একের পর এক জাতীয় নেতৃবৃন্দকে মিথ্যা অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ার পরও যেভাবে হত্যা করা হচ্ছে, আর ছাত্রলীগের হামলায় যশোরে দুজনকে হত্যা একই সূত্রে গাঁথা এবং এটি রাষ্ট্রের পরিকল্পনারই অংশ। ঢাকা মহানগরী উত্তর আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিবিরের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক ইয়াসিন আরাফাত এসব কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, রাষ্ট্র তার বিরোধী মতের কোনো পক্ষকেই সহ্য করতে পারছে না। সরকার ক্ষমতার মসনদ হারানোর ভয়ে কম্পমান।এজন্য তারা বিরোধী নেতাকর্মী এবং ইসলামী আন্দোলনের দেশপ্রেমিক নেতাকর্মীদের পরিকল্পিতভাবে খুন করে নিঃশেষ করে দিতে চাইছে।

তিনি অবিলম্বে যশোরে বিনা অপরাধে দুই শিবিরকর্মী হত্যাকারী ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

যশোরে দুই শিবিরকর্মীকে হত্যার প্রতিবাদে ছাত্রশিবির দেশব্যাপী বিক্ষোভ মিছিল পালন করছে।রাজধানী ঢাকাসহ জেলা প্রতিনিধিদের পাঠানো মিছিলের খবর,

ঢাকা কলেজ; যশোর এম এম কলেজে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী কর্তৃক মেধাবী ছাত্রনেতা ও শিবির কর্মী মো: হাবিবুল্লাহ হোসাইনকে হত্যার প্রতিবাদ ও অবিলম্বে খুনীদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবীতে বিক্ষোভ মিছিল করে ঢাকা কলেজ শিবির।সকালে রাজধানীর এ্যালিফেন্টরোডে এ মিছিল করে তারা।

মুন্সিগঞ্জ; একই বিষয়ে বিক্ষোভ মিছিল করে ছাত্রশিবির মুন্সিগঞ্জজেলা। বিক্ষেভ মিছিলটি ঢাকা- মুন্সীগঞ্জের প্রধান সড়কের মুক্তারপুরে মুক্তারপুর ব্রিজ থেকে শুর হয়ে পাম্পের কাছে গিয়ে শেষ হয়।

গাজীপুর; ছাত্রলীগ কর্তৃক নৃশংসভাবে দুই শিবির কর্মী হত্যার প্রতিবাদ ও অবিলম্বে খুনিদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করে ছাত্রশিবির গাজীপুর মহানগরী। গাজিপুরের বোর্ডবাজার এলাকায় সকাল ৮ টার দিকে মিছিলটি বের হয়ে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে থাকে ছাত্রশিবিরের নেতা ও কর্মীরা।

মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে শিবির নেতারা বলেন, সরকার একটার পর একটা জামায়াত ও শিবিরের নেতা ও কর্মীকে বিনা কারনে হত্যা করেই যাচ্ছে, যশোরে শিবির নেতা হাবিবুল্লাহকে ছাত্রলীগ যে নির্মমভাবে হত্যা করেছে তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

তারা বলেন, জামায়াত সেক্রেটারি আলী আহসাম মোহাম্মদ মুজাহিদকে অন্যায়ভাবে রাষ্ট্রীয় ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছে তার প্রতিবাদ করায় ছাত্রশিবিরের নেতা ও কর্মীকে হত্যা ও গণ গ্রেফতার করা হচ্ছে।তারা সরকারের কাছে জোর দাবি জানিয়ে অবিলম্বে এ সকল খুনি সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়ার দাবি জানান।

ময়মনসিংহ;শিবিরকর্মী হাবিবুল্লাহ হোসাইন নিহতের প্রতিবাদ ওচিহ্নিত ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের দাবিতে ময়মনসিংহে বিক্ষোভ মিছিল করেছে শহর শিবিরের নেতাকর্মীরা। মিছিলটি শহরের ব্রীজের মোড় থেকে শুরু হয়ে গুরুত্ব পূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে আলীয়া মাদ্রাসা রোড রেল ক্রসিং গিয়ে শেষ হয়।

