নেতা-কর্মীদের হয়রানী না করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ছাত্রশিবির। 

বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠাণো এক যৌথ বিবৃতিতে এ আহ্বান জানান ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি ইয়াছিন আরাফাত ও সেক্রেটারি জেনারেল মোবারক হোসাঈন।

শিবিরের প্রচার সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে গণহারে সারাদেশে শিবির নেতা-কর্মীদের গ্রেফতারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়।

নেতৃবৃন্দ বলেন, ছাত্রদের শিক্ষাজীবন নষ্ট ও স্বাভাবিক জীবন-যাত্রাকে বাধাগ্রস্থ করতে সরকার অগণতান্ত্রিক আচরণ করছে। একের পর এক গ্রেপ্তার করছে নিরাপরাধ নেতাকর্মী ও সাধারণ ছাত্রদের। গতকাল রাজশাহীর বিভিন্ন মেস থেকে ২৯ জন নেতাকর্মী ও সাধারণ ছাত্রকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় ১২ শিবির নেতাকর্মীকে। এর আগে গত ১৯ তারিখ একই ভাবে রাঙ্গামাটি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে শিবির নেতা হারুনুর রশিদসহ ৬ নেতাকর্মীকে। এছাড়া গত ২০ মার্চ কুষ্টিয়ায় শিক্ষা সফর থেকে কোন কারণ ছাড়াই গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৬৫ নেতাকর্মীকে। গ্রেপ্তারের পর তাদের সাথে বিষ্ফোরক জুড়ে দিয়ে নাটক সাজিয়েছে পুলিশ। এভাবে প্রায় প্রতিদিনই অন্যায় ভাবে শিবির নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার ও হয়রানী করা হচ্ছে।

তারা বলেন, ঢাকাতে বিভিন্ন মেস ও বাসাতে অভিযান চালিয়ে সাধারণ ছাত্রদের হয়রানী করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনীর আচরণ যখন সর্বমহলে প্রশ্নবিদ্ধ, ঠিক তখনই নিজেদের অপকর্মকে আড়াল করতে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের গণগ্রেপ্তার ও হয়রানী করছে। পুলিশের এই অন্যায় আচরণ দেশে এক ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। গ্রেপ্তারকৃতরা প্রত্যেকেই বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের ছাত্র। এই গণগ্রেপ্তারের ফলে তাদের শিক্ষাজীবন ব্যাহত হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত ও অগ্রহনযোগ্য। এই রাজনৈতিক নিপীড়ণে দেশবাসী অতিষ্ট হয়ে উঠেছে। আমরা সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এই অন্যায় আচরণের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।

নেতৃবৃন্দ বলেন, শিবির নেতাকর্মী ও সাধারণ ছাত্রদের গণহারে গ্রেপ্তার সম্পূর্ণ অন্যায় ও অযৌক্তিক। সরকারের এই অমানবিক কাজ তাদের ফ্যাসিবাদী আচরণের বহিঃপ্রকাশ ছাড়া কিছু নয়। এসব অগণতান্ত্রিক ও মানবাধিকার লংঘনকারী আচরণ সরকারে জন্য ভাল ফল বয়ে আনবে না। অবিলম্বে গ্রেপ্তারকৃত নিরাপরাধ ছাত্রদের মুক্তি দিন। গণগ্রেপ্তার বন্ধ করুন।

বিজ্ঞপ্তি