মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার মোল্লাকান্দি ইউনিয়নে নৌকা মার্কার সমর্থনকৃত গ্রামগুলোতে ককটেল হামলা করে শতাধিক বাড়ী ঘরে ব্যাপক ভাংচুর চালিয়েছে স্বতন্ত্রপ্রার্থী মহসিনা হক কল্পনার সমর্থকরা। হামলায় শিশুসহ আহত হয়েছে অন্তত ৬জন।

এ সময় ককটেলের স্প্রিন্টারের আঘাতে ১১ মাসের আব্দুল্লাহ নামের এক শিশু আহত হন। তার মাথায় ককটেলের স্প্রিন্টারের অংশ বিশেষ এসে মাথায় লাগলে শিশুটি আহত হয়। আহতরা হলো সুফিয়ান (৪০), ওমর (৪৫), বোরহান (৪০), ওয়াসিম (৩০) এবং সাহাবুদ্দিন (৩৭) নামের দুজনের নাম পাওয়া গেছে। রবিবার (২২ মে) সকাল থেকে গ্রামগুলোতে কয়েকদফা হামলার ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় গ্রামবাসী সূত্রে জানাযায়, বিদ্রোহী স্বতন্ত্রপ্রার্থী কল্পনার সমর্থীত মেম্বার প্রার্থী স্বপন মেম্বারের নেতৃত্বে দেড় শতাধিক সমর্থক দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র ও ককটেল নিয়ে মুন্সীকান্দি, বেহারকান্দি, ঢালী কান্দি এবং আনন্দ পুর গ্রামের দক্ষিন সমাজের লোকজন একত্রিত করে ককটেল হামলা চালায় আনন্দপুর গ্রামে।

 

বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকরা আনন্দপুর গ্রামে ককটেল ফাটাতে ফাটাতে প্রবেশ করে গ্রামটিতে তাণ্ডব চালায় তারা। এ সময় সৈয়দ হোসেনের দুটি, নুরুদ্দিন দেওয়ানের দুটি, মহিউদ্দিন সিকদারের বাড়ীতে ১টি, গোলাম রব্বানীর ২টি, মুসাগাজীর ১টি, ইউসুফ গাজীর ১টি, নজরুল ইনলামের ৩টি, বিসাই ঢালীর ১টি, দ্বীন ইসলাম ঢালীর ২টি সহ প্রায় শতাধিক ঘরে ব্যাপক ভাঙচুর ও ককটেল হামলা চালানো হয়।

তাছাড়া এলাকায় টানানো নৌকা মার্কার তোরণও ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে। সাধারণ ভোটারদের অভিযোগ, মামলার পলাতক আসামি, ভাড়াটে খুনি, মুখোশধারী সন্ত্রাসী, অস্ত্রধারী এবং ককটেলবাজদের নিয়ে নৌকা সমর্থীত গ্রামগুলোতে হামলা চালাচ্ছে বিদ্রোহীপ্রার্থী আনারস প্রতীকের লোকেরা।

এ নিয়ে এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। এ ছাড়া প্রতিনিয়ত প্রতিপক্ষ ও ভোটারদের হুমকি-ধামকির বিষয়টি তো রয়েছেই। ক্ষতিগ্রস্তরা অভিযোগ করেছেন, এসব বিষয় প্রশাসনের নজরে আনলেও কেউ আমলে নিচ্ছেন না।

শুক্রবার সকাল ১১টার সময় জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও মেম্বারপ্রার্থীদের সাথে মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। মতবিনিময় সভায় নির্বাচনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী ব্যক্তিদের বিরোদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। সেই সাথে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে প্রার্থীদের জানানো হয় ব্যালট নিলে বুলেট আছে। আচরণবিধিকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চালিয়ে আসছে একদল সন্ত্রাসী।

আনন্দপুর গ্রামের ভোটার মুসা গাজী বলেন, আমরা নির্বাচনকে সামনে রেখে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতেছি। কবির মোল্লার লোকজন তিন গ্রামের লোকদের নিয়ে আমাদের নিরীহ লোকদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর চালিয়েছে। আমরা যদি নৌকা মার্কায় ভোট দেই তাহলে আমাদের এলাকা ছাড়া করারও হুমকি দিয়ে যায় তারা।

মোল্লাকান্দি ইউনিয়নে দুইজন প্রার্থী চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন রিপন হোসেন আওয়ামীলীগ মনোনীত সরকার দলীয় প্রতীক নৌকা। আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মহসিনা হক কল্পনা আনারস প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যানপ্রার্থী রিপন হোসেন অভিযোগ করে বলেন, ভোটারদের ভয়-ভীতি প্রদর্শন ও পেশীশক্তির মহড়া চলছে। প্রতিদিন শত শত ককটেল বিস্ফোরন ঘটানো হচ্ছে। তবে ভোটের মালিক জনগণ। শান্তিপূর্ন ভোট এবং ভোট ছিনতাই ঠেকাতে প্রশাসনকে আরো কঠোর অবস্থান নিতে হবে।

অপরদিকে মহসিনা হক কল্পনার সেলফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিকের নাম্বার দেখে ফোন রিসিভ করেননি।

এ বিষয়ে মুন্সীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইউনুছ আলী ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, মোল্লাকান্দি ইউনিয়নে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। কয়েক দফা ধাওয়া করে বিস্ফোরণকারীদের এলাকা ছাড়া করতে সক্ষম হয়েছি। এখানে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনেরও আশ্বাস দেন তিনি।

অপরদিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে মুন্সীগঞ্জ সদর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) কাউসার কোরায়েশি জানান, ঘটনার পর থেকেই এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

এমআইএস