“ভারতের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তির মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলো যখন সামনে আসে, তখন জঙ্গিবাদের মতো ভয়ংকর ইস্যুগুলোকে বায়োস্কোপের মতো জনগণের সামনে নিয়ে আসা হয়” বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ।

আজ সোমবার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে রিজভী এই অভিযোগ করেন।

রিজভীর অভিযোগ, “জঙ্গিবাদ ইস্যুকে জনগণের কাছে অন্ধকারে রেখেছে সরকার। ফলে এ নিয়ে জনগণের মধ্যে সর্বদা আতঙ্ক বিরাজ করছে। আজ এক জায়গায় এক ঘটনা ঘটছে তো কাল আবার আরেক জায়গায় আরেক ঘটনা ঘটে যাচ্ছে। কিন্তু সরকার সর্বদা জঙ্গিবাদ ইস্যুকে জিইয়ে রেখে নিজেরাই রাজনৈতিক মুনাফা তোলার চেষ্টা করছে। ”

তিনি আরও বলেন, “যখনই কোনো জঙ্গিবাদী ঘটনা ঘটে, তখনই প্রধানমন্ত্রী বলে থাকেন, জঙ্গিবাদকে নির্মূল করা হবে। কিন্তু দেশবাসী প্রত্যক্ষ করছে, নির্মূল হওয়া তো দুরে থাক, বরং ভারতের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তির মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলো যখন সামনে আসে, তখন জঙ্গিবাদের মতো ভয়ংকর ইস্যুগুলোকে বায়োস্কোপের মতো জনগণের সামনে নিয়ে আসা হয়।”

জঙ্গিবাদ নির্মূল করতে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার দাবি জানান রিজভী।

প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন ভারত সফরের বিষয়ে রিজভী বলেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের ৪টি প্রতিরক্ষা সমঝোতা স্মারকসহ ১৭টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সইয়ের জন্য চূড়ান্ত হয়েছে বলে গণমাধ্যমে খবর বেরিয়েছে। সমঝোতা স্মারকে প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা, এই শিল্পের বিকাশে যৌথ উদ্যোগ, প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, মহাকাশ প্রযুক্তি, গবেষণা ও সামুদ্রিক অবকাঠামো উন্নয়নে একে অন্যকে সহযোগিতার কথা বলা আছে।

সত্যিকার অর্থে এসব সমঝোতা স্মারকের পেছনে ভয়ংকর উদ্দেশ্য লুকিয়ে আছে। যা সরকার জনগণের সামনে প্রকাশ করছে না। ভারতের সঙ্গে প্রতিরক্ষা বা সমঝোতা স্মারক যা–ই স্বাক্ষর হোক না কেন, তা বাংলাদেশের জন্য কোনো মঙ্গল বয়ে আনবে না। বরং তা হবে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি চরম আঘাত। দেশের নিরাপত্তা গুম করে দেওয়া হবে ভারতের কাছে।

ভারতের কমনসেন্স থাকা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি বলেন, “ভারত একটি বৃহৎ গণতান্ত্রিক দল, সেখানে অনেক বুদ্ধিমান ব্যাক্তি রয়েছে। বাংলাদেশের মানুষ কি ভাবছে এটা না ভেবেই যদি সিদ্ধান্ত নেয় তবে বুঝতে হবে ভারত বাংলাদেশকে তাদের উপরাষ্ট্র বানাতে চায়।”

রিজভী বলেন, ভারত যদি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হয় তবে অবশ্যই বাংলাদেশের মানুষের চাওয়া পাওয়ার দিকে নজর দিবে।

বেগম খালেদা জিয়া ভারতের সাথে চুক্তির প্রতিবাদে কোনো কথা বলেছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, খালেদা জিয়া ভারতের সাথে দেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কথা বলেন। আমরা বিদেশে বন্ধু চাই প্রভু নয়।

কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ এনে তিনি বলেন, বিএনপির প্রার্থী কে বিভিন্ন সময় হুমকি ধামকি দেয়া হচ্ছে। নির্বাচনী প্রচারণায়ও চলছে অনিয়ম।

এমবি