বিগত আন্দোলনের অভিজ্ঞতা থেকে নিষ্ক্রিয় ও সুবিধাবাদীদের বাদ দিয়ে এরইমধ্যে তৃণমূল পর্যায়ে বিএনপির পূণর্গঠন শুরু হয়েছে।

আর এই পূণর্গঠন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকেই দলের নিষ্ক্রিয় ও সুবিধাবাদীরা অনেকটাই দুশ্চিন্তায় পড়ে গেছেন।

দলের একটি সূত্রে জানা গেছে, মাঠপর্যায়ে ত্যাগী ও পরিক্ষীতদের মূল্যায়নে কঠোর অবস্থানে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব। বিশেষ করে বিগত আন্দোলনে যারা জীবনবাজি রেখে রাজপথে সক্রিয় ছিলেন, আগামীতে তারা যেন দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হতে পারেন। তার এমন মনোভাবের কথা আঁচ করতে পেরেই আন্দোলনে গা বাঁচানো নেতারা হতাশ হয়ে পরেছেন।

তবে হতাশ হলেও এসব সুবিধাবাদীরা বসে নেই। তারা চাচ্ছেন যেকোনোভাবে আবারো বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের কমিটিতে পদপদবি দখল করতে।

এদিকে পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় সঙ্গে যুক্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, কেন্দ্রের কঠোর অবস্থানের কারণে নিষ্ক্রিয় ও অযোগ্যদের মধ্যে বাদপড়া আতংক দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে কেন্দ্রীয় যেসব নেতা একাধারে জেলার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন তাদের মধ্যে এ ভীতি বেশি কাজ করছে।

তারা পুনর্গঠনের নানা অসঙ্গতি তুলে ধরার চেষ্টা করছেন। তারা এ প্রক্রিয়া বন্ধ করতেও এক জোট হয়েছেন। তবে যারা দল পুনর্গঠনে এমন বাধার সৃষ্টি করছেন তাদের তালিকাও কেন্দ্রে পাঠানো হচ্ছে বলে শোনা যাচ্ছে।

এদিকে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাফ কথা, তৃণমূল থেকে কেন্দ্রীয় কমিটি পর্যন্ত সব স্তরে ত্যাগী ও তরুণদের মূল্যায়নে কোনো ছাড় দেবেন না তিনি। গুলশান কার্যালয়ের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে এমনটাই জানা গেছে।

এমনকি যারা এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে অন্তরায় হবে, তাদের বিরুদ্ধে নেয়া হতে পারে কঠোর ব্যবস্থা। সূত্রটির আরও দাবী, নিষ্ক্রিয় ও অযোগ্যরা যেন কোনোভাবেই নেতৃত্বে আসতে না পারে সেজন্য দলের চেয়ারপারসন নিজেই সবকিছু মনিটরিং করছেন।

এদিকে দল পুনর্গঠনে তৃণমূলকে সহযোগিতা করতে কেন্দ্রীয়ভাবে গঠিত ২৫ সাংগঠনিক টিমেও পরিবর্তনের চিন্তাভাবনা চলছে। কারণ ইতিমধ্যে তৃণমূল থেকে অনেকের ব্যাপারে আপত্তি তোলা হয়েছে।

নিষ্ক্রিয় কোনো নেতা মনিটরিং টিমে থাকলে তৃণমূলে ভুল বার্তা যেতে পারে। এ কারণেই বাদ পড়তে পারেন কেউ কেউ। এছাড়া বিশ্বস্ত নেতাদের দিয়ে সার্বক্ষণিক মনিটরিং টিম করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন খালেদা জিয়া।

বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে এ টিমের সদস্যরা সারা দেশের পুনর্গঠন মনিটরিং করবেন। তাদের প্রধান কাজ হবে ত্যাগী ও যোগ্যরা কমিটিতে জায়গা পাচ্ছে কিনা সে বিষয়টি দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের জানানো।

নীতিনির্ধারকদের অভিমত, বিএনপিতে ত্যাগীদের মূল্যায়ন হয় না- এ ধরনের অভিযোগ থেকে বেরিয়ে আসার জন্য কঠোর সিদ্ধান্তের বিকল্প নেই। ওয়ান-ইলেভেন থেকে শুরু করে বিগত আন্দোলনে তৃণমূলের নেতাকর্মীরাই জীবনবাজি রেখে দলের পক্ষে কাজ করেছেন।

অতীতে বারবার আশ্বাস দেয়া হলেও বাস্তবে তাদের মূল্যায়ন হয়নি। এবার যে কোনো মূল্যে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করতে চায় দলের হাই কমান্ড। পকেট কমিটি বানানোর কোনো সুযোগ দেয়া হবে না।

এছাড়াও বিগত আন্দোলনে জেলা-উপজেলা পর্যায়ে কারা কাজ করেছেন, সে তালিকা দলীয়প্রধানের কাছে আছে। ত্যাগী নেতাকর্মীদেরও নির্দেশনা দেয়া আছে, কেউ বাদ পড়লে সঙ্গে সঙ্গে কেন্দ্রে জানাতে। বিভিন্ন জেলা থেকেও ত্যাগী নেতাকর্মীদের তালিকা দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের কাছে পাঠানো শুরু হয়েছে।

দল পুনর্গঠনে প্রধান সমন্বয়কারী দলটির যুগ্ম মহাসচিব মোহাম্মদ শাহজাহান টাইমনিউজবিডিকে বলেন, বিগত দিনের আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে শরীক হওয়া এবং দলের আদর্শের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ সেই সব ত্যাগী নেতাদের অগ্রাধিকার দেয়া হবে। এবার নেতৃত্ব নির্বাচনে চমক দেখা যাবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

দলের সহসাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ টাইমনিউজবিডিকে জানান, তৃণমূল পর্যায়ে কাউন্সিল করতে গেলে নানা প্রতিকূলতা সৃষ্টি হতে পারে। ক্ষমতাসীনরা নানাভাবে বাধা দিতে পারে।

সেক্ষেত্রে যদি কেন্দ্রের কোনো সহযোগিতা দরকার হয় তাহলে প্রতিটি বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও সহসাংগঠনিক সম্পাদককে দায়িত্ব পালন করতে বলা হয়েছে।

নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রশ্নে তিনি বলেন, এবিষয়ে দলের হাইকমান্ডের মনোভাব খুবই পরিষ্কার। এবারের নেতৃত্ব নির্বাচনে সাহসী ও দলের জন্য ত্যাগীদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া হবে।

বিশেষকরে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক্ষেত্রে ছাড় দেয়ার কোনো সুযোগ নেই। যোগ্য ও দলের প্রতি পূর্ণ আনুগত্যশীলদের দিয়েই তৃণমূলের নেতৃত্ব গঠিত হবে।

এমএইচ/এসএইচ