মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেয়ায় দেশের বিভিন্ন স্থানে আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ করেছে আওয়ামী লীগ এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন।
ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে বুধবার দুপুরে রায় ঘোষণার পরপরই মিছিলটি বের করা হয়। শহরের এইসএসএস সড়কের জেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে এটি বের হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে একই স্থানে গিয়ে শেষ হয়।
মিছিলে নেতৃত্ব দেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান। এ আনন্দ মিছিলে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
পাবনা: মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত জামায়াতের আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসির রায়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন পাবনার মুক্তিযোদ্ধা-সংস্কৃতিকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ।
রায়কে স্বাগত জানিয়ে শহরে আনন্দ মিছিল করেছে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা। তবে রায় নিয়ে জেলার জামায়াত-শিবিরকর্মীদের তেমন প্রতিক্রিয়া এখন পর্যন্ত দেখা যায়নি।
পাবনা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি কমান্ডার আব্দুল বাতেন বলেন, ‘দীর্ঘদিন পর হলেও আমরা এ রায়ে খুশি। আমরা চাই দ্রুত তার ফাঁসির রায় কার্যকর হোক।’
পাবনার গণনাট্য মঞ্চের সভাপতি গনেশ দাস বলেন, ‘নিজামীর ফাঁসির রায়ে পাবনার সংস্কৃতিকর্মীরা আনন্দিত। স্বাগত জানাচ্ছি রায়কে। আগামীতেও যেন মানবতাবিরোধী অপরাধে অন্য অভিযুক্তদের রায় সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হয়।’
পাবনার গণশিল্পী সংস্থার সহ-সভাপতি ভাস্কর চৌধুরী বলেন, ‘নিজামীর ফাঁসির রায়ে আমরা খুশি।’রায়ের বিরুদ্ধে আপিল হলে তার শুনানি যেন দ্রুত শেষ করা হয় সে দাবিও জানান তিনি।
রায় নিয়ে জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন বলেন, ‘এ রায়ে কেউ খুশি হতে পারে, অবার কেউ খুশি নাও হতে পারে।’
একুশে বইমেলা উদযাপন পরিষদ পাবনার সম্পাদক জাকির হোসেন বলেন, ‘এ রায় আমাদের প্রত্যাশিত ছিল।’
এদিকে ফাঁসির রায় ঘোষণার পরপরই শহরে আনন্দ মিছিল বের করে জেলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এ ছাড়া মতিউর রহমান নিজামীর নির্বাচনী এলাকা সাঁথিয়ায় আওয়ামী লীগ কার্যালয় থেকে একটি আনন্দ মিছিল বের হয়। এ সময় সাঁথিয়া বাজারে মিষ্টি বিতরণ করে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা। এ ছাড়া রায়ের বিরুদ্ধে সাঁথিয়া বাজারে স্থানীয় শিবিরকর্মীরা ঝটিকা বিক্ষোভ মিছিল করেছে বলে জানা গেছে।
বরিশাল: মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াতে ইমলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসির রায় ঘোষণা হওয়ার পর বরিশালে আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ করা হয়েছে।
সাংস্কৃতিক সংগঠন সমন্বয় পরিষদ এবং নগর আওয়ামী লীগ বুধবার দুপুর সাড়ে বারোটায় মিছিল করে।
নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে অশ্বিনী কুমার হলের সামনে সমাবেশে নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফজালুল করিম বলেন, ‘স্বাধীনতার বিয়াল্লিশ বছর পরে জাতী এই রায়ের মধ্য দিয়ে দায়মুক্ত হলো। এই রায়ে ১৬ কোটি মানুষের পাশাপাশি স্বজন হারানোরা এবং সভ্রম হারানো মায়েরা স্বস্তি পেয়েছেন।’
তিনি এই রাজাকার-আলবদরের ফাঁসির রায় অবিলম্বে কার্যকরের আহ্বান জানান।
এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ আনিচুর রহমান, সাংস্কৃতিক সংগঠন সমন্বয় পরিষদের সভাপতি শান্তি দাস, সেক্টর কমান্ডার ফোরাম বরিশার নগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাজল ঘোষ, নাট্যজন সৈয়দ দুলালসহ অন্যরা।
এর পর রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে একে অপরকে মিষ্টি মুখ করান। নগর পুলিশের উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) মো. গোলাম রউফ খান পিপিএম জানান, এই রায়কে কেন্দ্র করে যাতে করে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়, সেহন্য নগরীতে সাড়ে ৫ শতাধিক পুলিশ, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন রয়েছে।
তিনি আরও জানান, এখন পর্যন্ত (বুধবার দুপুর) কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর নেই এবং কাউকে আটকও করা হয়নি।
জেএ





