জলবায়ুর ক্ষতির জন্য আমরা ভিক্ষা চাই না, আমাদের যে ক্ষতি করা হয়েছে তার ক্ষতিপূরণ চাই। এ বিষয়ে জনগণকে সাথে নিয়ে সরকারকে আওয়াজ তুলতে হবে বলে জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু।

বুধবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর রুনি মিলনায়তনে ঢাকা আহছানিয়া মিশন, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা প্লান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ ও পরিপ্রেক্ষিত যৌথভাবে আয়োজিত ‘ঢাকায় দূর্যোগ ঝুঁকি: শিশুদের ভাবনা’ শীর্ষক প্রামাণ্যচিত্রের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

ইনু বলেন, জলবায়ূর ক্ষতির শিকার বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল দেশে যা হচ্ছে, তার চেয়ে ১ হাজার গুণ বেশি হচ্ছে ইংল্যান্ড, আমেরিকা, কানাডা, জাপানের মতো উন্নত বিশ্বের দেশসমূহে।

তিনি বলেন, সরকার যেন উন্নত বিশ্বের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করে। ক্ষতিপূরণ না দিলে তুলকালাম কান্ড হবে। জলবায়ূর কারণে যে ক্ষতি হয়েছে তা ক্ষতির টাকা দিয়ে পূরণ করা হবে।

ক্ষতিপূরণের টাকা সরাসরি সরকার ব্যবহার করবে জানিয়ে তিনি বলেন, ক্ষতিপূরণের টাকা সরকার নিজ বুদ্ধিতে খরচ করবে, বিদেশিদের বুদ্ধিতে নয়।

এ টাকা ব্যবহারের অধিকার বাংলাদেশ সরকারের থাকতে হবে। বিদেশিদের অধিকার মানা হবে না। বিদেশিদের এ অধিকার দেওয়া মানে দেশের ওপর বিদেশিদের মালিকানা প্রতিষ্ঠা করা।

শেখ হাসিনা সরকার বিদেশে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে। এ টাকা কিভাবে বিলি বন্টন হবে তার ব্যবস্থাপনা দেশের হাতে থাকবে তা ইতোমধ্যে তুলে ধরেছেন।

তিনি বলেন, রাজনীতিবিদরা অধিকার আদায়ে মিছিল করে। জলবায়ূর ক্ষতি মোকাবেলায় কোন মিছিল হয় না। উন্নত বিশ্বকে ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য করতে দু’ লাখ লোক নিয়ে সবাইকে রাজপথে মিছিল করারও আহ্বান জানান।

বর্তমান সরকার জলবায়ূ পরিবর্তন কর্মসূচিকে দেশীয় আলোচ্য সূচিতে নিয়ে এসেছে। শেখ হাসিনা দেশে ও বিদেশে জলবায়ূ পরিবর্তনকে একটি অগ্রাধিকার ইস্যুর জায়গায় নিয়ে এসেছে।

সরকারের সচেতনতা ও তড়িৎ পদক্ষেপের জন্য জলবায়ূ পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলায় সক্ষমতা অর্জন করেছে। এজন্য বিশ্বে বাংলাদেশ সমাদ্রিত হয়েছে।

বাংলাদেশ জলবায়ূ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এজন্য চাষাবাদ, কল-কারখানা স্থাপন, বনায়ন এমনভাবে করতে হবে যাতে ঝুঁকি মোকাবেলা করা যায়।

জলবায়ূ ও ভূমিকম্প মোকাবেলায় মানুষকে সচেতন করতে বেশি বেশি প্রামাণ্যচিত্র তৈরি করে সাধারণ মানুষকে সচেতন করে তোলার আহ্বান জানান তথ্যমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে প্লান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের আর্থিক সহায়তায় পরিপ্রেক্ষিতের কারিগরি সহায়তায় ঢাকা আহছানিয়া মিশন একদল সুবিধাবঞ্চিত শিশু-কিশোরদের নিয়ে ‘প্রাণ নেই বুড়িগঙ্গা’ ও ‘এই আমাদের শহর’ তৈরি দু’টি প্রমাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

অনুষ্ঠানে ঢাকা আহছানিয়া মিশনের পরিচালক(কর্মসূচি) ড. খাজা সামছুল হুদার সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপক মো. নুরুল হোসেন খান, পরিপ্রেক্ষিতের নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ বোরহান কবীর, সাংবাদিক প্রণব সাহা প্রমূখ।

এমএ/এএইচ