এবার মহাসচিবকে নিয়ে এরশাদের জাতীয় পার্টিতে নতুন সঙ্কট দেখা দিয়েছে। বর্তমানে মহাসচিবের দায়িত্বে থাকা জিয়া উদ্দিন আহমেদ বাবলুর উপর আস্থা রাখতে পারছেন না পার্টির সিনিয়র অনেক নেতা। তিনি মহাসচিব হওয়ার পর থেকে পার্টিতে কয়েকটি গ্রুপও সক্রিয় হতে দেখা গেছে।
তাছাড়া, কখনো তিনি সুসম্পর্ক তৈরির জন্য সরকারের পক্ষে বক্তব্য দিচ্ছেন। কখনো আবার সরকার বিরোধী বক্তব্যে ব্যস্ত থাকছেন। এ নিয়েও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, এরশাদের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহচর রুহুল আমিন হাওলাদার ১৩ বছরের বেশি সময় ধরে জাতীয় পার্টির মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করছিলেন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এ পদের দায়িত্ব দেওয়া হয় প্রেসিডিয়াম সদস্য জিয়া উদ্দিন আহমেদ বাবলুকে। দলে পদের পরিবর্তন আসতে পারে কিন্তু হঠাৎ করে কেন এ পরিবর্তন? এমন প্রশ্ন তখন বাসা বাঁধে জাপার নেতাকর্মীসহ অনেকেরই মনে। সরকার বিরোধী বক্তব্য ও অবস্থানের কারণে আওয়ামী লীগ রুহুল আমিন হাওলাদারের উপর নাখোশ হয়ে পড়ে বলে সে সময় ব্যাপক ভাবে আলোচিত হয়। সে সুযোগকে কাজে লাগান জিয়া উদ্দিন আহমেদ বাবলু। মহাসচিব হওয়ার আগ পর্যন্ত রওশন এরশাদের সাথে তার সম্পর্কও ভালো ছিলো। সরকারের সাথে ভালো সম্পর্ক থাকার কারণে পার্টির চেয়ারম্যান হসেইন মুহম্মদ এরশাদও বাবলুর প্রতি সুদৃষ্টি দেন। বাবলুকে কাজে লাগিয়ে মামলা থেকে শুরু করে নানা কাজে সরকারের সহযোগিতা পাওয়া যাবে এমন আশায় এরশাদ তখন বাবলুকে মহাসচিব করেন খোদ জাপা নেতাদের ধারণা।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বাবলুকে মহাসচিব করার পর থেকে শুরু হয় নানা কাহিনী। মহাসচিব হওয়ার পর থেকে সাবেক মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার, এরশাদের ভাই ও দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য জিএম কাদের, প্রফেসর দেলোয়ার হোসেন খান ও তাজুল ইসলাম চৌধুরীসহ সিনিয়র বেশ কয়েকজন নেতার সাথে বাবলুর দূরত্ব বাড়তে থাকে। দীর্ঘদিন পর গত এপ্রিলে অনুষ্ঠিতব্য পার্টির যৌথ সভায় এসব নেতারা অনুপস্থিত থাকেন। অবশ্য তারা অনুপস্থিতির পিছনে নানা দোহাই দেখিয়েছিলেন।
কোনোভাবেই মহাসচিব হিসেবে তারা বাবলুকে মেনে নিতে পারছিলেন না। বর্তমান মহাসচিবের সঙ্গে জিএম কাদের, রুহুল আমিন হাওলাদার ও ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদের দ্বন্দ্ব অনেকটাই প্রকাশ্য রুপ ধারণ করেছে।
গত জুন মাসে রাজশাহীতে অনুষ্ঠিত হয় জাপার কাউন্সিল। ওই কাউন্সিল অধিবেশনে মহাসচিবের পরে বক্তব্য রাখেন প্রেসিডিয়াম সদস্য আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। সেখানেও তাদের বক্তব্যের মধ্যে পরস্পরের প্রতি দ্বন্দের স্পষ্টতা রূপ নেয়।
