গত ২০১৩ সালের ৫ই জানুয়ারী অবৈধ নির্বাচনের মাধ্যমে অবৈধভাবে ক্ষমতায় আসা অবৈধ সরকারের পদত্যাগ এবং নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবীতে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে বাংলাদেশী অধ্যুষিত লাকেম্বার রিমেম্বারেন্স হলে ২০ দলীয় জোট, অস্ট্রেলিয়ার পক্ষ থেকে সম্প্রতি এক বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

সমাবেশ থেকে ৫ই জানুয়ারীকে যে গণতন্ত্র হত্যা দিবস হিসেবে ঘোষনা দেওয়া হয়েছে তার সাথে একাত্বতা প্রকাশ করা হয়।

বক্তারা বলেন, এই অবৈধ সরকারকে এক বছর সময় দেওয়ার পরেও চুড়ান্ত কর্মসূচী ঘোষণার আগ পর্যন্ত সরকারকে ৭ দফা দাবীর মাধ্যমে আলোচনায় বসার জন্য আহবান জানানো হয়েছে।

কিন্তু বাকশালি সরকার কোন ধরনের আলোচনায় না বসে বিরোশী দলকে আন্দোলনে নামতে বাধ্য করেছে। তাই এই অবরোধের সময় যত অঘটন ঘটবে তার সকল দায় সরকারকেই বহন করতে হবে।

পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবিসহ আওয়ামী সন্ত্রাসীদের গণতন্ত্রকামী জনগণের উপরে দমন, পীড়ন ও দেখা মাত্র গুলি করার ঘটনার পরেও সাধারণ মানুষ যেভাবে স্বতঃস্ফূর্তভাবে গত এক সপ্তাহ ধরে এই অবরোধ সফল করে চলেছে তাতে প্রমান হয় এই সরকারের আর কোন জনভিত্তি নেই।

বক্তাগণ আরো বলেন, আওয়ামীলীগ দীর্ঘদিন ধরে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে মিথ্যাচার করে আসছে, কিন্তু প্রকৃত মুক্তিযুদ্ধে তাদের ভূমিকা যৎসামান্যই এবং তারা আজীবন মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করে এসেছে।

তারা বলেন, মুক্তিযুদ্ধ প্রথম শুরু করে পুলিশ, ইপিআর ও সেনাবাহিনীর বাঙ্গালী সদস্যরা, যারা মেজর জিয়ার স্বাধীনতার ঘোষনায় সাড়া দিয়ে মুক্তি সংগ্রামে ঝাপিয়ে পরেছিল। মুক্তিবাহিনী গঠন হয় তার অনেক পরে। আর আজকের আওয়ামী নেতারা তখন পালিয়ে কলকাতা যেয়ে হোটেলে মজ-মাস্তিতে ব্যস্ত ছিল।

উপস্থিত নেতৃবৃন্দ ও প্রবাসী বাংলাদেশীরা বাংলাদেশকে একটি গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে দেখতে চান বলে অভিমত ব্যক্ত করেন।

এজন্য নিরপেক্ষ যেকোন সরকারের মাধ্যমে নির্বাচন দিয়ে দেশের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার দাবী জানান। এজন্য বিশ দলীয় জোটের দাবীর সাথে সকল বাংলাদেশীকে একাত্ব হওয়ার জন্য উদাত্ত আহবান জানানো হয়।

প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে ৫ই জানুয়ারীকে গণতন্ত্র হত্যা দিবস এবং গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার জন্য শেখ হাছিনা সরকারের পতনের একদফা একদাবী নিয়ে আন্দোলনরত বিশদলীয় জোটের অবরোধকে সমর্থন জানানো হয় এবং এই আন্দোলনের জন্য যেকোন সাহায্য সহযোগীতার অঙ্গীকার করা হয়।

বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে খালেদা জিয়ারকে অবরুদ্ধ রাখার তীব্র নিন্দা জানানো হয় এবং অবিলম্বে তাঁকে মুক্তি দেওয়ার দাবী জানানো হয়।

এছাড়া বিএনপির দূর্দিনের কান্ডারী, চেয়ারপারসনের উপদেস্টা শামসুজ্জামান দুদু, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দৈনিক আমারদেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান ও একুশে টিভির চেয়ারম্যান আবদুস সালাম সহ সকল রাজবন্দীদের মুক্তি দাবী করা হয়। 

প্রতিবাদ সমাবেশ বক্তব্য রাখেন ২০ দলীয় জোটের সমন্নয়ক কেয়ার বাংলাদেশ প্রেসিডেন্ট ইঞ্জিঃ সাইফুল্লাহ খালিদ, জাতীয়তাবাদী আঈনজীবী ফোরামের প্রেসিডেন্ট ব্যারিস্টার নাসিরুল্লাহ, জাতীয়তাবাদী দল অস্ট্রেলিয়ার ডঃ আব্দুল ওহাব, দেলোয়ার হোসেন, জনাব নাফিস আহমেদ এবং ভয়েস অফ বাংলাদেশের পরিচালক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব ডঃ নার্গিস বানু।

কেয়ার বাংলাদেশ, অস্ট্রেলিয়ার ওলি আহমেদ, ওলামা ফাউন্ডেশনের আহবায়ক মাওলানা ফেরদৌস, বাংলাদেশ কমিউনিটির নেতা ডঃ রাশেদ রশিদ, লিয়াকত আলী স্বপন, একেএম ফজলুল শফিক, মোছলেহ আরিফ, রুহুল আহমেদ, আবুল হাসান।

সমাপনী বক্তব্য দেন আইসিপিসির প্রেসিডেন্ট জাফর আহমেদ।

এছাড়াও অন্যান্ন নেতাকর্মীর মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি অস্ট্রেলিয়ার জনাব আশরাফুল ইসলাম, হাফিজুর রহমান, আফরোজা কলি, জয় আহমেদ সুলতান, পলাশ আহমেদ, মোঃ রাকিবুল আলম মিয়া অপু, মোঃ মশিউর রহমান তুহিন, ইসতিয়াক আহমেদ আদনান, মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, মোঃ আলিম, মোঃ হাসেম আলি, আরিফুল ইসলাম আকাশ, মোঃ শহিদুল ইসলাম, শরিফুল ইসলাম, মোঃ শিশির, মোঃ আসাদ, মোঃ ফারুক, মোঃ রফিক, সেলিম লিয়াকত, জকি ও অন্যান্ন।

সভার সঞ্চালকের ভূমিকায় ছিলেন সাবেক ছাত্রনেতা ও বাংলাদেশ কমিউনিটির সাবেক প্রেসিডেন্ট অস্ট্রেলিয়া বিএনপি নেতা জনাব রাশেদুল হক, ফারুক আহমেদ, মতিন ও মানিক।

এসএইচ