প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার ছুটির দরখাস্তের সই জাল মন্তব্য করে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, যারা স্কুল-কলেজে পড়ে, তারাও এত কাঁচা কাজ করে না।
আজ (শনিবার) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় দুদু এই মন্তব্য করেন।
‘বিচার বিভাগের পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতা ও আজকের প্রেক্ষাপট’ শীর্ষক ওই আলোচনা সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ ইসলামিক পার্টি। এতে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘প্রধান বিচারপতির ঘটনাই প্রমাণ করে আপনার অধীনে কেমন নির্বাচন হতে পারে আর নির্বাচনে জয়লাভ করলেও বিরোধী দল যে ক্ষমতা পাবে বোকা ছাড়া কেউ বিশ্বাস করবে না।
প্রধান বিচারপতি আপনার পছন্দের লোক, সেই জন্যই তো আপনি তাঁকে মনোনীত করেছিলেন। সেই প্রধান বিচারপতি যখন ষোড়শ সংশোধনীতে সঠিক এবং সত্য রায় দিয়েছেন, এটা আপনি মানতে পারলেন না। এখান থেকে আপনার ক্ষোভ তৈরি হলো। তাঁকে ছুটি নিতে বাধ্য করা হলো। তাঁর ছুটির দরখাস্ত যে তিনি লেখেন নাই, সই জাল করা হয়েছে এটা নিয়ে এখন আর কোনো বিতর্ক নেই। যারা স্কুল-কলেজে পড়ে তারাও তো এত কাঁচা কাজ করে না।’
‘আপনি(প্রধানমন্ত্রী) যে কাজটা করেছেন প্রধান বিচারপতির ছুটি দেওয়া নিয়ে, এটি বোকামি। মাফ চান জাতির কাছে। ক্ষমা চান এতে আপনারা ছোট হবেন না, কিন্তু গণতন্ত্র রক্ষা পাবে।’ '
প্রধান বিচারপতির ছুটির বিষয়ে মন্তব্য দুদু বলেন, ‘প্রধান বিচারপতি ঢাকেশ্বরী মন্দিরে গিয়েছিলেন অপ্রত্যাশিতভাবে। দেশের মধ্যে বর্তমানে যা হচ্ছে এগুলো কোনো স্বাধীন গণতান্ত্রিক দেশে প্রত্যাশা করা যায় না বলে মন্তব্য করেন দুদু।
তিনি বলেন, ‘সর্বশেষ যে প্রসঙ্গটি সামনে এসেছে, সেটি হচ্ছে প্রধান বিচারপতিকে নিয়ে হঠাৎ করেই আমরা জানতে পারি তাকে ছুটি দেওয়া হয়েছে। কখনো আইনমন্ত্রী বলেছেন, তিনি নিজে নিজেই ছুটি নিয়েছেন। দেশের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল।
তিনি বলছেন প্রধান বিচারপতি কেন ছুটি নিয়েছেন, এটা তিনি জানেন না। বারের নির্বাচিত নেতারা প্রথমদিকে তাঁর (প্রধান বিচারপতি) সাথে দেখা করতে পারেননি। পুলিশ তাদেরকে বাধা দিয়েছে।'
আয়োজক সংগঠনের চেয়ারম্যান আবু তাহের চৌধুরীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন সাবেক কাউন্সিলর লায়ন এম এ রশিদ শাহ সম্রাট, ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক আবদুস ছাত্তার পাটোয়ারী, গণসংস্কৃতি দলের সভাপতি এস-আল মামুন, দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি কে এম রকিবুল ইসলাম রিপন প্রমুখ।
এএস