ঠাকুরগাও; শিবির নেতা হত্যার প্রতিবাদে ঠাকুরগাঁওয়ে জেলা ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল যক্যাডারা ছাত্রাবাস থেকে তুলে নিয়ে নির্মম নৃশংসভাবে হত্যা করে।

প্রতিবাদে হত্যাকান্ডের তীশোর এম এম কলেজের অর্থনীতি বিভাগের মেধাবী ছাত্র মু. হাবিবুল্লাহ

সাইনকে ছাত্রলীগ কর্তৃক হত্যার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে দ্রুত হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তির দাবী জানিয়ে সারাদেশে বিক্ষোভ কর্মসূচী পালন করে।

কুড়িগ্রাম; যশোরের শিবির নেতা হাবিবুল্লাহ হোসাইন ও কামরুল হাসান ছাত্রলীগকর্তৃক হত্যার প্রতিবাদ ও খুনিদের গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে কুড়িগ্রাম জেলা শিবির বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে। মিছিলটি কুড়িগ্রামের পাটেশ্বরী বাজারে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

এছাড়া বরিশাল, বরগুনা, সিলেট, রংপুর, পঞ্চগড়, লক্ষিপুর, যশোর, নোয়াখালি, সাতকানিয়া, চুনতী, সাতক্ষিরা, রামু, পেকুয়ায় মিছিলের খবর পাওয়া গেছে।

শিবিরের পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ২৩শে নভেম্বর দুপুর ২টায় যশোর সরকারি মাইকেল মধুসুধন কলেজের অর্থনীতির ৩য় বর্ষের ছাত্র মো: হাবিবুল্লাহ হোসাইন, কামরুল আহসান, আব্দুল্লাহ আল মামুনকে কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি রওশন ইকবাল শাহীর নেতৃত্বে জিসান, রনি, জুয়েলসহ ১০-১৫জন ছাত্রলীগ মেস থেকে ধরে নিয়ে যায়। পরে কলেজের আসাদ হলে আটকে রেখে তাদের উপর নির্মম নির্যাতন চালানো হয়।

ঘন্টা খানেক পর পুলিশ এসে আহতদের উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে হাবিবুল্লাহ হোসাইনকে মৃত ঘোষনা করে কর্তব্যরত চিকিৎসক।

অন্য দুই জনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভর্তি করা হলে তার মধ্যে কামরুল হাসানের অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকায় আনার পথে রাত ২টায় মারা যায়। ছাত্রলীগের এই নির্মমতায় এলাকা ও ক্যাম্পাসে সাধারণ ছাত্ররা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। আর চিহ্নিত খুনিরা প্রকাশ্যে থাকলেও পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার না করায় এলাকাবাসী বিক্ষুদ্ব হয়ে উঠেছে।

কোন কারণ ছাড়াই মেধাবী ছাত্রদেরকে মেস থেকে তুলে নিয়ে নির্যাতন করে হত্যা করা কোন রাজনৈতিক চর্চা হহতে পারে না।অপরদিকে এই জঘন্য হত্যাকান্ড ধামাচাপা দিতে ইতমধ্যে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছে স্থানীয় সরকার দলীয় নেতা কর্মীরা। প্রকৃত ঘটনাকে আড়াল করতে কিছু মিডিয়া এই পরিকল্পিত হত্যাকান্ডকে গণপিটুনি বলে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছে।

আর শিবির নেতার হত্যার প্রতিবাদ ও অবিলম্বে ছাত্রলীগের সন্ত্রাস বন্ধের দাবীতে সারা দেশে ছাত্রশিবিরের বিক্ষোভ মিছিলের ঘোষণা দেন শিবির।

এমএ