বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারী মঞ্জুরুল ইসলাম ভূইয়া বলেছেন, ‘বিশ্বনবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (সা) এর জীবনের অন্যতম একটি মো’জেজা হচ্ছে শবে মেরাজ এর ঘটনা। এই মহিমান্বিত রজনীতে রাসূল (সা) পৃথিবী থেকে সাত আসমান পেরিয়ে আল্লাহ পাকের আরশে উপনীত হন এবং মহান রাব্বুল আলামিনের সাক্ষাত লাভ করেন। এই বরকতপূর্ণ রাতে রাসূল (সা) উম্মতের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে ১৪ দফা দিক নির্দেশনা লাভ করেন। আল্লাহপাকের দেয়া ১৪ দফা উপহার মানবতার মুক্তি ও কল্যাণ নিশ্চিত করবে কিয়ামত পর্যন্ত।’ তিনি মিরাজের শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সকলকে জীবন গঠনের আহবান জানান।
আজ রাজধানীতে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ আয়োজিত পবিত্র শবে মিরাজ উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে আরো উপস্থিত ছিলেন মহানগরী কর্মপরিষদ সদস্য কামাল হোসেন, নূরুদ্দীন মানিক, জামায়াত নেতা আবু জয়নাব,আবদুর রহমান, নূর মোহাম্মদ মন্ডল, আবদুস সাত্তার সুমন, আহসান হাবিব ও গোলাম সরোয়ার প্রমূখ নেতৃবৃন্দ।
মঞ্জুরুল ইসলাম ভূইয়া বলেন, ‘হিজরতের কিছু দিন আগে মেরাজের সুমহান ঘটনাটি ঘটে নবীজীবনে। একটি সৃজিত জাতির জাগতিক ও পারলৌকিক কল্যাণের যাবতীয় কর্মকান্ডের বাস্তব প্রশিক্ষণই ছিল এই মহামিলনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলো রাসূল (সা) কে এই রজনীতেই অবহিত করা হয়। বস্তুত মেরাজই হলো ইসলামি গতিধারার মূল উৎস। তাই মুসলিম জাতিসত্তার জন্য নবীজীবনের মেরাজ এক তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায়।
শবে মেরাজের উদ্দেশ্য সম্পর্কে জনাব মঞ্জুরুল ইসলাম ভূইয়া বলেন, ‘তাওহিদের নির্দেশাবলির বাস্তব ও চাক্ষুষ প্রমাণ দেখিয়ে দেয়ার জন্য এবং এই বিশ্বের নিরঙ্কুশ কর্তৃত্ব যে মহান আল্লাহরই, তা সরাসরি দেখানোই মেরাজের উদ্দেশ্য। আল্লাহর এই আয়াত ও নিদর্শনাবলীকে অস্বীকার বা চ্যালেঞ্জ করার কেউ নেই। অতএব, তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে দ্বীনের বিজয় ঠেকানোর সাধ্যও কারো নেই। এই আস্থা ও বিশ্বাস মজবুত এবং সুদৃঢ় করাই মেরাজের মূল লক্ষ্য। আল্লাহ তা'য়ালার একান্ত সান্নিধ্যে হাজির হওয়া, ঊর্ধ্বলোক সম্পর্কে জ্ঞানলাভ করা, ইহকাল, পরকাল, নভোমন্ডল, বেহেশত, দোযখ সম্পর্কে জ্ঞানলাভ করাও মেরাজের অন্যতম উদ্দেশ্য। সর্বোপরি মদিনার ভাবী ইসলামি রাষ্ট্রের নেতৃত্ব দেয়ার উপযোগী করে গড়ার উদ্দেশ্যেই মহান স্রষ্টা তাঁর প্রিয় হাবীবকে সান্নিধ্যে টেনে নিয়েছিলেন।’
মিরাজের উপহার সম্পর্কে বিশিষ্ট সাহাবি হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বর্ণিত একটি হাদীস উল্লেখ করে জনাব মঞ্জুরুল ইসলাম ভুইয়া বলেন, ‘হাদিসে উল্লেখ আছে যে মিরাজ রজনীতে নবী করিম (সা.) ও তাঁর উম্মতের জন্য কয়েকটি জিনিস প্রদান করা হয়। প্রথমত, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ; যা প্রথমে পঞ্চাশ ওয়াক্ত ছিল। দ্বিতীয়ত, তাঁর উম্মতের যেসব ব্যক্তি আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরিক করবে না, আল্লাহ তাঁর পাপরাশি ক্ষমা করে দেবেন। তৃতীয়ত, সূরা আল-বাকারার শেষাংশ। চতুর্থত, সূরা বনি ইসরাইলের ১৪ দফা নির্দেশনা। যথা ১. একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর ইবাদত করা, তাঁর সঙ্গে কারও শরিক না করা ২. পিতা-মাতার সঙ্গে সদাচরণ করা, ৩. আত্মীয়স্বজন, এতিম ও মুসাফিরের হক মেনে চলা ৪. অপচয় না করা ৫. অভাবগ্রস্থ ও প্রার্থীকে বঞ্চিত না করা ৬. হাত গুটিয়ে না রেখে সব সময় কিছু দান করা ৭. অন্যায়ভাবে কোনো মানুষকে হত্যা না করা। অথচ আমাদের দেশে যেভাবে মানুষ হত্যা ও গুম-খুন চলছে যা সম্পূর্ণ মেরাজের চেতনা বিরোধী ৮. দারিদ্রের ভয়ে সন্তান হত্যা না করা ৯. ব্যভিচারের নিকটবর্তী না হওয়া ১০. এতিমের সম্পদের ধারেকাছে না যাওয়া ১১. যে বিষয়ে জ্ঞান নেই, তা অনুসন্ধান করা ১২. মেপে দেওয়ার সময় সঠিক ওজন পরিমাপ করা ১৩. প্রতিশ্রæতি পালন করা ১৪. পৃথিবীতে দম্ভভরে চলাফেরা না করা। সমাজ সংস্কার এবং একটি কাঙ্খিত সুখি-সমৃদ্ধশালী পৃথিবী গড়তেই রাসূলে পাক (সা) মহান রবের নিকট থেকে এসব বিধি-বিধান নিয়ে এসেছেন। এগুলোর অনুসরনের মধ্যেই ইহকালীন কল্যান ও পরকালীন সফলতা নির্ভর করছে।’
জনাব মঞ্জুরুল ইসলাম ভূইয়া বলেন, ‘বর্তমান সময়ের এই অশান্ত পৃথিবীকে শান্তির বার্তা দিয়ে যায় রাসূলের (সা) শবে মে’রাজ। এই মহিমান্বিত রজনীতে আল্লাহ তা'য়ালা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করে দিয়েছেন। ইসলামী কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য নামাজের ভূমিকা অপরিসীম। কারণ নামাজ মানুষকে যাবতীয় অশ্লীলতা ও অপকর্ম থেকে বিরত রাখে। তাই আমাদের উচিৎ যথাযথ ভাবে হক আদায় করে নামাজ আদায় করা।’
তিনি আরো বলেন, ‘শবে মে’রাজের শিক্ষার আলোকে যদি সমাজ বিনির্মাণ করা হয় তবে বাংলাদেশ থেকে সকল অন্যায়, জুলুম, দূর্ণীতি ও অশান্তি দূর করে দেশকে একটি সুখী, সমৃদ্ধ ও ইসলামী কল্যাণরাষ্ট্রে পরিণত করা সম্ভব হবে ইনশা’আল্লাহ।’





