বিএনপি চেয়ারপার্সন ও ১৯ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতা খালেদা জিয়ার বলেছেন,দেশকে তাবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে যৌথবাহিনী দিয়ে সারা দেশে বেছে বেছে দেশপ্রেমিক যুবকদের হত্যা করা হচ্ছে।
শনিবার রাত ৯টায় গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে কাজী জাফরের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টির ১৮ দলে যোগদান উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন,বেগম জিয়া বলেন,‘আমরা এখন আর ১৮ দল নয়, ১৯ দলে সম্প্রসারিত হয়েছি। আজ ২৫ জানুয়ারি গণতন্ত্র হত্যা দিবস। এই দিনেই জন্ম নিল ১৯ দল। আপনারা জানেন ১৯ সংখ্যাটি লাকি। ইনশাল্লাহ ২০১৪ সালের মধ্যে ১৯ দলীয় জোটই দেশের জন্য বয়ে আনবে শুভ বার্তা, শুভ ফলাফল এবং জনগণের কল্যাণ।
সরকারের সমালোচনা করে খালেদা জিয়া বলেন, আওয়ামী লীগ হচ্ছে লুটপাটের দল। এরা গণতন্ত্র, মানবাধিকারে বিশ্বাস করে না। অর্থবিত্তের প্রতি তাদের একমাত্র লোভ। সেটা আমরা বিগত দশম জাতীয় নির্বাচনের হলফনামায় দেখেছি। এটি এমন একটি দল, কয়লা ধুলে যেমন ময়লা যায়না। আওয়ামী লীগের অবস্থাও তাই। এদের চরিত্র কোনদিন পরিবর্তন হবে না। এরা মুখে যা বলে কাজে তা বিশ্বাস করে না।
তিনি বলেন, আওয়ামী নেতারা জনগণের টাকা লুটপাট করে হাজার হাজার কোটি টাকা অবৈধভাবে উপার্জন করেছে। আমরা ৭১ থেকে ৭৫ পর্যন্ত আওয়ামী দু:শাসন দেখেছি। দেশে দুর্ভিক্ষ থাকলেও আওয়ামী নেতারা ছিলেন অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত সবল।
খালেদা জিয়া আরো বলেন, নিশ্চিত পরাজয় জেনে মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়ে এরা একদলীয় নির্বাচন করেছে। কিন্তু আমাদের ডাকে সারা দিয়ে দেশের ৫ শতাংশ মানুষও ভোট দিতে যায় নি। কারণ মানুষ এই সরকারকে আর ক্ষমতায় দেখতে চায় না।
সরকারের প্রতি হুঁশিয়ারী দিয়ে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, ‘৫ বছর নয়, কয়দিন ক্ষমতায় থাকতে পারবেন হাতে গুনে রাখুন। সময় বেশী নাই।’
আওয়ামীলীগকে ফ্যাসিস্ট দল আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের জমা দেওয়া হলফনামায় বের হয়েছে আওয়ামী লীগের লোকেরা কত টাকা কামিয়েছে। জনগণকে গরিব বানিয়ে তারা কোটিপতি হয়েছে। তাদের রক্তে দুর্নীতি।’
সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, জরিপে উঠেছে বাংলাদেশের ৯০ ভাগ মানুষ নিদর্লীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন চায়। কিন্তু আওয়ামী লীগ কোন কিছু পাত্তা না দিয়ে জবরদস্তি করে নির্বাচন করেছে। তাদের সাথে কোন দল অংশ নেয়নি। মানুষ ভোট দেয়নি। ভোট কেন্দ্রে মানুষ নাই, কুকুর বসে আছে। জনগণ আওয়ামীলীগকে প্রত্যাখান করেছে। ৫ শতাংশ মানুষও ভোট দেয়নি। এটা নির্বাচন নয়, তামাশা।’
এরশাদকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন,‘তিনি সুবিধাবাদী। একেক সময় একেক দিকে কথা বলে। কোনটা সঠিক কোন সঠিক না, তা বুঝা যায় না।
সরকারকে অবৈধ আখ্যা দিয়ে খালেদা বলেন, জনগণের ভোটে তারা ক্ষমতায় আসেনি। তাই তারা অবৈধ। আমাদের আন্দোলন অবৈধ সরকারকে হটানোর জন্য। বর্তমান সরকার টিকে এসেছে অস্ত্র ও বন্দুকের জোরে। আর আছে যৌথবাহিনী। এদের দিয়ে সারাদেশে বিরোধীদলের নেতা-কর্মীদের হত্যা করা হচ্ছে।
বিএনপির চেয়ারপারসন বলেন,‘আমরা যখন ক্ষমতায় ছিলাম হাসিনার নির্দেশে তখন আওয়ামী লীগ গান পাউডার দিয়ে বাসে মানুষ হত্যা করেছে। যে দলের প্রধান বলে একটার বদলে ১০ টা লাশ পড়বে। তার হাতে দেশ নিরাপদ নয়। বাংলাদেশকে নিয়ে নানা মুখী ষড়যন্ত্র চলছে। এই সব মোকাবেলা করতে হলে আপনাদের মত সৈনিক ও জনগণকে পাশে লাগবে।
