মীর কাসেম আলীর স্ত্রী খন্দকার আয়েশা খাতুন বলেছেন, তার স্বামীকে শহীদি মৃত্যু দান করায় তিনি আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করেছেন।

মৃত্যুর জন্য কোন দু:খ ছিল না তার, স্বাভাবিকভাবেই প্রস্তুত ছিলেন। তবে, পরিবারের সদস্যদের সাথে শেষ সাক্ষাতের সময় ছোট ছেলে মীর আহমাদ বিন কাসেমকে (আরমান) দেখতে না পেয়ে তিনি কেঁদেছিলেন।

শনিবার সন্ধ্যায় মীর কাসেম আলীর সাথে সাক্ষাৎ শেষে কাশিমপুর কারাগার থেকে বের হওয়ার পরে যোগাযোগ করা হলে খোন্দকার আয়েশা এমনটি বলেন।

তিনি বলেন, কারাগারে আটক থাকার পুরো সময়টাতে মামলা পরিচালনার সাথে জড়িত ছিল ছেলে আরমান। যেই ছেলে আইনজীবী হিসেবে বিগত কয়েক বছর একটানা অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন সেই ছেলেকে শেষ দেখা দেখতে না পাওয়ার কষ্টের কথা জানিয়েছিলেন মীর কাসেম।

সাক্ষাতকালে পুরো সময় তিনি স্বাভাবিকভাবে কথা বলেছেন, সবাইকে সান্তনা দিয়েছেন। শুধুমাত্র ছোট ছেলের জন্য তিনি কেঁদেছিলেন।

যে অপরাধের দায়ে মীর কাসেম আলীকে ফাঁসি দেয়া হচ্ছে সেই ব্যাপারে তিনি কি বলেছেন- জানতে চাইলে খন্দকার আয়েশা বলেন, তিনি বলেছেন যে এ ধরনের কোন অপরাধের সাথে তার দূরতমও কোন সম্পর্ক ছিল না। মিথ্যা মামলায়, মিথ্যা স্বাক্ষ্য-প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হচ্ছে।

ক্ষমা চাইবেন না এটা বলার জন্য তো তার হাতে আরো সময় ছিল-এমন প্রশ্ন করলে খন্দকার আয়েশা বলেন, মৃত্যুর জন্য তিনি ভয় পাচ্ছেন, তাই সময় ক্ষেপণ করছেন এমন ধারণা যাতে মানুষের মধ্যে না আসে সেজন্য তিনি ছেলে ফিরে পাবার শর্ত থেকেও ফিরে এসেছেন এবং জেল কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে দিয়েছেন যে তিনি রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাইবেন না ।

পরিবারের সদস্যরা আরো জানান, কেয়ামতের মাঠে পুরো বিশ্ববাসীর কাছে আসল সত্য প্রকাশিত হবে, যারা পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা মামলায় তাকেসহ জামায়াত নেতাদের ফাঁসি দিলেন তাদের বিচার আল্লাহ করবেন-এমন কথা বলেছেন মীর কাসেম আলী।

তিনি সবাইকে ধৈর্য ধারণেরও পরামর্শ দিয়েছেন এবং পরিবারের সবাইকে ইসলাম ধর্মের ওপর অটল-অবিচল থাকার উপদেশ দিয়েছেন বলেও জানান পরিবারের সদস্যরা।

উল্লেখ্য, গত ৯ই আগস্ট রাতে একদল সাদাপোশাকধারী লোক মীর আহমাদ বিন কাসেমকে মিরপুর ডিওএইচএসের বাসা থেকে তুলে নেয়। মীর কাসেম আলীর মামলার অন্যতম আইনজীবী মীর আহমাদ।

মীর কাসেমের মামলা পরিচালনায় ব্যাঘাত সৃষ্টি এবং তাঁকে ন্যায়বিচার পাওয়া থেকে বঞ্চিত করার ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবেই তাঁর আইনজীবী ছেলেকে তুলে নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয় পরিবার ও দলের পক্ষ থেকে।

খন্দকার আয়েশা আরো বলেন, তার স্বামী শহীদ হবেন। যারা মিথ্যা মামলা দিয়ে তাকে মৃত্যুর মুখোমুখি করেছে তারা পরাজিত হবে ইনশাআল্লাহ ।

এর আগে বেলা ৩টা ৪৫ মিনিটে পরিবারের সদস্যরা কাশিমপুর কারাগার কম্পাউন্ডে প্রবেশ করেন। মীর কাসেম আলীর স্ত্রী খন্দকার আয়শা খাতুন, মেয়ে সুমাইয়া রাবেয়া ও তাহেরা তাছনিম, ছেলের স্ত্রী সাইয়েদা তাহমিদ আক্তার ও তাহমিনা আক্তার, বড় ভাই ডা: মীর নাছিম আলী, ভাইয়ের ছেলে মীর ওসমান বিন নাছিম, ভাইয়ের মেয়ে রায়হানা নাছিমসহ ৪৫ জন সদস্য তার সাথে দেখা করতে কারাগারে যান।

তবে কারা কর্তৃপক্ষ স্ত্রী, দুই মেয়ে, দুই ছেলের স্ত্রী, ভাই, ভাতিজা ও ভাতিজিসহ মোট ৩৮ জনকে মীর কাসেম আলীর সাথে দেখা করার অনুমতি দেয় বলে জানা গেছে।

বিকেল ৪টা ৩৫ মিনিটে তাদের সাক্ষাতের জন্য ভেতরে নেয়া হয়। সাক্ষাৎ শেষে ৬টা ৪০ মিনিটে কারাগার থেকে বেরিয়ে যান তারা।

শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় মিরপুর বাসা থেকে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারের উদ্দেশে তারা যাত্রা করেন তারা। এর আগে বিকেল সাড়ে তিনটায় সাক্ষাতের সময় দেয় কারা কর্তৃপক্ষ।

 

কেবি