জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদকে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত পদ থেকে অব্যাহতি চেয়েছেন তার দলেরই প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশিদ। জাতীয় পার্টি সত্যিকারের বিরোধী দল কি না তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
স্পিকারের উদ্দেশে ফিরোজ রশিদ বলেন, আমরা কি সত্যিকারের বিরোধী দল? মানুষ প্রশ্ন করে আমাদের কাছে। মঙ্গলবার সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এই দাবি জানান। ফিরোজ রশিদ বলেন, আমার দলের চেয়ারম্যান, তিনি আবার মন্ত্রী মর্যাদায় রয়েছেন। এটা থেকে রেহাই চাই। জাতীয় পার্টি একটি বড় দল। আমাদের দলটাকে বাঁচতে দেন। স্পিকারের উদ্দেশ্য প্রশ্ন রেখে তিনি আরও বলেন, একসময় বেশি টকশোতে যেতাম।
এখন কম যাই। মানুষ বলে তোমরা কেমন বিরোধী দল। লাউয়ের আগাও খাবা, গোড়াও খাবা। আমি আপনার কাছে এই প্রশ্নের জবাব চাই। কি করলে আমরা সত্যিকারের বিরোধী দল হব। এসময় বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদ ও দলের চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ অধিবেশন কক্ষে ছিলেন না। তার পাশের আসনে ছিলেন দলের সাবেক মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার।
এমপিদের মধ্যে যাদের ঢাকায় বাড়ি নেই তাদের জন্য প্লট দাবি করে ফিরোজ রশিদ বলেন, আপনি এমপিদের ন্যাম ফ্লাটে থাকতে দিয়েছেন। তারা ছেলে মেয়েদেরকে নিয়ে সেখানে আছেন। ছেলে মেয়েরা অনেকে এখানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়। যখন এমপি থাকবেন না, তখন পরিবার নিয়ে তিনি কি সদরঘাট দিয়ে বাড়ি চলে যাবেন? তিনি বলেন, যারা অতীতে ঢাকা শহরে প্লট নেননি তাদের সবাইকে ঢাকা শহরে একটি করে প্লট দেয়া হোক। উত্তরায় ৫ কাঠার জায়গা দেয়া হোক।
ফিরোজ রশিদ বলেন, প্লট চাইলেই নদীর ওই পারে দেখায়। নদীর ওইপারেই যদি যাবেন, তাহলে আরেকটু যান। পদ্মা পার হয়ে ওপার যান। সবাইকে ৪ থেকে ৫ টা করে প্লট আমি দিবো। কিনে দেয়া লাগবে না। বাবার রেখে যাওয়া জমি থেকে দিলে কমবে না।
রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে মামলা প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, যখন যে ক্ষমতায় আসে আরেক দলের রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে নানা মামলা দেয়া হয়। এমনকি চুরির মামলাও দেয়া হয়। আবার ওই দল আসলে আগের দলের বিরুদ্ধে একই মামলা দেয়। এভাবে রাজনীতিবিদদের চোর বানানো হয়। নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বলেন, আইয়ুব খানের আমলে আন্দোলন করে আমি জেলে গিয়েছিলাম। জেলখানায় আমাদেরকে একটা কার্ড দেয়া হতো। সেখানে লেখা থাকতো, রাজবন্দী। সেই কার্ড দিয়ে আমরা সব সুযোগ সুবিধাই পেতাম। এখন মন্ত্রী জেলে গেলে বলে চোর জেলে গেছে।
এএইচ