আওয়ামী লীগ গত ৫ বছর লুট করেছে মন্তব্য করে তিনি সরকারের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘এখন আবার তারা লুট করবে। তারা বলে ৫ বছর ক্ষমতায় থাকবে, ৫ বছর নয়, কয় দিন ক্ষমতায় থাকতে পারবেন হাতে গুনে রাখুন। সময় বেশী নাই।’
খালেদা জিয়া বলেন, ‘সরকার যতই চিল্লাক বা মিথ্যা বলুক। আমরা তাদের মত করে কিছু বলবো না। আমরা মানুষের সঙ্গে থাকবো, দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য কাজ করবো। এটাই দুই দলের মধ্যে পার্থক্য।’
তিনি বলেন, ‘৫ জানুয়ারীর নির্বাচনে আওয়ামীলীগ জিতে নাই, হেরেছে। আমরা জিতেছি। নির্বাচনে না জেতায় হিন্দুদের ওপর নির্যাতন করছে তারা। ইতোমধ্যে যে কয়টা ধরা পড়েছে, সবাই তাদের লোক। তাই আমরা আমাদের দলের পক্ষ থেকে তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। তদন্ত সবকিছু বেরিয়ে আসবে।’
আওয়ামী লীগকে সীমান্ত পাড়ি দেওয়া মুক্তিযোদ্ধাদের দল মন্তব্য করে খালেদা জিয়া বলেন, বিএনপির মুক্তিযোদ্ধারা রনাঙ্গনের। তাই ১৯ দল হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধাদের দল। আন্দোলন সংগ্রামে আমরা সফল হবোই, যতই ষড়যন্ত্র হোক এদেশের মানুষ গণতন্ত্র রক্ষা করবেই।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ লোভ লালসা ও ভয়-ভীতি দেখাতে ভালো পারে। তবে এসবের কাছে আমাদেরকে মাথা নত করা যাবে না। সৎ ও গণতন্ত্রের পথে থাকতে হবে। তবেই নির্দিষ্ট মনজিলে পৌছাতে পারবো। সেই মনজিল বেশি দূর নয়। জয় আমাদের হবেই।
এর আগে সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে কাজী জাফর বিএনপির গুলশান কার্যালয়ে পৌঁছান। তবে বৈঠক শুরু হয় রাত পৌনে ৯টায়।
বৈঠক শুরুর আগে ১৮ দলীয় জোট নেতা খালেদা জিয়াকে ফুলের তোড়া দিয়ে শুভেচ্ছা জানান কাজী জাফর।
অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান কাজী জাফর আহমেদ, এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন।
এই সময় আরো উপস্থিত ছিলেন অনুষ্ঠানে জাপা‘র সভাপতিমন্ডলীর সদস্য টি আই এম ফজলে রাব্বী, কাজী মাহমুদ হাসান, এস এম এম আলম, এইচ এম গোলাম রেজা, গোলাম মোস্তফা বাটুল, সৈয়দ শফিউল্লাহ, এম কে আলম চৌধুরী, নবাব আলী, মনিরা বেগম প্রমুখ।
এসময় বিএনপি নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন,লে. জে. (অব.) মাহবুব, আর এ গণি, মির্জা আব্বাস, ড. মঈন খান, বেগম সারোয়ারী রহমান এবং দলের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান।
যোগদান অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ডা. রেদোয়ান উল্লাহ শাহিদী, ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আব্দুল লতিফ নেজামী, বিজেপির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ, কল্যাণ পার্টি চেয়ারম্যান জে. (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইব্রাহিম, জাগপার সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, এনপিপি চেয়ারম্যান শেখ শওকত হোসেন নিলু, এনডিপি চেয়ারম্যান খন্দকার গোলাম মূর্তজা, ন্যাপ চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, ইসলামিক পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আব্দুল মোবিন, মুসলিম লীগের সভাপতি এ এইচ এম কামরুজ্জামান খান, পিপলস লীগের সভাপতি গরিবে নেওয়াজ, ডেমোক্রেটিক লীগের সভাপতি সাইফুদ্দিন মনি প্রমুখ।
ঢাকা, ২৫ জানুয়ারি(টাইম নিউজ বিডি.কম) এমএইচ//এআর





