দিনের পর সপ্তাহ, এর পর মাস ছাড়িয়ে অবরোধের ৩৩ তম দিন। এই ৩৩ দিনের প্রতিদিনই পেট্রল বোমা হামলায় বা আগুনে পুড়ে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। আর সরকারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে কথিত 'বন্দুকযুদ্ধে' নিহত হচ্ছেন বিএনপি জামায়াত কর্মীরা।
মানবাধিকার সংগঠন অধিকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী জানুয়ারি মাসে রাজনৈতিক সহিংসতায় অর্ধ্বশতাধিক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন প্রায় দুই হাজার। ককটেল ও পেট্রোল বোমা হামলায় আগুনে দগ্ধ হয়ে মারা গেছেন অন্তত ৩০ জন। আহত হয়েছে প্রায় তিনশ'। বন্দুকযুদ্ধের নামে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন ২০ জন।
যদিও ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতেই পেট্র্রোলবোমা হামলায় আর ৯ জন মারা গেছেন। আর কথিত বন্দুকযুদ্ধে মারা গেছেন জামায়াত শিবিরের ৩ নেতাকর্মী।
এছাড়া অনেককে ধরে নিয়ে পায়ে গুলি করে পঙ্গু করে দেওয়া হচ্ছে বলেও সংগঠনটির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। সংগঠনটি বলছে, জানুয়ারি মাসে ১৪ জন গুম হয়েছেন। যাদের দুইজনের লাশ পাওয়া গেছে। গণপিটুনির নামে ১২জনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ১৮ জনকে বন্দুকযুদ্ধের নামে বিচার বহির্ভূত হত্যা করা হয়েছে। এই দু'টি মানবাধিকার সংগঠনই দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
এদিকে, প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি, র্যাব, পুলিশ ও বিজিবি প্রধান থেকে শুরু করে প্রশাসনিক সব পর্যায়ের দায়িত্বশীলরা বার বার কঠোর থেকে আরো কঠোর হওয়ার ঘোষণা দেয়ার পরও অবরোধ প্রত্যাহার করেনি ২০ দলীয় জোট। সমানে দেয়া হচ্ছে হরতাল কর্মসূচী।
ঘরে বাইরে বা রাস্তায় যেখানেই পাওয়া যাচ্ছে বিএনপি-জামায়াত কর্মীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। কথিত 'বন্দুকযুদ্ধে' নিহত হচ্ছেন দুই দলের নেতাকর্মীরা।
কিন্তু প্রশাসনিক এমন কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া সত্ত্বেও সহিংসতা ও মানুষের প্রাণহানি অব্যাহত থাকায় সরকারের নেতা মন্ত্রীদের মধ্যে অস্বস্তি ও উদ্বেগ রয়েছে। তাদের মতে, দীর্ঘদিন দেশ এ রকম অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে থাকতে পারে না।
একটি জাতীয় দৈনিকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ সংকট নিরসনে সরকারের কর্মকৌশলের বিষয়ে মন্ত্রী ও দলীয় নেতাদের বেশির ভাগই অনেকটা অন্ধকারে। সবকিছু প্রধানমন্ত্রী দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন।
ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর তিনজন নেতার মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া ছাড়া উপায় নেই। কিন্তু এক মাসেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়ায় কেবল শক্তি প্রয়োগের ওপর ভরসা করা যায় না। অন্য কী বিকল্প পদক্ষেপ নেওয়া যায়, তা নিয়েও ভাবতে হবে।
দলের সভাপতিমণ্ডলীর দুজন সদস্যের মতে, সংকট নিরসনে প্রশাসনিক শক্তি প্রয়োগের পাশাপাশি রাজনৈতিক পদক্ষেপও বিবেচনায় নিতে হবে। কিন্তু দলের বড় পদে থাকলেও কোথায় কী হচ্ছে, সে সম্পর্ক তারা কিছু জানেন না।
এক মাসের পর্যালোচনায় দেখা যায়, কয়েকজন মন্ত্রী ও নেতা কেবল গণমাধ্যমে বক্তৃতা দিয়েছেন। তাদের মধ্যে অন্যতম স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী, খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ ও প্রচার সম্পাদক হাছান মাহমুদসহ অনেকে নানা বক্তব্য দিলেও সংকট মোকাবিলায় স্পষ্ট কোনো তথ্য না থাকায় তারা কিছু বেফাস কথাও বলেছেন। তাদের কথায় দলের নেতা-কর্মীর পাশাপাশি জনমনেও বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে।
জেএ





