ব্যাংকে চলমান দুর্নীতি রোধ করা না গেলে ব্যাংকের প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলবে সাধারণ মানুষ বলে মন্তব্য করে বলেছেন বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশিদ।

বৃহস্পতিবার সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।

তিনি বলেন, যেভাবে ব্যাংকে দুর্নীতি হচ্ছে, সাধারণ গ্রাহকদের টাকা লুটপাট হচ্ছে, বিদেশে অর্থ পাচার হচ্ছে তা রোধে ব্যর্থ হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

তিনি আরো বলেন, বেসিক ব্যাংকের চেয়ারম্যান ৩ হাজার কোটি টাকা মেরে বিদেশে পাচার করেছে। অথচ সে রয়েছে ধরা ছোঁয়ার বাইরে। বাংলাদেশ ব্যাংক তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিতে পারেনি। এই টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক পাচারকারীদের টাকা ফেরৎ চেয়েছে।

সুইস ব্যাংক কোনদিন টাকা পাঠাবে না। এটা তাদের গোপন বিষয়। বিদেশে যে অর্থ পাচার হয়েছে তা ফিরেয়ে আনার যে উদ্যোগ বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়েছে তা শুধুই লোক দেখানো।

কাজী ফিরোজ রশিদ বলেন, সুইস ব্যাংকে যে টাকা রয়েছে তা ফিরিয়ে আনা অসম্ভব। কারণ সুইস কর্তৃপক্ষ এটা তাদের অভ্যন্তরীণ গোপন বিষয় বলে মনে করে। যে কারণে ওই টাকা ফেরৎ আনা প্রায় অসম্ভব।

তিনি অর্থমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, যারা সোনালী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংকের টাকা লুটপাট করেছে, হলমার্ক কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তা আইনের দীর্ঘসূত্রতায় আটকে গেছে।

অর্থমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘এখনই লাগাম টেনে ধরুন। যারা ব্যাংক খাতে দুর্নীতি করেছে তাদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি দিন। নয়তো ব্যাংক থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে সাধারণ মানুষ। এই দায় আপনি এড়াতে পারবেন না।’

ঢাকা, ৩ জুলাই (টাইমনিউজবিডি.কম)//এসএইচ