সরকার বিএনপির জনসভাগুলোকে নিয়ে আতঙ্কিত থাকে এমন মন্তব্য করে বিএনপির দপ্তরের দায়িত্বে থাকা যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, তাই বরারবরের ন্যায় এবারও সরকার বিএনপির কুমিল্লার সমাবেশকে বাধাগ্রস্থ করতে বিভিন্ন ধরণের অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তারই অংশ হিসেবে প্রশাসনের সহায়তায় সমাবেশ উপলক্ষে টানানো ব্যানার ফেস্টুন ছিড়ে ফেলছে।
শুক্রবার সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, জনগণের ম্যান্ডেট ছাড়া একটি পরগাছা সরকার জাতির জন্য অপমানজনক। এই সরকার জনগণের দ্বারা সমর্থিত নয় বলেই নতুন বিশ্ব পরিস্থিতিতে অর্থনৈতিক, জাতি গঠন এবং গণতন্ত্র চর্চার জন্য যে ধরণের পদক্ষেপ গ্রহণ করা দরকার সেটি সচেতনভাবেই অগ্রাহ্য করে শুধুমাত্র ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের তীব্রতা বৃদ্ধি করে মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারগুলোকে ধ্বংস করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সরকারের মুখে দুর্নীতি বিষয়ে কথা এখন রঙ্গরসে পরিনত হয়েছে। রাবিশ ও বোগাস শব্দের ট্রেডমার্ক অর্থমন্ত্রী ‘ঘুষ দেয়া নাকি অবৈধ নয়’-বলে যে ভয়ংকর ফতোয়া দিয়েছেন তাতে অর্থমন্ত্রীর এই কথায় আশকারা পেয়ে সুড়ঙ্গ কেটে ব্যাংক ডাকাতিসহ কাগজ জালিয়াতি করে সরকারী অর্থ আত্মসাৎকারী, ঘুষখোর, নির্লজ্জ দুর্নীতিবাজ এবং রাষ্ট্রের পুঁজি লুন্ঠনকারীরা আরো বেশী দুস্কর্ম করার জন্য উৎসাহে মেতে উঠেছে।
রিজভী বলেন, দুদক আরব্য উপন্যাসের একচোখা দৈত্যের ন্যায় প্রভাবশালী ক্ষমতাসীনদের রেহাই দিয়ে যাচ্ছে। দুদকের ধোয়া মোছার সার্টিফিকেটে পদ্মা সেতু কেলেঙ্কারীতে সৈয়দ আবুল হোসেন, আবুল হাসান চৌধুরীসহ দশজন দায়মুক্তি পেয়েছেন। রেল কেলেঙ্কারীর ঘটনায় সাবেক রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের বিরুদ্ধে অভিযোগের কোনো অনুসন্ধানই হয়নি। অথচ জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলাকে কিভাবে গায়ের জোরে টিকিয়ে রাখা হয়েছে সেটাও দেশবাসী লক্ষ্য করছে।
বিএনপির এই নেতা বলেন, সরকারী শাসনযন্ত্রকে উৎপীড়ণের হাতিয়ারে পরিনত করা আওয়ামী লীগের চিরচেনা সংস্কৃতি। জনগণের দৃঢ় ঐক্য, সাহস ও চেতনায় সর্বস্তরের গণআন্দোলন এখন চুড়ান্ত পরিনতির দিকে এগিয়ে নিয়ে যেয়ে সেই সংস্কৃতিকে সমুলে উপড়ে ফেলতে হবে। জনগণের অধিকার জনগণকে ফিরিয়ে দিতে প্রয়োজনে উন্নত মস্তকে ফাঁসির মঞ্চেও উঠতেও দ্বিধা করবে না এদেশের অধিকারহারা মানুষ।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক সানাউল্লাহ মিয়া, সহ-দফতর সম্পাদক আসাদুল করীম শাহিন প্রমুখ।
এমএইচ





