শনিবার দুপুরে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনের সামনে সাংবাদিকদের কাছে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ অভিযোগ করেন।
মওদুদ আহমদ বলেন, ‘প্রধান বিচারপতিকে নিয়ে মিথ্যাচার করে সরকার গোটা বিচার বিভাগকে অপমানিত করেছে। প্রধান বিচারপতি তো একটি প্রতিষ্ঠান। সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে প্রধান বিচারপতিকে নিয়ে মন্তব্য করে সুপ্রিম কোর্টের ভাবমূর্তি সম্পূর্ণভাবে ধুলিষ্যাৎ করেছে।’
তিনি বলেন, ‘প্রধান বিচারপতি বিদেশ যাওয়ার আগে তার বাসভবনের সামনে গতকাল (শুক্রবার) একটা লিখিত বক্তব্য দিয়ে গেছেন। ওই বক্তব্যের মাধ্যমে আজকে দুটি জিনিস প্রমাণিত হলো। তার মধ্যে একটি হলো- ২ অক্টোবর আইনমন্ত্রী যে চিঠি দেখিয়েছেন সে চিঠি প্রধান বিচারপতি লিখেননি এবং তিনি তাতে সইও করেননি। আরেকটা হলো- প্রধান বিচারপতি কখনোই অসুস্থ ছিলেন না।
তিনি সুস্থ ছিলেন, সে কথাই জাতির কাছে বলে গেছেন।’ মওদুদ আহমদ বলেন, ‘গত ২ অক্টোবরের লেখা প্রধান বিচারপতির যে চিঠি দেখানো হয়েছিল, সেটা ছিল একটি ভুয়া চিঠি। আইনমন্ত্রী যে চিঠিটা আপনাদের দেখিয়েছিলেন তাতে ছয়টি বানান ভুল ছিল। তাতে সইটি তার (প্রধান বিচারপতি) ছিল কিনা তা নিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘এর প্রতিক্রিয়া হবে গভীর। এটা কখনো কল্পনাও করা যায় না। সংবিধানের ১০৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আইনি সহায়তা না নিয়ে রিভিউ করার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রী এবং অন্যান্য মন্ত্রীরা যে বক্তব্য দিয়েছেন তাতে এটাই প্রমাণিত হয় যে, বর্তমান সরকার স্বাধীন বিচার বিভাগে বিশ্বাস করে না। সুপ্রিম কোর্টের ভাবমূর্তি, মর্যাদা, সম্মানে তারা বিশ্বাস করে না। সেটাই বিচারপতি সিনহা কালকে যাওয়ার সময় নিশ্চিত করে গেছেন।’
এক প্রশ্নের জবাবে সাবেক এই আইনমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধান বিচারপতি অত্যন্ত সাহসের পরিচয় দিয়েছেন। তিনি অত্যন্ত সুস্পষ্ট করে বলেছেন, আমি স্বেচ্ছায় যাচ্ছি। কালকে উনি অনেক সাহসের পরিচয় দিয়েছেন। ওনার কথাটা জাতির কাছে তুলে ধরেছেন। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা থাকবে কি না সেটা নিয়ে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।’
‘আমরা এখনো মনে করি, তাকে বাধ্য করে এ অবস্থায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তার স্বাস্থ্যগত কারণ যেটা সেটাও সঠিক নয়। বিদেশ যাওয়ার ব্যাপারে তিনি স্পষ্ট করে বুঝিয়ে দিয়ে গেছেন। তিনি কিন্তু এ কথাও বলেছেন, তিনি থাকলে আরও বিব্রতকর অবস্থা সৃষ্টি হবে এ কারণেই তিনি চলে গেছেন। এতে তিনি চমৎকার দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন’ যোগ করেন তিনি।
এএস





