চরম আতঙ্ক। এসব খবরে পরিবহন মালিক সমিতির অনেকেই এখন মহাসড়কে গাড়ি বের করতে চান না। ইতোমধ্যে উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে।

দক্ষিণাঞ্চলে নৌযোগাযোগ ব্যবস্থা সচল থাকলের সড়ক যোগাযোগ ব্যহত হচ্ছে। বরিশাল-ঢাকা রুটটিকে ঝুঁকিপূর্ণ দাবি করেছেন জেলা বাস মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতারা। এই রুটে দিনের বেলায় বাস ও রাতের বেলায় মালবাহী ট্রাক চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

এছাড়া টানা অবরোধে কাচামাল সরবরাহ করতে না পারায় বেশ কয়েকটি শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। আরও শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এমন অবস্থা চলতে থাকলে অর্থনীতি ভেঙ্গে পড়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। আর তা হলে ক্ষমতাসীনদের জন্য তেমন মঙ্গল হবে না।

সূত্র জানায়, বিএনপি নেতৃত্বাধীন বিরোধীজোট এতো হার্ডলাইনে যাবে এমন বিশ্বাস ছিলো না সরকারের। তাদের ধারণা ছিলো- ইজতেমা শুরু হলেই অবরোধ স্থগিত বা শিথিল করা হবে। কিন্তু অব্যাহত অবরোধ সরকারকে ভাভিয়ে তুলেছে। তাছাড়া অবরোধ প্রত্যাহার করার কোনো আলামতও পাওয়া যাচ্ছে না।

জানা গেছে, আগামী ১৮ জানুয়ারি শেষ হবে দ্বিতীয় পর্বের বিশ্ব ইজতেমা। বিশ্ব ইজতেমার কারণে কিছুটা দেখে শুনে পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এই সময়ের মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দিয়ে বিশেষ অভিযান চালানোর বিষয়টিও সরকারের চিন্তা-ভাবনায় রয়েছে বলে ওই সূত্রগুলো জানিয়েছে। গত বছর ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর সরকার এ ধরনের বিশেষ অভিযান চালিয়েছিলো।

আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা ও মন্ত্রী জানান, পরিস্থিতি যে অবস্থায় এসেছে সেখান থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকারের পিছু হটা বা নরম হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এখন যে পদক্ষেপই সরকার নেবে সেটা সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থান থেকেই নেয়া হবে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে ১৪ দলের সভায় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালও দ্রুতই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হবে বলে দৃঢ়তার সঙ্গে জানিয়েছেন।

সভায় উপস্থিত একাধিক নেতার গণমাধ্যমকে জানান, এ সভায় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে। পাশাপাশি তিনি এ ব্যাপারে ১৪ দলের সহযোগিতাও চেয়েছেন।

এদিকে সরকার সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, কারা অবরোধে সক্রিয়, এর পেছনে কারা রয়েছে সে সব বিষয়ে সরকার খোঁজ খবর নিচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য দ্রুতই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীকে নির্দেশ দেয়া হবে। ১৪ দলের সভায় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীও এ বিষয়ে ইঙ্গিত দিয়েছেন। সভায় তিনি (স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী) বলেছেন, এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের অনেককেই চিহ্নিত করা হয়েছে। দ্রুতই এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ইতোমধ্যে দেশের কয়েকটি জেলায় র‌্যাব-পুলিশ-বিজিবর যৌধ অভিযান শুরু হয়েছে। শুক্রবার সকালে চাঁপাই নবাবগঞ্জের কানসাটে র‌্যাবের সঙ্গে কথিত 'বন্দুকযুদ্ধে' শ্যামপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহ-সভাপতি মতিউর রহমান (৩০) নিহত হয়েছেন।

জেএ