গত ২৫ জুন রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে মৎস্যজীবী দলের সমাবেশে জাপা প্রেসিডিয়াম সদস্য জিএম কাদের সরকার বিরোধী ও নিজ দলের কর্মকান্ডের সমালোচনা করে বক্তব্য রাখছিলেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে জিয়া উদ্দিন আহমেদ বাবলু সমাবেশ স্থল ত্যাগ করেন। পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের উপস্থিতিতে ওই ঘটনা ঘটে।
আর নিজ পদ ছাড়ার পর থেকে রুহুল আমিন হাওলাদারের সাথে বাবলুর সম্পর্কের দূরত্ব তো লেগেই আছে। প্রত্যেকেই তাদের কর্মী সমর্থক নিয়ে গ্রুপিংয়ে ব্যস্ত।
জাপার একজন প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক দুই বারের মন্ত্রী বলেন, সরকারের সমালোচনা করায় মহাসচিব সভাস্থল ত্যাগ করলেন। অথচ শুক্রবার শ্রমিক পার্টির ইফতার পার্টিতে নিজে সরকার বিরোধী বক্তব্য দিয়েছেন জিয়া উদ্দিন আহমেদ বাবলু। পরে সেখানে পার্টির চেয়ারম্যান বক্তৃতার সময়ও তিনি পাশে দাঁড়িয়ে থেকে সরকার বিরোধী বক্তব্য দেওয়ার জন্য উৎসাহ দিয়েছেন। কখনো তিনি সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছেন আবার কেউ সরকারের বিপক্ষে বললে তার উপর ক্ষেপে যাচ্ছেন। আসলে তার অবস্থানটা কী?
বিরোধী বক্তব্য দিলে সরকারকে কব্জা করতে গিয়ে তাকে মন্ত্রী পদ দিতে পারে এমন কোনো ব্যাপারও মহাসচিবের মধ্যে থাকতে পারে বলে জাপার ওই সিনিয়র নেতার ধারণা।
এছাড়া মহাসচিব পদ টিকিয়ে রাখার জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীকে দিয়ে এরশাদের সাথে কথা বলিয়েছেন বলেও জাপার একজন প্রেসিডিয়াম সদস্য দাবি করেছেন। পদ টিকিয়ে রাখা আর নিজের অবস্থান শক্ত করার জন্য অনেক কিছুই করছেন মহাসচিব- এমনটাই দাবি জাপার কয়েকজন নেতার। এর অংশ হিসেবে যুগ্ম-মহাসচিব রেজাউল ইসলাম ভুঁইয়াকে অতিরিক্ত মহাসচিব করা হচ্ছে বলেও জানা গেছে। উল্লেখ্য রেজাউল ইসলাম ভুঁইয়া বর্তমান মহাসচিবের আর্শীর্বাদপুষ্ট।
দলের মহাসচিব নিয়ে নানা কাহিনীর বিষয়ে জাপার কোনো নেতা সরাসরি মুখ খুলতে চান না।
কথা হয় প্রেসিডিয়াম সদস্য সাবেক মন্ত্রী কাজী ফিরোজ রশিদের সাথে। মহাসচিব প্রসঙ্গ তুললে তিনি বলেন, এটা নিয়ে আমার কিছু বলার নেই। মহাসচিব নিজেই এ ব্যাপারে ভালো বলতে পারবেন।
আর দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও এরশাদের পলিটিক্যাল সেক্রেটারি সুনীল শুভ রায় বলেন, বড় দলে অনেক বিভেদ থাকতে পারে। এটা সাধারণ ব্যাপার।
আর মহাসচিব জিয়া উদ্দিন আহমেদ বাবলুর সঙ্গে সথা বলতে চাইলে তিনি মোবাইল ফোন কেটে দেন।
উল্লেখ্য, গত সংসদ নির্বাচনের বেশ কিছুদিন আগে থেকে জাপাতে একের পর এক সঙ্কট চলছে। এবার মহাসচিব নিয়ে নতুন সঙ্কটে দলটি। সূত্র: শীর্ষ।
ঢাকা, ০৬ জুলাই(টাইমনিউজবিডি.কম)//এনএস





