বীর মুক্তিযোদ্ধা, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ-মোজাফফর) নেতা এবং চট্টগ্রামে ১৪ দলের অন্যতম সংগঠক অ্যাডভোকেট আব্দুল মোমেন ভূঁইয়া আর নেই। প্রগতিশীল বিভিন্ন গণআন্দোলনের এ সংগঠকের মৃত্যুতে চট্টগ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
অ্যাডভোকেট আব্দুল মোমেন ভূঁইয়া ন্যাপের কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং চট্টগ্রাম মহানগরীর সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তার বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর।
প্রয়াতের বড় ছেলে সাইফুদ্দিন খালেদ জয় জানান, বার্ধক্যজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার সকাল ৯টায় আব্দুল মোমেন ভূঁইয়া নগরীর একটি বেসরকারী হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।
তিনি স্ত্রী, এক মেয়ে ও তিন ছেলে রেখে গেছেন। তার বাড়ি কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার হিংগুলা গ্রামে। বাসা নগরীর লালখান বাজার এলাকায়।
আব্দুল মোমেন ভূঁইয়ার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে তার রাজনৈতিক সহকর্মী, ১৪ দল ও বিভিন্ন প্রগতিশীল রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের সংগঠকরা তার বাসায় জড়ো হয়েছেন। প্রয়াত এ মুক্তিযোদ্ধাকে শেষবারের মত দেখতে অনেকেই ছুটে যাচ্ছেন তার বাসায়।
ন্যাপের চট্টগ্রাম মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ নাজির জানান, ষাটের দশকে ছাত্র ইউনিয়নের মাধ্যমে আব্দুল মোমেন ভূঁইয়ার রাজনীতির সূচনা হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র থাকা অবস্থায় আব্দুল মোমেন ভূঁইয়া তুখোড় রাজনীতিক মোজাফফর আহমেদের সংস্পর্শে আসেন।
তৎকালীন ছাত্র ইউনিয়নের বাম নেতাকর্মীদের সঙ্গে ষাটের দশকে ঢাকার রাজপথে বিভিন্ন আন্দোলন, সংগ্রামে নেতৃত্বের কাতারে ছিলেন আব্দুল মোমেন ভূঁইয়াও। আন্দোলন, সংগ্রামের বিভিন্ন পথ বেয়ে একসময় তিনি যোগ দেন ন্যাপে। আমৃত্যু সেই সংগঠনেরই নেতৃত্বের কাতারে ছিলেন তিনি।
একাত্তরে রণাঙ্গণে সাহসী ভূমিকা রেখেছিলেন তিনি। পরবর্তীতে সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলনে, চট্টগ্রামে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে আন্দোলনে, বন্দর রক্ষার আন্দোলনে কিংবা বিভিন্ন সাংস্কৃতিক আন্দোলনে, বিভিন্ন সময় দেশের সংকটময় মুহুর্তে সহকর্মীদের নিয়ে রাজপথে নেমেছেন আব্দুল মোমেন ভূঁইয়া।
আব্দুল মোমেন ভূঁইয়ার মৃত্যুতে আওয়ামী লীগ, জাসদ, ওয়ার্কার্স পার্টি, ন্যাপ (মোজাফফর), গণতন্ত্রী পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের নেতারা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
কেএ





