আওয়ামীলীগ গণতন্ত্রে বিশ্বাসী নয় বলেই সংবিধানের তোয়াক্কা করছে না। জনগণের কথা বলার অধিকার, রাজনৈতিক দলের সভা-সমাবেশের অধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিয়েছে বর্তমান সরকার। সংবিধানের কোন অংশই মানছেনা তারা। আওয়ামীলীগ গণতন্ত্রে বিশ্বাসী নয় বলেই সংবিধানের তোয়াক্কা করছে না বলে মন্তব্য করেছেন কল্যাণ পার্টি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহম্মদ ইবরাহিম বীরপ্রতীক।

তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা হচ্ছেঐক্যবদ্ধ জাতি। কিন্তু আজ জাতিকে বিভক্ত করা হচ্ছে এই চেতনার নামে। আমরা বিভক্ত জাতি নয়, ঐক্যবদ্ধ জাতি চাই। কারণ একটি কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত করতে হলে সমগ্র জাতিকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

আজ (বৃহস্পতিবার) দুপুর সাড়ে ১১ টায় বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহম্মদ ইবরাহিম বীর প্রতীকের বাসভবনে ২০ দলীয় জোটের নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সৈয়দ মুহম্মদ ইবরাহিম বলেন, বর্তমান বিনা ভোটে ক্ষমতা দখলদার সরকার জনগণের ভোটাধিকার হরণ করে আবার তাদের সভা সমাবেশে ভোট চাচ্ছে। এটি জাতির সাথে তামাশা ছাড়া আর কিছুই নয়। সরকার শুধু ভোটধিকার নয় কেড়ে নিয়েছে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা। হরণ করেছে আইনের শাসন ও সামাজিক ন্যায় বিচার।

লুটপাটের মাধ্যমে ধ্বংস করেছে দেশের অর্থনীতি। বাংলাদেশ ব্যাংক লুট হলো, ব্যাংকিং ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে গেল। অথচ দুদক এক্ষেত্রে মামলা করা তো দূরে থাক এদের বিরুদ্ধে একটা শব্দও মুখ থেকে বের হয়নি।

তিনি বলেন, সারাদেশে চলছে দুর্নীতি, দু:শাসন ও সন্ত্রাস। এ দুর্নীতি ও দু:শাসন থেকে মুক্ত পেতে সকল জাতীয়তাবাদী শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলনের শপথ নিতে হবে।আন্দোলনের মাধ্যমে গণবিরোধী ফ্যাসিষ্ট সরকারের কারাগার থেকে গণতন্ত্র রক্ষার মা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে।

সৈয়দ মুহম্মদ ইবরাহিম বলেন, বাংলাদেশের মানুষ স্বভাবজাতভাবে গণতন্ত্রপ্রিয়। এ দেশের মানুষ স্বৈরশাসন কখনোই মেনে নেয়নি। ভবিষ্যতেও মেনে নেবে না। দেশবাসী গণতন্ত্রের জন্য জেগে উঠেছে। সে দিন আর বেশি দূরে নয়, অচিরেই সকল অপশাসনের অবসান হবে, গণতন্ত্রের বিজয় নিশান উড়বে।

তিনি আরওবলেন, শাসকগোষ্টির ব্যর্থতা আর সুশাসনের অভাবে স্বাধীনতার স্বপ্ন আজও বাস্তবায়িত হয় নাই। এর জন্য আজকের শাসকগোষ্টি যেমন দায়ি, তেমনি অতীতের শাসকগোষ্টিও এর দায় এড়াতে পারে না।

সভাপতির বক্তব্যে বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ ইলিয়াস বলেন, যে আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রের জন্য অতীতে সংগ্রাম করেছে, আজ সেই আওয়ামী লীগই ৫ জানুয়ারি ভোটার ও ভোটবিহীন নির্বাচন করে গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে। স্বাধীনতা আর মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নেগণতান্ত্রিক রাজনীতির কোন বিকল্প নাই।

বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ ইলিয়াসের সভাপতিত্বে ও এনপিপির চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি আনোয়ার সাদেকের পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন বিএনপিচট্টগ্রাম মহানগর জয়েন্ট সেক্রেটারী এস এম জাহাঙ্গির, জাতীয় গণতান্ত্রিকপার্টি (জাগপা)’র কেন্দ্রীয়’সহ সভাপতি ও চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি আবু মোজাফফর মো. আনাছ, বাংলাদেশ ন্যাপের চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি ওসমান গণিসিকদার, বাংলাদেশ লেবার পার্টির কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ও চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি আলাউদ্দিন আলী, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের চট্টগ্রামের সমন্বয়কারী মাওলানা এম এ কাশেম ইসলামাবাদী, মুসলিম লীগ’র ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কাজী নাজমুল হাসান সেলিম, কল্যাণ পার্টির চট্টগ্রাম মহানগর সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নুরুল আলম, উত্তর জেলা সভাপতি দিদারুল আলম সুমন, বাংলাদেশ ন্যাপেরসহ-সভাপতি মোহাম্মদ মোজাফ্ফর, বিজেপির চট্টগ্রাম মহানগর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ফিরোজ কবীর লিটন, জাতীয় পার্টিার চট্টগ্রাম মহানগর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এডভোকেট এ এইচ এম জাহিদ, ইসলামী ঐক্যজোটর সদস্যসচিব আনোয়ার হোসেন রব্বানী, যুবদলের নুরুল কবীর, বাংলাদেশ ন্যাপের সাধারণ সম্পাদক ডা. আবদুশ শুক্কুর, জাগপার চট্টগ্রাম মহানগর সাধারণ সম্পাদক মো. হেলাল, লেবার পার্টির চট্টগ্রাম মহানগর সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান, ভাসানী অনুসারী পরিষদের মো. জামাল উদ্দিন, কল্যাণ পার্টির যুগ্ম-সাধারণসম্পাদক মো. মহিউদ্দিন, বাংলাদেশ ন্যাপের চট্টগ্রাম মহানগর সাংগঠনিক সম্পাদক কমল বড়–য়া বিজয়, ইসলামী ঐক্যজোট নেতা হাফেজ মাওলানা মাহমুদুল হাসান, কল্যাণ পার্টির চট্টগ্রাম মহানগর যুগ্ম সম্পাদক মোহাম্মদ মহিউদ্দিন, কল্যাণ পার্টির হালিশহর থানার সভাপতি ইরফানুল হায়দার, বিএনপি নেতা আবুল কাসেম, এলডিপি নেতা নুরুল আসগর চৌধুরী, কল্যাণ পার্টির মহানগর জয়েন্ট সেক্রেটারী মো. ইলিয়াছ সিকদার, জাগপা সদস্য মো. রাসেল, ছাত্র কল্যাণ পার্টির চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি নজমুল হুদা প্রমুখ। 

মাসুম/এমবি