বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে বিশ্ববাসীর সহযোগিতা কামনা করেছে বিএনপি অস্ট্রেলিয়া। শনিবার সন্ধ্যায় বিএনপির ৩৬তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে সিডনির লাকেম্বাস্থ রিমেম্বারেন্স হলে বিএনপি অস্ট্রেলিয়া শাখা আয়োজিত আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে এ আহবান জানানো হয়। অনুষ্ঠানে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী, বাংলাদেশী ও অস্ট্রেলিয়ান নাগরিক উপস্থিত ছিলেন।

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্ট্রাটফিল্ড কাউন্সিলের কাউন্সিলররাজ দত্তএবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অস্ট্রেলিয়া লেবার পার্টির ওয়াটসন শাখার সেক্রেটারি জর্জ আবু সামারা।

এছাড়া প্রধান আলোচক হিসাবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহ-সভাপতি ওবিএনপি অস্ট্রেলিয়ার সিনিয়র যুগ্ন আহবায়ক আরিফুল হক এবং সাবেক ছাত্রনেত্রী এবং অস্ট্রেলিয়ার বিশিষ্ট মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ডঃ নার্গিস বানু।

আলোচনায় আরও অংশ নেন সাবেক সেনাবাহিনী কর্মকর্তা ও বিএনপি অস্ট্রেলিয়ার যুগ্ন আহবায়ক মারুফুল ইসলাম এবং সাবেক ছাত্রনেতা ও বিএনপি অস্ট্রেলিয়ার যুগ্ন আহবায়ক খন্দকার নাফিস আহমেদ।

২০ দলীয় জোটের পক্ষে উপস্থিত ছিলেনখালেদ সাইফুল্লাহ। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপি অস্ট্রেলিয়ার আহবায়কড. হুমায়ের চৌধুরী রানা এবং অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সাবেক ছাত্রনেতা, বাংলাদেশ কমিউনিটি কাউন্সিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট ও অস্ট্রেলিয়া বিএনপির সদস্য সচিব রাশেদুল হক।

কোরআন তিলাওয়াত ও মোনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা শাখাওয়াত হোসেন শাহেদ। অনুষ্ঠানের শুরুতে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় সংগীত, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের দলীয় সংগীত এবং ইসতিয়াক আহমেদ আদনানের প্রযোজনায় জিয়াউর রহমানের উপর একটি ৩০মিনিটের প্রামাণ্য চিত্র ও বাংলাদেশের বর্তমান অবৈধ সরকারের নির্যাতন ও নিপীড়নের চিত্র প্রদর্শন করা হয়।

স্ট্রাটফিল্ড কাউন্সিলের কাউন্সিলর রাজ দত্ত বলেন, অস্ট্রেলিয়ার সামাজিক অবস্থা আগে এরকম ছিলনা। বর্ণবাদ আর বৈষম্যে পূর্ণ ছিল। দীর্ঘ সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আজকের অস্ট্রেলিয়া বহুজাতিক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। তেমনি বাংলাদেশের নাগরিকদের তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার সংগ্রামের মধ্যমে আদায় করে নিতে হবে।

অস্ট্রেলিয়া লেবার পার্টির ওয়াটসন শাখার সেক্রেটারি জর্জ আবু সামারা বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের নির্যাতনের প্রামান্য চিত্র দেখে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘ রাজনৈতিক পথ পরিক্রমার ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং বিএনপির প্রতি নিজের সমর্থন ব্যক্ত করেন।

তিনি আরও বলেন অস্ট্রেলিয়া কখনই বাংলাদেশের বিগত নির্বাচন সমর্থন করে না। এই নির্বাচনে বাংলাদেশের অধিকাংশ নাগরিক ভোট দিতে পারেননি বিধায় বর্তমান বাংলাদেশ সরকার জনরণের ইচ্ছায় প্রতিফলিত সরকার নয় বলে তিনি মনে করেন।

আরিফুল হক বলেন, জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা। তিনি বেঁচে থাকলে বাংলাদেশ আজকে আরো অনেক দূর যেতে পারতো কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য, আজ আমরা আবার বাকশালের শৃংখলে শৃংখলিত। মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েও এই সরকার ক্ষান্ত হয়নি, এবার তারা বাক-স্বাধীনতা আর ন্যায়বিচারের অধিকারও কেড়ে নিতে চায়। বিএনপি বাংলাদেশের জনগণকে নিয়ে এই অবৈধ সরকারকে বিতাড়িত করবেই।

ড. নার্গিস বানুবলেন, আওয়ামী অবৈধ সরকারের মন্ত্রীরা তারেক রহমানের সাম্প্রতিক কথার জবাব না দিতে পেরে গালিগালাজ করছে এতে তাদের অবস্থান জনগনের কাছে আরও পরিস্কার হচ্ছে। এছাড়া মুক্তিযুদ্ধের উপপ্রধান একে খন্দকার তার বইতে তার লেখনি দিয়ে জনগনের কাছে শেখ মজিবের ৭১ ভুমিকা আরও পরিস্কার করেছেন বলে তিনি উল্ল্যেখকরেন।

ড. হুমায়ের চৌধুরী রানা উপস্থিত সকলস্তরের নেতাকর্মী ও নাগরিকদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে বলেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন আদায় করাই অস্ট্রেলিয়া বিএনপির উদ্দেশ্য। এজন্য অবৈধ আওয়ামী সরকারের উপরে দেশী-বিদেশী চাপ প্রয়োগ সহ সর্বাত্মক চেষ্টা করা হবে বলে তিনি জানান।

ঢাকা, ৯ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, এআর