সাংবাদিকদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে কথা বলার পর জাতীয় প্রেস ক্লাব থেকে বের হবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সোমবার বিকেল থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘অবরুদ্ধ’ অবস্থায় আছেন তিনি।
মির্জা ফখরুলের সঙ্গে জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধান ছাড়াও বিএনপিপন্থী সাংবাদিক নেতারা রয়েছেন। সোমবার রাত তারা প্রেস ক্লাবের গেস্ট রুমে কাটিয়েছেন।
মঙ্গলবার সকাল থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের প্রধান গেইটসহ অন্য দুটি গেইটে পুলিশি প্রহরা জোরদার রয়েছে।
মির্জা ফখরুলের ব্যক্তিগত সহকারী ইউনুস বলেন, স্যার আলাদা করে কোনো মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলবেন না। সবার সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে কথা বলবেন।
এ ব্যাপারে শফিউল আলম প্রধান বলেন, আনুষ্ঠানিকভাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার পর প্রেস ক্লাব থেকে বের হব আমরা।
সিনিয়র এক সাংবাদিক নেতা বলেন, মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলার পর বিএনপির মহাসচিব প্রেস ক্লাব থেকে বের হবেন।
এদিকে মির্জা ফখরুল জাতীয় প্রেস ক্লাব থেকে বের হওয়ার পর পরই তাকে গ্রেফতার করা হতে পারে বলে গোয়েন্দা সংস্থার এক সদস্য জানিয়েছেন।
গত কয়েকদিন ধরেই পুলিশের নজর এড়িয়ে থাকার পর সোমবার বেলা ২টা ৫০ মিনিটে হেলমেট মাথায় দিয়ে সাবেক এক ছাত্রদল নেতার মোটরসাইকেলে করে জাতীয় প্রেস ক্লাবে আসেন মির্জা ফখরুল।
প্রেস ক্লাবের পশ্চিমের মিলানয়তনে সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের উদ্যোগে ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ উপলক্ষে এক সমাবেশে যোগ দেন তিনি। যদিও ওই অনুষ্ঠানে তার যোগ দেওয়ার কথা ছিল না।
সমাবেশ চলার সময়েই ফখরুলকে গ্রেফতারের জন্য বাইরে পুলিশ ও ডিবি অবস্থান নেয়। সমাবেশ শেষে তিনি প্রেস ক্লাবের দোতলায় গিয়ে ক্লাবের সাধারণ সম্পাদকের কক্ষে কিছুক্ষণ বসেন।
এর আগে বিএনপি-জামায়াতপন্থী সাংবাকিদের আলোচনা সভার সময় প্রেস ক্লাবের বাইরে আওয়ামী লীগপন্থী সাংবাদিকদের পৃথক একটি সমাবেশ চলছিল। একপর্যায়ে দুই গ্রপের মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। আওয়ামী লীগ সমর্থিত বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতারা অভিযোগ করেন, মির্জা ফখরুলের সমাবেশ শেষ হওয়ার পরপরই তাদের শান্তিপূর্ণ সমাবেশের পাশে এসে উস্কানি দেওয়া হয়।
তবে বিএনপিপন্থীদের দিক থেকে অভিযোগ করা হয়, প্রেস ক্লাবের বাইরে মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগ নামের একটি সংগঠনের কর্মীরা লাঠিসোটাসহ প্রেস ক্লাবের গেট ডিঙ্গিয়ে তাদের উপর হামলা করে।
বিশৃঙ্খলার এক পর্যায়ে এর পক্ষে-বিপক্ষে সাংবাদিকদের দুটি অংশ পৃথক প্রতিবাদ জানায়।
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, আওয়ামী লীগপন্থী ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শওকত মাহমুদ ও বিএনপিপন্থী ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি রুহুল আমিন গাজী এ নিয়ে কয়েক দফা বৈঠক করেন।
সবশেষে উভয় পক্ষ প্রেস ক্লাবে মির্জা ফখরুলের রাতযাপনের বিষয়ে ঐক্যমতে পৌঁছেন।
এএইচ





