সরকার দেশকে একটা পুরোপুরি পুলিশি রাষ্ট্রে পরিনত করেছে এমন মন্তব্য করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন,সরকার পুলিশের উপর নির্ভর করে ক্ষমতায় আছে।

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করতে না দেয়ায় প্রতিবাদে শনিবার দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশে মাঠ ব্যবহারের জন্য পি ডব্লিউর নিকট এবং মাইক ব্যবহারের জন্য পুলিশের কাছে অনুমতি চেয়েছিলাম কিন্তু তারা দেয়নি।

তিনি বলেন, আমাদের শান্তিপূর্ন কর্মসূচিতে অনুমতি না দিয়ে সরকারের স্বৈরাচারী আচরন ফুটে উঠেছে। সরকার অবাধে সারাদেশে সভা সমাবেশে করলেও আমাদের কোথায় সভা সমাবেশ মিছিল মিটিং করতে দিচ্ছে না।এমনকি বাসায়ও বৈঠক করতে গেলে তাদের আটক করা হয়। তিনি পুলিশের এহেন অগণতান্ত্রিক আচরণের তীব্র নিন্দা জানান।

সরকার ইতিহাস বিকৃতি করছে এমন অভিযোগ করে বিএনপির এই মূখপাত্র বলেন, সরকারের যেসব নেতারা বলেন ৭ নভেম্বর সৈনিক হত্যা দিবস বলে তারা ইতিহাস বিকৃতি করছে। অথচ এই দিন গণতন্ত্র নতুন করে জন্ম নিয়েছিল। যারা এই দিন কে পালন করে না বা করতে দেন না তারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না। এই দিনকে অস্বীকার করা মানে স্বাধীনতাকে অস্বীকার করা।

মানবাধিকার কমিশন চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমানের বক্তব্য উদ্ধৃতি করে বলেন, তিনি বলেছেন ‘পুলিশের চেইন অব কমান্ড ভেঙ্গে পড়েছে এবং একটি বিশেষ জেলার পুলিশের সদদ্যদের দ্বারা মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে’। এতেই বোঝা যায় দেশ এখন কাদের হাতে। এবং কাদের নির্দেশে চলছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, যারা জিয়াউর রহমানকে পাকিস্তানের চর বলেন তারাই যুদ্ধের সময়ে পাকিস্তানের সাথে হাত মিলিয়ে আঁতাত করে নিরাপদে থেকেছেন। আবার অনেকে ভারতে পলায়ন করেছেন।

তিনি বলেন, ভোটারবিহীন অবৈধ গণতান্ত্রিক সকল সুযোগ-সুবিধাকে সংকুচিত করে এমন পর্যায়ে নিয়ে এসেছে যে তারা শান্তিপূর্ণ সভা-সমাবেশ করতে দিচ্ছে না। সরকার গণতন্ত্রের ন্যূনতম পথও খোলা রাখছে না। তারা স্বৈরতন্ত্র এক দলীয় শাসনের দিকে যাচ্ছে। এর ফলাফল কোন দিন ভাল হয়নি এবারও ভাল হবে না বলে হুশিয়ারী দেন ফখরুল।

তিনি বলেন, সরকারের নির্দেশে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী দ্বৈত আচরণের ভূমিকা পালন করছে। যদিও আওয়ামী লীগের লোকজন প্রতিনিয়ত সভা-সমাবেশ ও রাস্তায় মিছিল করছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মির্জা আব্বাস বলেন, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করার জন্য আমরা সকল প্রকার আইন মেনে আবেদন করেছিলাম। এমনকি গতকাল শুক্রবার রাত এগারটা পর্যন্ত আমরা পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ে অপেক্ষা করেছিলাম। কিন্তু তারা আমাদের সমাবেশের অনুমতির ব্যাপারে কোন কথা বলেনি।
তিনি বলেন, সরকার যদি একের পর এক এভাবে বাধা দিতেই থাকে তাহলে একদিন ধৈর্যের বাঁধ ভেঙ্গে যাবে।

বিএনপির অহিংস আন্দোলনে বাঁধা না দেয়ার আহবান জানিয়ে মির্জা আব্বাস বলেন, আমাদের আন্দোলন অহিংস। তাই এই অহিংস আন্দোলনে বাঁধা দিবেন না। এর পরিনাম ভালো হবে না।

তিনি বিএনপি মহাসচিব ঘোষিত দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচি সর্বাত্মকভাবে সফল করার জন্য দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি আহবান জানান।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আহমদ আযম খান, যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, আমান উল্লাহ আমান, বিএনপির শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক খায়রুল কবির খোকন, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা, যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আব্দুস সালাম আজাদ, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, ঢাকা মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব হাবিব উন খান সোহেল প্রমূখ।
এমএইচ/জেআই