জাতীয় জাদুঘর থেকে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মরণোত্তর স্বাধীনতা পদক সরানোর ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ জানিয়ে কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। এ জন্য আগামী শনিবার সারাদেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করবে দলটি।
সরকারের এই ভূমিকা নিকৃষ্ট দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে মন্তব্য করে আজ দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধে যারা প্রেসিডেন্ট জিয়ার অবদানকে অস্বীকার করে, শুধু আদালতের রায়ের ভিত্তিতে যারা পদক সরিয়ে ফেলে, মাজার সরিয়ে ফেলতে চায়, তারাই মূলত স্বাধীনতা বিরোধী।
কিন্তু ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, এরা কখনোই ইতিহাসে স্থান পায় না। আমরা সরকারের এই হীন ও নিষ্কৃষ্টতম কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা, ধিক্কার ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। অবিলম্বে এই স্বাধীনতা পদক যথাস্থানে স্থাপন করার আহবান জানান মির্জা ফখরুল।
সরকারের এই কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ জানাতে শনিবার সারাদেশে জেলা সদর ও মহানগরে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। আজ শুক্রবার বিকাল তিনটায় ঢাকায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ হবে।
নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন হয়। এসময় দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু, ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, আহমেদ আযম খান, জয়নাল আবেদীন, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ, ছাত্রদল সভাপতি রাজীব আহসান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতা পদক বাতিল করায় সরকারের কঠোর সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, গত বুধবার জাদুঘর থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক ও রণাঙ্গনের বীর সেনাপতি জনগণের প্রিয় নেতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের স্বাধীনতা পদক সরিয়ে ফেলার কার্যকলাপ রাজনৈতিক প্রতিহিংসা প্রসুত।
আমরা এ বিষয়ে মন্ত্রীসভা কমিটিতে গৃহীত সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ এবং এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন থেকে বিরত থাকার আহবান জানিয়ে ছিলাম। কিন্তু সরকার কর্ণপাত না করে আজ তা বাস্তবায়ন করেছে। এই সিদ্ধান্তে শুধু জিয়াউর রহমানকে হেয় করা হচ্ছে না, বরং স্বাধীনতা সংগ্রামে যারা অসামান্য ভ’মিকা রেখেছেন, তাদের সকলের জন্য চরম অবমননাকর। সরকার এহেন সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রমাণ করলো যে, সত্যিকারের মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক ছিলো না।
তিনি বলেন, আমরা মনে করি, সরকারের এই সিদ্ধান্ত শুধু সঙ্কীর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নয়, এটা প্রতিহিংসা পরায়ন, গণবিচ্ছিন্ন ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ। এরফলে স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে পদকপ্রাপ্ত বরণ্যে ব্যক্তিবর্গকে অবমননানা করা হচ্ছে।
জিয়ার স্বাধীনতার পদক কেড়ে নেয়ার সিদ্ধান্তকে দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নিষ্কৃষ্টতম দৃষ্টান্ত অভিহিত করে মির্জা ফখরুল বলেন, এটা খারাপ নজির বহন করবে সবসময়। আমরা মনে করি এহেন গণবিরোধী ও বাংলাদেশের অস্তিত্ব বিরোধী সিদ্ধান্ত দেশকে আরো বিভক্ত করবে এবং দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরো সঙ্কটময় ও জটিল করে তুলবে।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, জিয়ার অবদানকে জনগণের হৃদয় থেকে মুছে ফেলা যাবে না। জিয়া ও বাংলাদেশ অবিচ্ছেদ্য। শহীদ জিয়া একটি নাম-একটি কিংবদন্তী, একটি স্বপ্ন। পঞ্চম সংশোধনী বাতিলের বিষয়ে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হকের দেয়া রায়ের অপব্যাখ্যা দিয়ে সরকারের নানা সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ আজীবন ক্ষমতায় থাকার জন্য স্বৈরাচারী একনায়কতান্ত্রিক সরকারগুলোর মতোই অবৈধভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার করে চলেছে।
যদি পঞ্চম সংশোধনী অবৈধ হয়, তাহলে পঞ্চদশ সংশোধনীর পূর্বে সকল সরকারের সকল কার্যকলাপ কী অবৈধ হয় না? পঞ্চম সংশোধনী বলেই ১৯৮২ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী বিচারপতি আবদুস সাত্তারের বিপক্ষে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী ছিলেন বর্তমানে গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, বর্তমানে সংসদে হুসেইন মো. এরশাদ বিরোধী দলের সদস্য। অন্যদিকে সংসদে জাতীয় পার্টির তিনজন সদস্য সরকারের মন্ত্রী। এটা কিভাবে বৈধ হয়? আপনারা জানেন, বিচারপতি খায়রুল হকের সেই রায়ে পর্যবেক্ষণ ছিলো- হুসেইন মো. এরশাদের ক্ষমতাগ্রহণও অবৈধ।
মির্জা ফখরুল বলেন, আওয়ামী লীগের অনৈতিক সরকার শুধু ইতিহাস বিকৃত করছে না, তারা নিজেদের স্বার্থে দেশের সকল স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করে স্বেচ্ছাচারিতার চরম নজির স্থাপন করে ভিন্ন রঙের একদলীয় শাসন চাপিয়ে দিচ্ছে জনগণের ওপরে।
বহুমত, বহু পথ ও মুক্ত চিন্তাকে কবর দিয়ে ফ্যাসিবাদী একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করছে। দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, জাতীয় ঐক্যসৃষ্টি, অর্থনীতিকে সচল করা, বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ইমেজ ফিরিয়ে আনাসহ বাংলাদেশকে অর্থনির্ভরশীল করতে জিয়াউর রহমানের অবদানের কথাও তুলে ধরেন মির্জা ফখরুল।
এমবি





