আগামী ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষের পক্ষে ‘ভোট বিপ্লব’ -এর ডাক দিয়েছেন বাংলাদেশের সংবিধান প্রণেতা ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন। নির্বাচনে প্রচারের শেষদিন সংবাদ সম্মেলনে এসে তিনি ভোটারদের প্রতি এই ডাক দেন।
ড. কামাল হোসেন বলেন, “ধানের শীষ দলের নয়, ঐক্যবদ্ধ জনগণের প্রতীক। এই প্রতীকে ভোট দিয়ে দেশকে মুক্ত করুন।’দেশের মানুষ পরিবর্তন চায়। পরিবর্তনের পক্ষে সারা দেশে গণজাগরণ সৃষ্টি হয়েছে। এই জাগরণ দুঃশাসন থেকে মুক্তির। আশা করি, ৩০ ডিসেম্বর দেশ দলীয়করণমুক্ত হবে। জনগণ দেশের মালিক হবে।”
গতকাল (২৭ ডিসেম্বর) বৃহস্পতিবার ঢাকার পুরানা পল্টনের জামান টাওয়ারে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এর আগে ড. কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে নির্বাচনের সর্বশেষ পরিবেশ এবং এ অবস্থায় করণীয় নির্ধারণে বৈঠক করেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির সদস্যরা।
এতে সব প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে যে কোনো মূল্যে ভোটের দিন মাঠে থাকার সিদ্ধান্ত নেন তারা। বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনে এসে ভোটের লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে ড. কামাল হোসেন দেশের মানুষকে ৩০ ডিসেম্বর ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ‘ভোট বিপ্লবে’অংশ নেয়ার আহ্বান জানান।
ড. কামাল হোসেন বলেন, “১৬ ডিসেম্বর আমরা বিজয় অর্জন করেছি। সেইভাবে ৩০ ডিসেম্বর আরেকটি বিজয় অর্জন করব। এ বিজয় জনগণের।”
তিনি আরও বলেন, “স্বাধীন দেশের প্রশাসন, কোনো দলের লোকের হতে পারে না। প্রশাসনকে বলব, জনগণের স্বার্থে কাজ করুন, কোনো দলের স্বার্থে নয়। আমরা সারা জীবন স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে ফাইট করেছি। ৭১ সালে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে ফাইট করেছি। তারা বিজয়ী হতে পারেনি, আমরাই বিজয়ী হয়েছি। ১৬ ডিসেম্বরের পর আবার ৩০ ডিসেম্বর বিজয়ী হব।”
প্রশাসন ও আওয়ামী লীগকে উদ্দেশ করে ড. কামাল হোসেন বলেন, “১৬ কোটি মানুষকে ভয় দেখানো সম্ভব নয়। তাদের মারাও সম্ভব নয়। জনগণ ঐক্যবদ্ধ আছে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট সাড়া পেয়েছে।” তিনি বলেন, “আমাদের উন্নয়নের অনেক বক্তব্য শুনতে হয়। উন্নয়নের বক্তব্যে কোনো আপত্তি নেই। তবে উন্নয়নের সঙ্গে গণতন্ত্র যদি না থাকে, মানবাধিকার যদি না থাকে, তবে তাকে উন্নয়ন বলে না। উন্নয়ন ও গণতন্ত্র বিপরীত না।”
ড. কামাল বলেন, “জনগণ দেশের মালিক হলে সত্যিকার অর্থে দেশের উন্নয়ন হবে। তারা বলছেন, গণতন্ত্র রাখো, আগে উন্নয়ন। এটা পঞ্চাশ বছর আগেকার কথা। মানুষ এসব কথায় কান না দিয়ে দেশের মালিক থাকতে চান “
তিনি বলেন, “তারা মাথা উঁচু করে বলে, আমরা দেশের মালিক। প্রজাতন্ত্রের মালিক জনগণ। এই যে কত বড় অর্জন ছিল, একাত্তরে কত মানুষ জীবন দিয়েছেন। বঙ্গবন্ধু, তাজউদ্দীন জীবন দিয়েছেন। তাদের আমরা স্মরণ করি শ্রদ্ধার সঙ্গে। ১৪ ডিসেম্বর, ১৬ ডিসেম্বর তাদের আমরা শ্রদ্ধা জানাই। আজ আমাদের ঐক্যের ভিত হল, স্বাধীনতার শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা। সংবিধানে শহীদদের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপান্তরিত করার পদ্ধতি এই নির্বাচন।”
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট জগলুল হায়দার আফ্রিক, কেন্দ্রীয় নেতা মোসতাক হোসেন, সাইদুর রহমান সাইদ, রফিকুল ইসলাম পথিক, নাগরিক ঐক্যের কেন্দ্রীয় নেতা শহীদুল্লাহ কায়সার, মমিনুল ইসলাম, ডা. জাহেদ উর রহমান, বিকল্প ধারার একাংশের নেতা অধ্যাপক নুরুল আমিন ব্যাপারী প্রমুখ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “সরকারের এরই মধ্যে নৈতিক পরাজয় হয়েছে। আওয়ামী লীগকে প্রশাসনের সহযোগিতা নিতে হচ্ছে।”পাপের কাছে নতি শিকার না করে ৩০ ডিসেম্বর জনগণকে তাদের মুক্তির জন্য, নিজেদের মালিকানা প্রতিষ্ঠার জন্য এবং গণতন্ত্রের মুক্তির জন্য ধানের শীষে ভোট দেয়ার আহ্বান জানান তিনি। এ সময় গণমাধ্যমকে কারও কাছে নতি শিকার না করে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনেরও আহ্বান জানান মির্জা ফখরুল।
কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকী বলেন, “প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নুরুল হুদা যেসব কার্যকলাপ বা ভূমিকা পালন করছেন, তার জন্য সিইসির তালিকায় নয়, মীর জাফরের তালিকায় তার নাম থাকবে।”
এমবি





