কারাবন্দি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় সংবিধান লঙ্ঘন করে সরকার কারগারে আদালত স্থাপন করছে বলে অভিযোগ করেছে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।  

আজ (০৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে দলটির মহাসচিব এই অভিযোগ করেন।  

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, খালেদা জিয়ার মামলা এতদিন একটি বিশেষ আদালত তৈরি করে ঢাকা আলিয়া মাদরাসা প্রাঙ্গণে চলছিল। এখন সরকার প্রজ্ঞাপন জারি করে কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতরে নিচ্ছে। এটা একটি ক্যামেরা ট্রায়াল। এই ধরনের মামলায় ক্যামেরা ট্রায়ালের সুযোগ নেই। এই পদক্ষেপ সম্পুর্ণ সংবিধান বিরোধী।  

বিএনপি মহাসচিব বলেন, একদলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতেই এটা করা হচ্ছে। অত্যন্ত হীন উদ্দেশে এসব কার্যক্রম করছে সরকার। এই ধরনের কার্যক্রম আসন্ন নির্বাচনকে প্রভাবান্বিত করবে। আমরা এটাকে খুবই গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছি। এটাকে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। এটার প্রেক্ষিতে পরবর্তী কর্মসূচি জানিয়ে দেব।  

এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, সবচেয়ে বড় কথা খালেদা জিয়া একজন প্রবীণ রাজনীতিক। তার অধিকার হরণ করা হচ্ছে। সংবিধান লঙ্ঘন করা হচ্ছে।  

বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, সংবিধান যতবার ও যতগুলো সংশোধন হয়েছে- কোনবারই ৩৫ ধারার সংশোধন করা হয়নি। আজ একটি প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে সেটার পরিবর্তন করছে সরকার।  

পুরোনো কারাগারে বসছে খালেদা জিয়ার মামলার আদালত 

বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে করা জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার বিশেষ আদালত আগামীকাল (০৫ সেপ্টেম্বর) বকশীবাজার আলিয়া মাদ্রাসার পরিবর্তে পুরান ঢাকা পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারে বসবে।  একমাত্র বন্দি হিসেবে বেগম খালেদা জিয়া নাজিমুদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারেই আছেন।

আজ (০৪ সেপ্টেম্বর) দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল গণমাধ্যমকে এই তথ্য জানিয়েছেন। তবে একে ‘আইন পরিপন্থী’বলেছেন খালেদা জিয়ার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া।  

চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় মোট আসামি ৪ জন। খালেদা জিয়া ছাড়া অভিযুক্ত অপর ৩ আসামি হলেন- খালেদা জিয়ার তৎকালীন রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, হারিছ চৌধুরীর তৎকালীন একান্ত সচিব জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান। এই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে সাক্ষ্য দিয়েছেন মোট ৩২ জন।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা গেছে, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগে খালেদা জিয়াসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে ২০১০ সালের ৮ আগস্ট তেজগাঁও থানায় মামলাটি দায়ের করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

২০১২ সালের ১৬ জানুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপ-পরিচালক হারুন-অর-রশীদ সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।

এর আগে গত ৮ ফেব্রুয়ারি দুদকের দায়ের করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়াকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ -এর বিচারক ড. আখতারুজ্জামান।

এই মামলায় খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমানসহ অন্য আসামিদের ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া অর্থদণ্ডও করা হয়। রায়ের পর থেকে একমাত্র বন্দ হিসেবে বেগম খালেদা জিয়া রাজধানীর নাজিমুদ্দিন রোডের পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারে সাজা ভোগ করছেন।   

এমবি