নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে সব দলের অংশগ্রহণমূলক মধ্যবর্তী নির্বাচনের দাবীতে চলমান আান্দোলনকে রাজনৈতিক সংকট বিবেচনায় জাতিসংঘসহ অন্যান্য দেশের সংলাপের তাগিদ দেয়াকে ইতিবাচক দেখছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট।

জোটের নেতারা মনে করছেন এর মাধ্যমে তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার আন্দোলন কেবল দেশের জনগণের নয় আন্তর্জাতিক মহলেরও স্বীকৃতি পাচ্ছে।

আর এজন্য তারা মনে করছেন চলমান সংকট থেকে উত্তরনের জন্য সংলাপের কোনো বিকল্প নেই।

সম্প্রতি ইইউ পার্লামেন্টের মানবাধিকার প্রতিনিধি দলের বাংলাদেশ সফর, সংলাপের মাধ্যমে সংকটের সমাধানের জন্য জাতিসংঘের মহাসচিবের বিবৃতি ও বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরির সঙ্গে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলীর বৈঠকেও সংলাপের তাগিদকে অনেকটাই স্বস্তি এনে দিয়েছে ৫ জানুয়ারি থেকে আন্দোলনরত বিরোধী শিবিরে।

যদিও ক্ষমতাসীনদের পক্ষ থেকে বারবার সংলাপের বিষয়টি জোড়ালোভাবেই নাকচ করা হচ্ছে। তবুও দেশি-বিদেশি চাপে শেষ পর্যন্ত সরকারকে সংলাপের মাধ্যমেই সমঝোতার চেষ্টা করতে হবে রাজনৈতিক অভিজ্ঞমহল এমনটাই মনে করছেন।

এক্ষেত্রে জাতিসংঘ মহাসচিব  বান কি মুনের সংলাপের প্রস্তাবকে ২০ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার স্বাগত জানানোকে অনেকটাই সুবিধাজনক অবস্থানে রেখেছে বিরোধী জোটকে।

কারণ বিএনপি নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট বরাবরই আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানে আগ্রহী তা এই অবস্থানের মাধ্যমে আরেকবার প্রমাণিত হল।

বিএনপির কয়েকজন নেতা মনে করছেন জাতিসংঘের সদস্য দেশ হিসেবে বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংঘাতে প্রাণহানির ঘটনায় আন্তর্জাতিক সংস্থা হিসেবে নীরব থাকতে পারে না। চলমান সংকট নিরসনে জাতিসংঘ কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারে। এছাড়াও বিশ্বের গণতন্ত্রকামী সব দেশকে এই সংকট সমাধানে এগিয়ে আসবে।

দলটির নেতারা আরও মনে করছেন সরকার যতই চলমান গণতান্তিক আন্দোলনকে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বলে প্রচার করুক তাতে বিশ্ববাসী আর বিশ্বাস করছে না। সরকার ও বিরোধী জোটের সঙ্গে সংলাপের তাগিদেই তার বড় প্রমাণ।

জাতিসংঘের মহাসচিবের সংলাপ আহ্বানের বিষয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে দলের যুগ্ম মহাসচিব সালাহ উদ্দিন আহমদেএক বিবৃতিতে বলেছেন, নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার ব্যবস্থায় নির্বাচনের লক্ষ্যে জাতিসংঘসহ সকল পক্ষের অর্থবহ সংলাপের উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই।

তিনি আরও বলেছেন, সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষার নামে সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক ও অগণতান্ত্রিক কায়দায় প্রসহনমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করে আওয়ামী লীগ এখন বাংলাদেশের স্বাধীনভূমি চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত নিতে চায়। সরকারের এই স্বপ্ন কখনোই পূরণ হবে না।

সংলাপের মাধ্যমে চলমান সংকটকে সমাধানের আন্তর্জাতিক উদ্যোগকে বিএনপি কীভাবে দেখছে এমন প্রশ্নের জবাবে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জে. (অব.) মাহাবুবুর রহমান টাইমনিউজবিডিকে বলেন, চলমান সংকট নিরসনে জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন দুই নেত্রীকে চিঠি দিয়েছেন।

বিশ্বের অনেক দেশেই সংলাপের মাধ্যমে সংকট নিরসন দেখতে চায়। এটা নিয়ে অন্য কিছু ভাববার কোনো অবকাশ নেই। গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে বাংলাদেশের সমস্যা সমাধানের দায়িত্ব তাদের।

অন্যদিকে বাংলাদেশ জাতিসংঘের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। জাতিসংঘের শান্তি মিশনেও বাংলাদেশের অনেক ভূমিকা রয়েছে। তাই চলমান সংকট নিরসনে জাতিসংঘের ভূমিকা আরও কার্যকর হওয়া উচিত।

বিএনপির উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদিন টাইমনিউজবিডিকে বলেন, সরকার সংলাপের ব্যাপারে যতই নেতিবাচক মনোভাব দেখাক দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে চাইলে সংলাপের পথে আসতে হবে।কারন শুধু দেশের জনগণ নয়, আন্তর্জাতিক বিশ্বও সংলাপের পক্ষে।

জাতিসংঘসহ অন্যান্য দেশের সংলাপের উদ্যোগ চলমান আন্দোলনের জন্য কতটা ইতিবাচক এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিএনপি শুরু থেকেই আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে চলমান রাজনৈতিক সংকটের সমাধান চেয়েছে।দেশের জনগণও সেটাই চায়। এখন বহি:বিশ্বও সংলাপের মাধ্যমে সমাধানের কথা বলছে।এটি আমাদের আন্দোলনের যৌক্তিকতা প্রমাণ করছে।

এমএইচ/এসএইচ