রাজধানীর শ্যামলী এলাকা থেকে ছাত্র শিবিরের ছয় নেতা-কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার বিকেলে লেগুনা গাড়িতে করে যাবার সময় শ্যামলী এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

আটককৃতদের মধ্যে রয়েছে জসিম, আবদুল্লাহ, সজিব, বায়জীদ, শাহাদাত ও আব্দুল মান্নান।

আটককৃতরা বর্তমানে ডিসি ডিবি নাজমূলের তত্ত্বাবধানে রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে, এ বিষয়ে এখনো পুলিশের কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে পাঠানো এক প্রেস বার্তায় বলা হয়, শনিবার রাতে বাসায় ফেরার পথে শেরেবাংলানগর থানা পুলিশ কর্তৃক রাজধানীর শ্যামলীতে লেগুনা গাড়ি থেকে শিবির নেতা ও কাজী পাড়া মাদ্রাসার ছাত্র জসিম উদ্দিন, ঢাকা পলিটেকনিকের ১ম বর্ষের ছাত্র সজিব, ঢাকা সিটি কলেজের ছাত্র আব্দুল মান্নান ও আব্দুল্লাহকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তবে, গ্রেপ্তারের পর পুলিশ তা অস্বীকার করায় প্রেস বার্তায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন শিবির নেতৃবৃন্দ ও গ্রেপ্তারকৃত পরিবারের সদস্যরা।

যৌথ বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি আবদুল জব্বার ও সেক্রেটারি জেনারেল মো. আতিকুর রহমান বলেন, বাসায় ফেরার পথে লেগুনা গাড়ি থেকে তাদের আটক করে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। কিন্তু অভিভাবকরা তাদের অবস্থান জানতে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তার সাথে দেখা করলে তারা তাদের গ্রেপ্তারের কথা অস্বীকার করে।

প্রেস বার্তায় অভিযোগ করা হয়, প্রকাশ্য দিবালোকে গ্রেপ্তারের পর পুলিশের এমন সরাসরি অস্বীকার নানা আশঙ্কার জন্ম দিয়েছে। অন্যায়ভাবে নিরাপরাধ ছাত্রদের গ্রেপ্তার করে অস্বীকার করা বাংলাদেশের প্রচলিত আইনের চরম লংঘন। আইনের রক্ষকদের এমন বেআইনি আচরণ কোন ভাবেই কাম্য নয়।

শিবির নেতারা বলেন, একটি বিশেষ গোষ্ঠীর ইশারায় ইতিমধ্যেই দেশের বিভিন্ন স্থানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কথিত বন্দুক যুদ্ধের নামে নিরাপরাধ মেধাবী ছাত্রদের হত্যা করেছে। গত ১ ফেব্রুয়ারি ঐ এলাকা থেকে শিবির নেতা এমদাদ উল্লাহকে গ্রেপ্তারের পর অস্বীকার করে রাতের আধাঁরে হত্যা করে পুলিশ, যা আমাদের উদ্ধেগকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

প্রেস বার্তায় তারা আরও বলেন, সংগত কারণেই তাদের পরিবারের সাথে সাথে আমরাও গ্রেপ্তারকৃতদের জীবন নিয়ে শঙ্কিত। অবিলম্বে আমরা গ্রেপ্তারকৃতদের অবস্থান নিশ্চিত ও মুক্তি দিতে আইনি প্রক্রিয়া অনুস্বরণ করার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবী জানাচ্ছি।

কেবি